ইসলামপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানায় বিরোধ

ইসলামপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানায় বিরোধ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানায় বিরোধপূর্ণ ইসলামপুরের ভুমিতে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটাবাসী অন্যায়ভাবে তিনটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণসহ ইসলামপুরবাসীর বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঠ জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানাগেছে, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া, যোকনাই ও প্রজাপতি মৌজা এবং গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার হলদে ইউনিয়নের চেঙ্গালিয়া, গারামারা ও দিঘলকান্দি মৌজা সমূহ পাশাপাশি অবস্থিত। যমুনা নদী ভাঙ্গনের ফলে আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে ইসলামপুর উপজেলার চেঙ্গানিয়া, যোকনাই ও প্রজাপতি মৌজা এবং সাঘাটা উপজেলার চেঙ্গালিয়া, গারামারা ও দিঘলকান্দি মৌজা সমূহের সীমানা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে যমুনার বুকে চর জেগে উঠলে সাঘাটা উপজেলার হলদে ইউনিয়নবাসী ওই মৌজা সমূহের সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করে ইসলামপুরের চেঙ্গানিয়া, যোকনাই ও প্রজাপতি মৌজা সমূহের প্রায় ১০ হাজার একর জমির বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ জবর দখল করে নেয়। তখন থেকেই জামালপুর ও গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিয়ে সেখানে শুরু হয় দুই জেলার সীমান্তবর্তী কৃষকদের দ্বন্দ্ব কলহ সংঘর্ষ। এরই জেরধরে ওই এলাকার আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিস্পত্তির জন্য ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মো: তইবর রহমান নামের এক কৃষক জামালপুর ও গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসকসহ সংম্লিষ্ট সকল দপ্তরে কয়েকদফা লিখিত অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। অবশেষে কৃষক মো. তইবর রহমান জামালপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিস্পত্তির জন্য মহামান্য হাইকোর্টে ৫৬৮৯/২০০২ এবং ৯১৩১ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন। ওই রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে গত ১১/০১/২০১২ তারিখে মহামান্য হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারক কৃষক তইবর রহমানের আরজির পক্ষে রায় প্রদান করে জামালপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিস্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এরপর থেকে ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার জামালপুুরসহ জামালপুর ও গাইবান্ধা জেলার সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে জামালপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিস্পত্তির সঠিক জরিপ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযোগে আরো জানাগেছে, জামালপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিস্পত্তির আগেই মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষা করে আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধপুর্ণ ইসলামপুর উপজেলার ভুমিতে সাঘাটা উপজেলার হলদে ইউনিয়নবাসী অন্যায়ভাবে তিনটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চেঙ্গানিয়া, যোকনাই ও প্রজাপতি মৌজার কৃষকদের সাথে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার চেঙ্গালিয়া, গারামারা ও দিঘলকান্দি মৌজার কৃষকদের ফের দ্বন্দ্ব কলহ শুরু হয়েছে। যেকোন মূহুর্তে দুুপক্ষের মাঝে বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় জামালপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখার দাবীতে কৃষক মো. তইবর রহমান ঢাকার নীলক্ষেত, বাবুপুরায় অবস্থিত গুচ্ছগ্রাম সিভিআর প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এবং গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করছেন। অথচ সেখানে আজও গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্ম্দ মিজানুর রহমান জানান, জামালপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিস্পত্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেখানে সাঘাটা উপজেলা প্রশাসন থেকে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের ব্যাপারে অভিযোগ পেলে খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাইবান্ধার জেলার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জামালপুর-গাইবান্ধা আন্ত:জেলা সীমানার বিরোধপূর্ণ এলাকায় কোন গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করার বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে গুচ্ছগ্রাম র্নির্মাণের ব্যাপারে যেসকল অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলোর অধিকাংশই ভুয়া অভিযোগ।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *