কাউন চাষ বিলুপ্তির পথে

কাউন চাষ বিলুপ্তির পথে

সত্যেন্দ্র নাথ রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ ঘুরে , আধুনিক উচ্চ ফলন শীল ধান সহ বহু মাত্রিক ফসল চাষের প্রতিযোগীতায় টিকতে না পেরে সুস্বাদু ও পুষ্টি সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য অতি প্রাচীন কাউন চাষ আজ বিলুপ্তির পথে। তবে পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ(প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্র) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরজমিনে গিয়ে অফিসে না পেয়ে সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে জানান , আলু ফসল ওঠানোর পর সম্পুর্ন বিনা খরচে কাউন চাষ করা যায়, এবারে দেবিগঞ্জ কৃষি ফার্মে একশ ২০ একর জমিতে চাষ করা হচ্ছে। এগুলো ছিটিয়ে ফেলতে হয়, তাছাড়া সাথী ফসল হিসাবে জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় মাসে এ ফসল উঠতো প্রতি(৩৩ শতাংশে) একশ ২০ কেজি,ফলন হয়, কাউন গরিব মানুষের খাদ্য বলে পরিচিত। খরা সহিষ্ণু ও রোগবালাই মুক্ত ৩৫ বছর আগে ঠাকুরগাঁও সহ উত্তরাঞ্চল জেলাগুলোতে ব্যাপক আবাদ হতো, কিটনাশক, সার,সেচ, নিরানী কোন কিছুই প্রয়োজন হয়না। সময়ের পরিবর্তনে কৃষি ব্যবস্থা প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে উচ্চ ফলন শীল ও লাভজনক ফসল চাষে ঝুঁকে পড়েছে কৃষক ,যে কারনে কাউন চাষে আগ্রহ নেই চাষিদের। কৃষি, প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় কাউন চাষ ছেড়ে দিয়েছে, কাউনের বদলে ভূট্টা, বোরো ধান,সবজি,চাষ করছে কৃষক। দেবীগঞ্জ(প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্র) এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) অমল কুমার দাস সাক্ষাতে তার অফিস কক্ষে বলেন, কাউন চাষে জমির উর্রবরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়, আরো জানান কাউনের চালের ভাত ,পায়েস,পিঠা ও নাড়–, অনেক সুস্বাদু। বাজারে প্রতি কেজি কাউন চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ হতে ১শ টাকা দরে। ভোজন বিলাসী যারাই এই চাল কিনছেন ও তারাই , পায়েস, পিঠা ও নাড়– তৈরির জন্য।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *