গাইবান্ধার লক্ষীপুরে পল্লী বিদ্যুতের মিটার বাণিজ্যের অভিযোগ

গাইবান্ধার লক্ষীপুরে পল্লী বিদ্যুতের মিটার বাণিজ্যের অভিযোগ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ স্থাপনে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ওই গ্রামের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এ অভিযোগ করেন। অভিযোগ উঠেছে গোবিন্দপুর গ্রামের সাজাইপাড়ার মৃত. জলিল মিস্ত্রীর ছেলে এন্তাজ মিয়া ও ভিলেজ ইলেক্ট্রেশিয়ান নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গোবিন্দপুর গ্রামে গেলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তাদের অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। ভুক্তভোগী গ্রাহক ফজলুর রহমান বলেন, এন্তাজ মিয়া পল্লী বিদ্যুতের মিটার দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া ঘর ওয়্যারিং ও রিপোর্ট করা বাবদ আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা নেন। সব মিলিয়ে তিনি মোট ৪ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
একই এলাকার মাছুদ মিয়া অভিযোগ করেন, ৩ মাস আগে মিটার দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার ঘর ওয়্যারিং করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, তার কাছে আরও টাকা চেয়েছেন এন্তাজ আলী ও ভিলেজ ইলেক্ট্রেশিয়ান। টাকা না দিলে ঘর ওয়্যারিং হবেনা।
বালাআটা মধ্যপাড়া গ্রামের গ্রাহক জয়নাল আবেদীন বলেন, দ্রুত মিটার দেওয়ার কথা বলে ২ হাজার ৬০০ টাকা নিয়েছেন এন্তাজ মিয়া। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সংযোগ দেওয়া হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে সংযোগ না পেয়ে ফুসে উঠেছে এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক সংযোগ পাওয়ার আশায় এন্তাজ মিয়া ও নাজমুলকে বার বার চাপ দেয়া সত্ত্বেও তারা কোন কর্ণপাত করছেন না বলে জানান তারা।
একই গ্রামের গ্রাহক শাহজামাল মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের কথা বলে তার কাছ থেকেও ২ হাজার টাকা নিয়েছে এন্তাজ মিয়া ও নাজমুল হুদা। এছাড়াও রাজু মিয়া, সাজু মিয়া, শামসুল হক, সাকোয়াত হোসেন, তরিকুল ইসলাম, মান্নান মিয়া, জুয়েল মিয়া, কুদ্দুস মিয়া, তাহের মিয়া, জহুরুল মিয়া, ইউনুস আলী, ফারুক মিয়া, ফরিদ হোসেন, মমিন মিয়ার কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ করে টাকা নিয়েছেন বলে তারা প্রতিবেদককে অভিযোগ করেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত এন্তাজ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ভিলেজ ইলেক্ট্রেশিয়ানসহ সবাই টাকার ভাগ পেয়েছেন’।
মিটার প্রদানে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে এন্তাজ মিয়া বলেন, ‘অনেকেই টাকা পরিশোধ করেননি। তাই মিটার দিতে দেরি হচ্ছে। টাকা না দিলে আমি মিটার দিবো কীভাবে? আমি ৯টি মিটারের সম্পুর্ন টাকা পেয়েছি, সে ৯টার টাকা আগামী রবিবার জমা দিবো’। বাকীগুলোর কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এন্তাজ বলেন, ‘সেগুলোর কথা আমি বলতে পারবো না’। একথা বলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
এদিকে পল্লী বিদ্যুতের পরিপত্র থেকে জানাগেছে, আবেদন ফি ১১৫ টাকা, সদস্য ফি ৫০ টাকা আর মিটার জামানত ফি বাবদ ৪০০ টাকা লাগবে।
গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারি জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) সাইদুর রহমান বলেন, ‘এধরণের ঘটনা কোথাও যদি ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *