উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগ মনোনীত ৪৬ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৭ জন চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুন্দরগঞ্জে ১১ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

নিউজ ডেস্কঃ উপজেলা পরিষদের ভোটে প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগ মনোনীত ৪৬ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৭ জন চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
আওয়ামী লীগের হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় জাহাঙ্গীর আলম, তানোরে লুৎফর হায়দার রশিদ, বাগমারায় অনীল কুমার সরকার, দুর্গাপুরে মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, পুঠিয়ায় এম হীরা বাচ্চু, চারঘাটে ফকরুল ইসলাম, মোহনপুরে আবদুস সালাম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) ও বাঘায় লায়েব উদ্দিন লাবলু (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত),
পঞ্চগড় সদরে আমিরুল ইসলাম, তেঁতুলিয়ায় কাজী মাহামুদুর রহমান ডাবলু, আটোয়ারীতে মো. তৌহিদুল ইসলাম ও বোদায় অধ্যাপক ফারুক আলম টবি (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত),
নীলফামারীর ডোমারে তোফায়েল আহমেদ, ডিমলায় মো. তবিবুল ইসলাম ও সৈয়দপুরে মোকসেদুল মোমিন, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মাহবুবুজ্জামান আহমেদ ও পাটগ্রামে রুহুল আমীন বাবুল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
জামালপুরের ইসলামপুরে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামাল আব্দুন নাছের বাবুল। এর আগে সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আবুল হোসেন, মেলান্দহে ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান, মাদারগঞ্জে ওবায়দুর রহমান বেলাল ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় গিয়াসউদ্দিন পাঠান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
নেত্রকোনা সদরে অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খান, খালিয়াজুরীতে গোলাম কিবরিয়া জব্বার, মদনে মো. হাবিবুর রহমান, কলমাকান্দায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক তালুকদার, মোহনগঞ্জে মো. শহীদ ইকবাল (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) ও কেন্দুয়ায় মো. নূরুল ইসলাম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়),
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের খায়রুল হুদা চপল, তাহিরপুরে করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, দোয়ারাবাজারে আবদুর রহিম ও ছাতকে মো. ফজলুর রহমান,
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আবুল কাশেম চৌধুরী, আজমিরীগঞ্জে মর্তুজা হাসান, চুনারুঘাটে আবদুল কাদির লস্কর ও লাখাইয়ে মুশফিউল আলম আজাদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জের সদরে রিয়াজ উদ্দিন ও কাজিপুরে খলিলুর রহমান সিরাজী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
জয়পুরহাট সদরে এস এম সোলায়মান আলী, পাঁচবিবিতে মনিরুল শহীদ মন্ডল, কালাইয়ে মিজানুর রহমান মিলন ও ক্ষেতলালে মোস্তাকিম মন্ডল, নাটোর সদর উপজেলায় শলিফুল ইসলাম রমজান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত), লালপুরে ইসাহাক আলী, সিংড়ায় শফিকুল ইসলাম ও বড়াইগ্রামে ডা. সিদ্দিকুর রহমান,

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন হবিগঞ্জ সদরে মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, নবীগঞ্জে ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম ও বাহুবলে সৈয়দ খলিলুর রহমান, সুনামগঞ্জের ধরমপাশায় মোজাম্মেল হোসেন রুকন, বিশ্বম্ভরপুরে মো. সফর উদ্দিন ও দিরাইয়ে মঞ্জুর আলম চৌধুরী, লালমনিরহাট সদরে কামরুজ্জামান সুজন, জামালপুরের বকশীগঞ্জে আব্দুর রউফ তালুকদার ও দেওয়ানগঞ্জে সোলাইমান হোসেন সোলাই, নেত্রকোনার বারহাট্টায় মাইনুল হক কাসেম ও দুর্গাপুরে জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদার, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে শাহ মো. আবুল কালাম বারি পাইলট, নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অহিদুল ইসলাম গকুল ও গুরুদাসপুরে আনোয়ার হোসেন এবং জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে আব্দুস সালাম আকন্দ।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে জয়ী

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরে সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহান ও সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় মো. ফারুক আহমদ।

বড় ধরনের কোনো অঘটন ছাড়াই রোববার শেষ হয় উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ পর্ব। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সারা দেশে ১২ জেলার ৭৮ উপজেলায় ভোট গ্রহণ হয়। ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানসহ নানা অভিযোগে ১৬টি উপজেলার ২৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় তিনটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হওয়ায় এই উপজেলায় ফল ঘোষণা করা হয়নি।

৯ উপজেলায় ভোট হয়নি

প্রথম ধাপের ৮৭টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন হয় ৭৮টি উপজেলায়। নির্বাচন কমিশন ও আদালত কর্তৃক ছয়টি উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী, নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা ও সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। রাজশাহী জেলার পবা উপজেলা, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নির্বাচন আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ এবং নাটোর জেলার সদর উপজেলায় সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় এই তিন উপজেলায় নির্বাচন হয়নি। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় নীলফামারীর সদর ও জলঢাকা উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়নি।

বিএনপি ও তাদের জোট, বামপন্থী দলগুলোসহ অনেক রাজনৈতিক দলই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এর ফলস্বরূপ, প্রথম ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২৮ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাতজন রয়েছেন। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতা।

নির্বাচন উপলক্ষে রোববার সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এবারই প্রথম উপজেলা পরিষদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও ভোট হয় ৭৮টি উপজেলায়। আদালতের আদেশে তিনটি ও নির্বাচন কমিশন তিনটি উপজেলার ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে। এ ছাড়া তিনটি উপজেলার সব পদে একক প্রার্থী থাকায় সেখানে ভোটের প্রয়োজন পড়েনি।

এসব উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র পাঁচ হাজার ৮৪৭টি। চেয়ারম্যান পদে ২০৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৮৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *