গাইবান্ধায় শহর রক্ষা বাঁধ ও সোনাইল বাঁধের দুটি পয়েন্টে ধস

গাইবান্ধায় শহর রক্ষা বাঁধ ও সোনাইল বাঁধের দুটি পয়েন্টে ধস

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের ১৩৫টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ফলে ওইসব এলাকার ঘরবাড়িসহ ফসলী জমি ও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। এতে বন্যা কবলিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৪টি উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৬৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বন্যা কবলিত এলাকায় ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন আশ্রয় নিয়েছে। অপরদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বন্যা জনিত কারণে ১০টি স্কুল-মাদ্রাসার পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সোমবার সকালে ঘাঘট নদীর পানি তোড়ে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের ১শ’ ৫০ ফুট এবং গোদারহাট এলাকায় সোনাইল বাঁধের প্রায় ১শ’ ফুট এলাকা ধসে গেছে। ফলে ওই দুটি বাঁধের এলাকায় ১৫টি গ্রামে আকস্মিকভাবে বন্যা দেখা দেয়। এদিকে সিভিল সার্জন ডাঃ এবিএম আবু হানিফ জানিয়েছেন, বন্যার্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্য ৪টি উপজেলায় ১০০টি মেডিকেল টিম বন্যা কবলিত এলাকায় কাজ করছে।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, বন্যা কবলিত ৪ উপজেলার অসহায় মানুষের জন্য ২৪০ মে. টন চাল, নগদ ২ লাখ টাকা, ২ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১১২ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে তিস্তা নদীর পানি ৫ সে.মি. হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে করতোয়া নদীর পানি এখন বিপদসীমা ছুই ছুই করছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *