গাইবান্ধার ৬টি উপজেলায় বন্যার পানিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

গাইবান্ধার ৬টি উপজেলায় বন্যার পানিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এবং অব্রিাম বৃষ্টির পানিতে পানি নামিয়ে যায় ও বৃদ্ধি হওয়ায় গাইবান্ধা জেলার ৬টি উপজেলার বন্যার পানি থৈ থৈ করছে।
প্লাবিত হয়েছে জেলার ৪০০টি গ্রাম। তবে সদর, সাঘাটা, ফুলছরি উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সদ্য বন্যার পানিতে ডুবে আছে আউশ ধান, আমন ধানের বীজ তলা, পাট, পানের বরজ, বিভিন্ন সবজি ক্ষেত। পানিতে ডুবে সব হারিয়ে হতাশায় পড়েছেন গাইবান্ধার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃষকরা।
এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট নদী, করতোয়া নদের পানি এখনো বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জে ১০টি, সদরে ১২টি, পলাশবাড়ীর ৩টি, ফুলছরির ৭টি, সাঘাটার ৯টি, সুন্দরগঞ্জের ৮টি, সাদুল্লাপুরের ২টি ইউনিয়নের কৃষকের কষ্টের ফসল পানির নিচে ডুবে রয়েছে।
কয়েকদিন আগেও যে সবুজ শ্যামল ফসলি জমি মাঠ ভরা ছিল আজ তা আর নেই। পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে তা নষ্ট হয়ে গেছে। চলতি আমন মৌসুমের ধানের চারা ও মূলধন হারিয়ে সময় মতো চারার সরবরাহ না পাওয়া গেলে আমন চাষ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম কৃষি জমির ফসল হারিয়ে অনেকে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সাঘাটার ভাঙার মোড়ের আব্দুল সালাম দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘বন্যায় আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমন ধানের বীজ তলা ১০ দিন যাবত পানির নিচে পড়ে আছে। কীভাবে আমনের ধান লাগাব কোথায় পাব বীজ। আমার ২০ শতক জমিনের পাট সব নদীগর্ভে।’
সদর উপজেলার আসমতপুর গ্রামের সালাম বলেন- ‘বাড়িতে পানি, রাস্তায় এসে খোলা আকাশের নিচে আছি। আউস (বর্ষালি) ধান লাগিয়েছিলাম বন্যার পানি তা নষ্ট করে হয়ে গেল। বন্যা আমাদের নিঃস্ব করে দিল।’
’সরকারি হিসাব অনুযায়ী চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত জেলায় ৫ লক্ষ ১৪ হাজার ৮শ ৯৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ উপজেলায় ৫১টি ইউনিয়নে মোট ১৪ হাজার ২২ হেক্টর ফসলি নিমজ্জিত রয়েছে। এ সব ইউনিয়নের চলতি মৌসুমে আমন ধানের বীজ তলা ২ হাজার ৮শ ৮১ হেক্টর, আউশ ধান (বর্ষালি) ৩ হাজার ১শ ৯০ হেক্টর, শাক-সবজি ১ হাজার ১শ ৭৭ হেক্টর, পাট ৬ হাজার ৬শ ১৯ হেক্টর এবং অন্যান্য ১ হাজার ৪শ ৫৪ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম ফেরদৌস জানান, সদ্য বন্যায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধানের বীজ তলা নষ্ট হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে আমন চাষ নির্বিঘ্ন করতে কৃষকদের চারাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ দিকে সরকারিভাবে আমন ধানের বীজ সরবরাহ করলে নতুন করে কৃষকরা জমি রোপণ করতে পারবে আশা সংশ্লিষ্টদের। বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করার দাবি কৃষকদের।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *