উন্নয়নের নামে গ্রামীণফোনের প্রতারণা, ভোগান্তিতে গ্রাহক

ডেস্কঃ কারিগরি উন্নয়নের কথা বলে দায় এড়িয়ে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ কয়েক লাখ গ্রাহককে ভোগান্তিতে ফেলেছেন। সোমবার রাত থেকে গ্রামীণফোনের কয়েক লাখ পোস্টপেইড গ্রাহক তাদের ফোনের আউট গোয়িং সুবিধা নিতে বঞ্চিত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন পোস্টপেইড গ্রাহক নতুন সময়.কম অফিসে ফোন করে অভিযোগ করেন, প্রথমে বিল বকেয়ার কারণে গ্রামীণফোনের আউট গোয়িং কল করার সুবিধা বন্ধ ছিল। কিন্তু সোমবার রাতে নির্ধারিত বিল-এর থেকে বেশি পরিমাণ টাকা ফ্ল্যাক্সিলোড করেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা আউট গোয়িং কল করার সুবিধা পাচ্ছেন না।

শেখ ফরিদ উদ্দিন নামে এক পোস্টপেইড গ্রাহক বলেন, আমার ব্যবহৃত গ্রামীণফোন কোম্পানির পোস্টপেইড নম্বরের বিপরীতে তিন হাজার টাকার বিল সোমবার বিকেলে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হয়। পরে বিকেলেই তিন হাজার ৫০০ টাকা ফ্ল্যাক্সিলোড করি। টাকা পরিশোধের বিষয়টি একটি ফিরতি এসএমএস-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয় গ্রামীনফোন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সোমবার থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার মোবাইলের আউট গোয়িং কল করার সুবিধা চালু করা হয়নি। এ কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যও আমি কাউকে ফোন করতে পারেনি।এতে আমি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

শুধু শেখ ফরিদই নয়, তার মতো আরো অনেক গ্রামীণফোন ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন বিল পরিশোধের পরও তাদের আউট গোয়িং সুবিধা চালু হয়নি।

একই অভিযোগ শাহরিয়া শারমিন নামের এক সরকারি কর্মকর্তার, আউট গোয়িং সুবিধা বন্ধ থাকায় সারাদিন দুর্ভোগে কাটিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সেরা নেটওয়ার্ক দাবি করা গ্রামীণফোনের এমন অব্যবস্থাপনা কোনো ভাবে মেনে নেওয়া যায় না।
শারমিন অভিযোগ করে বলেন, গ্রাহক সেবার মান না বাড়িয়ে শুধু চকটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে প্রতারণা করছে গ্রামীণফোন।

কোনো প্রকার নোটিস ছাড়াই গ্রাহকদের সঙ্গে এমন প্রতারণা ও হয়রানি করার জন্য ভোক্তা অধিকার অধিদফতর ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান গ্রামীণফোনের এই গ্রাহক।
ভুক্তভোগী শারমিন বলেন, গ্রামীণফোন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আর কলড্রপের টাকা ফেরতের কথা দাবি করলেও বাস্তব অবস্থা একেবারে ভিন্ন। রাজধানী ঢাকারই বেশ কিছু এলাকায় ২/৩মিনিট কথা বলার পর হঠাৎ করে কল কেটে যায়। তখন ফোনের ডিসপ্লেতে নেটওয়ার্ক ইরোর দেখানো হয়। এভাবে কলড্রপের মাধ্যমে কেটে নেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের টাকা। আর সেই টাকা দিয়েই চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারনণা করছে নরওয়ের টেলিনরের গ্রামীণফোন।

ভুক্তভোগী আরো কয়েকজন গ্রামীণফোনের গ্রাহক জানান, কোনো সমস্যায় কোম্পানিটির কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে মনগড়া তথ্য দিয়ে কাস্টমার প্রতিনিধিরা তাদের সীমাবন্ধতার কথা জানিয়ে ভদ্র ভাষায় ‘সরি’ বলে দায় এড়িয়ে যান। এটা প্রতিনিয়তই করেন তারা।
গ্রাহকদের এসব অভিযোগ নিয়ে গ্রামীণফোনের জনসংযোগ শাখায় যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করা হলে এক নারীকর্মী বলেন, কারিগরি উন্নয়নের কাজ চলার কারণে বিকেল ৩টার পর থেকে পোস্টপেইড গ্রাহকদের আউট গোয়িং সুবিধা চালু হবে।

কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও চালু হয়নি কোনো পোস্টপেইড ফোনের আউট গোয়িং কল করার সুবিধা।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *