গাইবান্ধায় যত্ন প্রকল্পে অনিয়ম, বাদ পড়ছে দরিদ্ররা

প্রত্যেক ইউনিয়নে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করে হাটে হাটে ধান ক্রয়ের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ অতি দরিদ্র পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিশুর পুষ্টি, মানব সম্পদের উন্নয়ন এবং পরিবারের উপার্জন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাইবান্ধায় চলছে যত্ন প্রকল্পের তালিকা তৈরির কাজ।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক সরাসরি বাস্তবায়নাধীন ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেস্ট (আইএসপিপি) যত্ন প্রকল্পের তালিকা প্রণয়নে জেলা জুড়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শুধু অতি দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী, মা ও শিশুদের তালিকা প্রণয়নের কথা থাকলেও তালিকা হচ্ছে স্বচ্ছলদের ও টাকার বিনিময়ে। প্রত্যেকটি নামের বিপরীতে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করছেন। আর চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন প্রকৃত সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্যরা।

মালিবাড়ী ইউনিয়নের শ্রী মতি সোবানি রানী অভিযোগ করে বলেন, প্রথমে পরিষদে গিয়েছিলাম নাম নেয়নি। পরে ৪ হাজার টাকা দেওয়ার পর আমার নামটা নিয়েছে। ভিক্ষা করে খাই, তারপরও বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।

কাবিলের বাজার এলাকার আসমা বেগম বলেন, আমি খুব কষ্ট করে চলি। কার্ড করার জন্য গিয়েছিলাম টাকা দিতে পারি নাই সে জন্য আমার কার্ড হয়নি।

স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজতর ও অভিযোগ দেখতে একজন সেফটি নেট প্রোগ্রাম এ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ থাকলেও তাদের উপস্থিতি নেই ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে।

এ সব অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন সভা সমাবেশ, মানববন্ধন করছেন। দাবি তুলেছেন পূর্বের তালিকা বাতিল করে প্রকাশ্য জনগণের উপস্থিতিতে তালিকা তৈরির। সেই সাথে ঘুষের টাকা ফেরতসহ দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের।

তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে সঠিকভাবে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি ইউপি চেয়ারম্যানদের।

বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ধরনের অভিযোগ আসছে জানিয়ে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন মিয়া।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *