গাইবান্ধায় রোদের ঝিলিকে জমি থেকে ধান কাটা ও নতুন ধান-খড় শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা

কৃষকের ঈদ বনাম ধানের মূল্য

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা জেলা জুড়ে গ্রামাঞ্চলে কয়েকদিন আগে কাটা হয়েছে আগাম জাতের ধান। এই ধান সিদ্ধ করার পরই নেমে আসে ঘূর্ণীঝড় ফণী আভাস। এর প্রভাবে গত তিনদিন সূর্যের মুখ দেখতে পারিনি কৃষক-কৃষাণীরা। ফলে সিদ্ধকৃত ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তারা।

গতকাল থেকে দেখা গেছে সূর্যের মুখ। রয়েছে রোদের ঝিলিক। এরপর কৃষাণীরা ধান শুকাতে নেমে পড়েন বাড়তি উঠানসহ মিল চাতালে। দিনব্যাপী প্রখর রোদ আর তীব্র দাবদাহের মধ্যে ধান শুকাতে ব্যস্ত তারা। রোদের ঝিলিক দেখেই তাদের ধান শুকাতে নির্ধারিত স্থানে ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে।

গাইবান্ধার নাগবাড়ী বাজারের রাবেয়া রাইচ মিল চাতালে ধান শুকাতে আসা মরিয়ম বেগম বলেন, আমাদের ইরি-বোরো ধান এক বছরের খাদ্য হিসেবে মজুদ রাখি। ইতোমধ্যে মজুদকৃত খাদ্য ফুরিয়ে গেছে। তাই কাটা-মাড়াইয়ের চিকন জাতের ধান সিদ্ধ করার পর বিভিন্ন চাতালসহ বাড়ীর উঠানে ও রাস্তায় শুকানো হচ্ছে।পলাশবাড়ীর কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, আগাম জাতের বিআর-২৮ ধান কাটা-মাড়াই প্রায় শেষ। আর কয়েকদিন পরেই শুরু হবে হাইব্রিড মোটা জাতের ধান কাটার কাজ। এবারে ইরি-বোরো মওসুমে নানা প্রতিকুলতা পেরুতে হয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমন হয়। সেই সাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কালবৈশাখী ও ফণী ঝড়ে ধানের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরফলে আশানারুপ ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফুলছড়ি উপজেলার কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, কৃষি শ্রমিকের অভাবে কৃষকরা হাইব্রিড ধান কাটতে না পারায় পানিতে পড়ে থাকা ধান চারায় পরিণত হয়েছে। অনেক কৃষকের ধান জমিতেই পঁচে গেছে। অতিবৃষ্টি হওয়ার কারণে কৃষকরা ধানের খড় শুকাতে পারছে না পঁচে যাচ্ছে শতাধিক একর জমির খড়। সম্প্রতি গাইবান্ধার জেলার গ্রামীণ সড়কসহ পাকা সড়কগুলো কৃষক-কৃষাণীর দখলে। ধান ও খড় শুকানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তারা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তেমন রোদ হচ্ছে না। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। একটু রোদ হলেই কৃষক-কৃষাণীরা ধান ও খড় শুকানোর জন্য কাঁচা পাকা রাস্তাগুলো দখল করে নিচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক আবুল কালাম জানান, বিআর জাতের ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। এ ধানগুলো চাউল করে খাদ্য মজুদ করছেন কৃষকরা। এখন মাঠে রয়েছে হাইব্রিড জাতের ধান। সদ্য বয়ে যাওয়া ফণীর প্রভাবে ধান ফসলসহ অন্যান্য ফসল কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *