অষ্টেলিয়ার সাথে তীরে এসে তরী ডুবাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

অষ্টেলিয়ার সাথে তীরে এসে তরী ডুবাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

একটা সময় মনে হচ্ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচটা জিতে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৮৯ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু স্টার্কের গতির ঝড়ে পড়ে তীরে এসে তরী ডুবে গেলো উইন্ডিজের। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে যায় মাত্র ১৫ রানে। আসলে পাঁচ উইকেট নেওয়া স্টার্কের গতিই উইন্ডিজের আশা থামিয়ে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের বড় স্কোর গড়ার কারিগর ৬০ বলে ৯২ রান করা কোল্টার নাইল ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৮৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইন্ডিজ ওপেনার এভিন লুইস ফিরে যান। ম্যাচের তৃতীয় ওভারের মাথায় মিচেল স্টার্কের পর পর দুই বলে দুইবার আম্পায়ার  আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ক্রিস গেইল। কিন্তু সেই স্টার্কের গতির ফাঁদে পড়েই দলীয় ৩১ রানের মাথায় এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান গেইল। এবার আর রিভিউ নিয়েও কাজ হয়নি।

এরপর শাই হোপ আশা জাগাতে থাকে উইন্ডিজ শিবিরে। নিকোলাস পুরানকে নিয়ে হোপ ৬৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। দলীয় ৯৯ রানের মাথায় ৪০ রান করা পুরান অ্যাডাম জামপার বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। এরপর আবার শিমরন হেটমায়ারকে সাথে নিয়ে হোপ ৫০রানের পার্টনারশিপ গড়লে আশার প্রদীপ আরো উজ্জ্বলতর হতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু দলীয় ১৪৯ রানের মাথায় সিঙ্গেল  রান নিতে যেয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে রান আউটের শিকার হন হেটমায়ার।

এবার অধিনায়ক হোল্ডারকে সাথে নিয়ে আবার লড়াই চালাতে থাকেন হোপ। হোল্ডার ও হোপের ব্যাটিংয়ে জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলো ক্যারিবীয়রা। দলীয় ১৯০ রানের মাথায় প্যাট কামিন্সের বলে কাঁটা পড়েন হোপ। কিন্তু হোপের বিদায় সেই জুটিতে বাঁধ সাধলেও জয়ের আশা তখনও ফুরিয়ে যায়নি উইন্ডিজের।

গেইলের মতো  দুইবার আম্পায়ারারের দেয়া আউট থেকে রিভিউ নিয়ে প্রাণ ফিরে জয়ের বন্দরে দলকে ভালো ভাবেই নিয়ে যাচ্ছিলেন হোল্ডার। আর তার সঙ্গে দুর্দান্তভাবে চার-ছক্কায় মাঠ কাঁপাচ্ছিল আন্দ্রে রাসেল। কিন্তু সেই আশাও বেশিক্ষণ আর টিকলো না।

কারণ পরের গল্পটা যে হতে যাচ্ছে শুধুই স্টার্কময়। স্টার্কের গতিতে কাঁপতে থাকে উইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন আপ। ১১ বলে ১৫ রান করা রাসেল স্টার্কের বলেই ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান। টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে চমক দেখানো কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকেও ফেরান স্টার্ক। দলের একমাত্র  আশা ভরসা তখন কিছুক্ষণ আগে রিভিউ নিয়ে প্রাণ ফিরে পাওয়া অধিনায়ক হোল্ডারই। কিন্তু স্টার্কের গতির ঝড়ে বেসামাল হয়ে দলীয় ২৫২ রানের মাথায় ফিরে যান হোল্ডারও। ফিরে যাওয়ার আগে ৫৭ বল থেকে ৫১ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন হোল্ডার। এরপর নিজের শেষ ওভারে শেলডন কটরেলের স্ট্যাম্পও ভেঙ্গেছেন স্টার্ক।

শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য ৩১ রান প্রয়োজন ছিলো। কোল্টার নাইলের ওভার থেকে অ্যাশলি নার্স শেষ চার বলে চারটি চার মারলেও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে যায় ১৫ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক ৪৬ রানে পাঁচ উইকেট লাভ করেন। এছাড়া প্যাট কামিন্স দুইটি ও অ্যাডাম জামপা একটি উইকেট পান।

এর আগে উইন্ডিজের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। মাত্র  ২.২ ওভারের মাথায় প্রথম ধাক্কা খায় অজিরা। থমাসের বলে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ মাত্র ৬ রান করে হাঁটা ধরেন প্যাভিলিয়নের দিকে। দলীয় ২৬ রানের মাথায় আঘাত হানেন এবার কটরেল। ডেভিড ওয়ার্নার ক্যাচ তুলে দেন ব্যাক ওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো হেটমায়ারের হাতে। এর পরে রাসেলের বলে ফিরে গেলেন উসমান খাজা। দলীয় ৩৮ রানের মাথায় ব্যক্তিগত শূণ্য রানের মাথায় কটরেলের বলেই ফিরে গেলেন ম্যাক্সওয়েল।

মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া তখন ১০০ পেরোতে পারবে কিনা সেই শঙ্কায় পড়ে। কিন্তু মাঠে তখনও যে আছেন স্টিভেন স্মিথ। সব দায়িত্ব তখন নিজের কাঁধে তুলে নেন স্মিথ। মার্কোস স্টইনিসকে নিয়ে বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু দলীয় ৭৯ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে অজিদের। হোল্ডারের বলে নিকোলাস পুরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে যান ১৯ রান করা স্টইনিস।

অস্ট্রেলিয়াকে এর পর বড় রানের পথ দেখান অ্যালেক্স ক্যারি। স্টিভেন স্মিথকে সাথে নিয়ে গড়েন ৬৮ রানের পার্টনারশিপ।দলীয় ১৪৭ রানের মাথায় ক্যারিও বিদায় নেন।

এরপরের গল্পটা নাথান কোল্টার নাইলের।স্মিথকে সাথে নিয়ে গড়েন ১০২ রানের পার্টনারশিপ। দলকে নিয়ে যান বড় সংগ্রহের দিকে। ১০৩ বলে ৭৩ রান করা স্মিথ ৪৪.২ ওভারের মাথায় আউট হয়ে ফিরে যান। থমাসের বলে স্মিথের ফ্লিকটা ছয়ের পথেই যাচ্ছিলো, কিন্তু কটরেল অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ ধরে স্মিথকে সাজঘরে পাঠান।  তার আগে স্মিথ ৭৭ বল থেকে তার অর্ধশতক তুলে নেন।

স্মিথ ফিরে গেলেও তার দেওয়া ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই হাত খুলে ব্যাটিং করেন নাইল।৪১ বলে ৫০ ছোঁয়া নাইল শেষ পর্যন্ত দলীয় ২৮৪ রানের মাথায় থামেন। জেসন হোল্ডারের হাতে ক্যাচ হয়ে ফিরে যাওয়ার আগে নাইল খেলেন ৬০ বলে ৯২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। নাইলের ইনিংসে ছিলো ৮টি চার ও ৪টি ছয়ের মার। ম্যাচের ৪৯তম ওভারের শেষ বলে ব্র্যাথওয়েটের শিকার হয়ে স্টার্ক ফিরে গেলে ২৮৮ রানেই শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

উইন্ডিজের হয়ে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট তিন উইকেট নেন। এছাড়া ওশানে থমাস, শেলডন কটরেল ও আন্দ্রে রাসেল দুইটি করে উইকেট নেন এবং জেসন হোল্ডার একটি উইকেট লাভ করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ডঃ

অস্ট্রেলিয়াঃ ২৮৮/১০, ৫০ ওভার (কোল্টার নাইল- ৯২, স্টিভেন স্মিথ- ৭৩, অ্যালেক্স ক্যারি-৪৫;    ব্র্যাথওয়েট- ৬৭/৩, রাসেল- ৪১/২)

ওয়েস্ট ইন্ডিজঃ ২৭৩/৯, ৫০ ওভার (হোপ- ৬৮, হোল্ডার-৫১, পুরান-৫০;    মিচেল স্টার্ক- ৪৬/৫, প্যাট কামিন্স- ৪১/২)

ফলাফলঃ অস্ট্রেলিয়া ১৫ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্যা ম্যাচঃ নাথান কোল্টার নাইল

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *