একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মফছার আলীর অকাল মৃত্যু নিয়ে পারিবারিক ফরিয়াদ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার দাবিদার মফছার আলী (৭৭) স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়েও গেলেও তার নাম গেজেটভুক্ত না হওয়া, স্বীকৃতির অভার, সরকারি সাহায্য সহানুভুতি না পাওয়া, ভিটে মাটি হারিয়ে ভিক্ষুকে পরিনত হওয়া, অনাহার অধাহারে জীবন যাপন, মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া ও বিনা চিকিৎসায় অবশেষে গত ৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল অনুমান ৮ ঘটিকায় অকাল মৃত্যুর শিকার হওয়ার তথ্য পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। সূত্রের মতে প্রকাশ পায়, গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধার বসবাস ছিন একটি গোয়াল ঘরে। স্ট্রোকে আক্রান্ত এই মানুষটির মরদেহ স্থানীয় পরিত্যাক্ত জমিতে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে মাত্র। সরকারি গোরস্থানে ঠাঁই হয়নি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাও রাষ্ট্রীয় মর্যদায় দাফনের উদ্যোগ নেয়নি। এর অন্তরালে ছিল মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম নেই। এমন অবহেলাও অবজ্ঞা প্রদর্শন অত্যন্ত নজিরবিহীন হলেও অকাল মৃত্যুর শিকার মুক্তিযোদ্ধা মফছার আলীর একাধিক আবেদনের সর্বশেষ একটি আবেদনের ভিত্তিতে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রহিমা খাতুনের আদেশক্রমে একই উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মানিক চন্দ্র রায় প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আবেদনকারী মফছার আলী নিজেকে সঠিক মুক্তিযোদ্ধা দাবী করেন। এমন দাবীর সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি যাচাই-বাছাই করে দেশরক্ষা বিভাগের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক মহম্মদ আতাউল গনী ওসমানী স্বাক্ষরিত সনদপত্র (যার নং-১৬৫৫৩১) পাওয়া, নিজ নামে গেজেট, সাময়িক সনদপত্র, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সনদপত্র, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির “গ” তালিকা জামুকায় প্রেরণ, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনসহ কতিপয় লোকজনের স্বীকারোক্তিতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের তথ্যাদি লিপিবদ্ধ হয় (যার স্মারক নং ৪১.০১.৩২৮২.০০০.১৬.০০০.১২-২৭৩ তারিখ ০৫/১২/২০১৮ ও সূত্র নং ৯৫৩ তারিখ ১১/১১/২০১৮ইং)। উক্ত স্মারক/সূত্রে বর্ণিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রহিমা খাতুন মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পৃথক প্রতিবেদন প্রেরণ করেন (যার স্মারক নং ৫.৫৫.৩২৮২.০০১.০০০.১৮.১৮-৮৯৬ তারিখ ১৭/১২/২০১৮ইং)। অত্র প্রতিবেদন প্রেরনের ১৭ দিন পরেই মফছার আলী মারা যায়। এ দিকে অন্যান্য আবেদন পর্যেোলাচনায় জানা যায়, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মফছার আলী সাদুল্লাপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামের নায়েব উল্ল্যার পুত্র। তিনি ১৯৪৫ সালের ১৭ আগস্ট তারিখে জন্ম গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। এ সময় তিনি কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৩০৩ রাইফেল চালানো ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহন করেন। পরে তিনি কুড়িগ্রাম, চিলমারী ও নাগেশ্বরী থানা এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহনের কথা উল্লেখ করেন। তার অধিনায়ক ছিলেন ১১ সেক্টোর উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান এবং সেকশন/কোম্পানী/প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন যথাক্রমে হাবিলদার কাত্তছার, আবুল কাশেম ও আব্দুল মান্নান। মুক্তিযুদ্ধ শেষে তিনি গাইবান্ধা ৩০৩ রাইফেল মেলিশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র জমা করেন। কিন্তু স্বাধীনতার পরর্তীতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার স্থলে অমুক্তিযোদ্ধার অনুপ্রবেশ ঘটে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই ও তালিকা প্রনয়নে বাণিজ্য, অমুক্তিরযাদ্ধার দাপট, দলীয় প্রভাব, অন্যায় সুবিধা অর্জন, স্বজনপ্রীতি, প্রতিহিংসার কাছে পরাজিত হন গাইবান্ধার মছফার আলী মতো অনেক সঠিক মুক্তিযোদ্ধার নাম। যাচাই-বাছাই তালিকা থেকে বাদ পড়া অনেক মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এরা এখনো উপেক্ষা ও বঞ্চনার শিকার। মফছার আলীর তদন্ত প্রতিবেদন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত হলেও তার অবর্তমানে তদবিরের অভাবে যাতে ধামা চাপা না পড়ে সেই অনুভুতি নিয়ে অসহায় পরিবারের সদস্যরা বর্তমান সরকার প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষন করে একটি খোলা চিঠি প্রেরনের কথা স্বীকার করেন বড় কন্যা মোছাঃ জাহানারা বেগম।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *