অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ২২৩ রানেই অলআউট করে দিল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৪৯ ওভারেই অলআউট অ্যারন ফিঞ্চের দল।

ক্রিস ওকস ও জফরা আর্চারের গতির মুখে পড়ে ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই অবস্থা থেকে দলকে খেলায় ফেরান অ্যালেক্স কেরি ও স্টিভ স্মিথ। তার ৮৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে শেষ পর্যন্ত ২২৩ রান তুলতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া।

বিশ্বকাপের গত ১১ আসরের মধ্যে পাঁচবার শিরোপা জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। এবারের আসরের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে এসেছে অ্যারন ফিঞ্চের দল।

কিন্তু সবশেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে (৩২৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০ রানের পরাজয়) হেরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ থেকে দুইয়ে নেমে যাওয়া দলটি আজ সেমিফাইনালেও প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেনি।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপজয়ী অসি দলটিকে ২২৩ রানে অলআউট করে ২৭ বছর পর আরও একটি ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখেছে ইংল্যান্ড। সবশেষ ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রায় তিন দশক পর চতুর্থবারের মতো ফাইনালে খেলার অপেক্ষায় ইংলিশরা।

বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমেই ক্রিস ওকস এবং জফরা আর্চারের গতির মুখে পড়ে যায় অসি ব্যাটসম্যানরা।

জিতলে ফাইনালে, হারলে বিদায়। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে স্কোর বোর্ডে ১৪ রান জমা করতেই সাজঘরে ফেরেন অসি তিন সেরা ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব।

দলের এমন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে উইকেটে নেমেই জফরা আর্চারের বাউন্সারের শিকার হন অ্যালেক্স কেরি। ৭.৬ ওভারে দলীয় ১৪/৩ এবং ব্যক্তিগত ৪ রানে জফরা আর্চারের বাউন্সার সরাসরি অ্যালেক্স কেরির হেলমেটে আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে তার থুতনি ফেটে রক্ত পড়া শুরু হয়। সাময়িম শ্রুশ্রষা নিয়ে অনবদ্য ব্যাটিং চালিয়ে যান কেরি।

চতুর্থ উইকেটে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়েন কেরি। অনবদ্য ব্যাটিং করে ফিফটির পথেই ছিলেন তিনি। আদিল রশিদের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন। তার আগে ৭০ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৪৬ রান করেন কেরি।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন স্মিথ। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ অধিনায়ক। সেঞ্চুরির পথে থাকা স্মিথ ইনিংস শেষ হওয়ার ১৭ বল আগে দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে ফেরেন।

অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরার আগে ১১৯ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৮৫ রান করেন স্মিথ। তার বিদায়ের পর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে মিচেল স্টার্ক ও জেসন বিহানড্রপের উইকেট হারিয়ে ৪৯ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।

২২৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে রীতিমতো অজি বোলারদের শাষন করতে থাকেন দুই ইংলিশ ওপেনার ব্যারিস্টও এবং জেসন রয়। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংএ চালকের আসনে থাকে ইংলিশরা ।

তবে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেন নাই এই দুই ওপেনার। দলীয় ১২৪ রানের মাথায় ব্যারিস্টও এবং ১৪৭ রানের মাথায় বিদায় নেন জেসন রয়। আউট হওয়ার আগে রয় খেলেন ৬৫ বলে ৮৫ রানের এক বিদ্ধ্বংসী ইনিংস এবং ব্যারিস্টও করেন ৪৩ বলে ৩৪ রান।

মূলত এই দুই ব্যাটসম্যান ইংল্যান্ডের জয়ের পথ সহজ করে দিয়ে যায়। যার ফলে কোনো চাপে পড়তে হয় নাই ইংল্যান্ডের।

বাকিটা রুট এবং মরগানের হাত ধরেই শেষ হয়। রুট ৪৯ রান নিয়ে এবং মরগান ৪৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড করে ৩২.১ ওভারে ২ উইকেটে ২২৬ রান। যার ফলে যার ফলে অজিরা হারে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। অজিদের পক্ষ্যে স্ট্রাক এবং কাম্মিনস নেন ১ উইকেট করে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *