গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের বেহাল দশা

গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের বেহাল দশা

গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ২০০ বেডের হাসপাতাল। বেড বাড়লেও সেবার মান বাড়েনি। বেডে ঠাই না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে এবং করিডোরগুলোতেও চিকিৎসাধীন রয়েছে ভর্তিকৃত রোগীরা। তদুপরি ভর্তিকৃত রোগীদের দেখতে আসা আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচর্যাকারি ভীড়ে এবং প্রতিনিয়ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও সঙ্গীদের এই হাসপাতালটি সর্বক্ষনই যেন একটি জনাকীর্ণ বাজারে পরিণত হয়। এতে চিকিৎসা নিতে আসা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চরম বিপাকেও পড়তে হয়।
দেশব্যাপি ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথেই গাইবান্ধা জেলাতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। এজন্য জেলায় সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সপ্তাহব্যাপি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধনের ব্যাপক অভিযান শুরু করা হয়। কিন্তু গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে এর কোন প্রভাব পড়েনি।
তদুপরি এহেন অবস্থায় হাসপাতালে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার লেশমাত্রও খুঁজে পাওয়া দায়। গোটা হাসপাতাল চত্বরে চারপাশে ফেলা বর্জ্য এবং টয়লেটের দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ে। এই বিরুদ্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই চিকিৎসা নিতে হয় রোগীদের।
এছাড়া গাইবান্ধা হাসপাতাল সম্মুখে রোগীদের জন্য ওয়াল ঘেঁষে ড্রেন সংলগ্ন যে টিউবয়েলটি বসানো হয়েছে সেই টিউবয়েলের গোড়ায় রয়েছে জমানো পানি ও চারপাশে জমেছে বর্জ্যরে পাহাড়। ফলে সংগত কারণেই হাসপাতালের সম্মুখের এই টিউবয়েলটির পানির বিশুদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন জাগে।
তদুপরি হাসপাতালের গেটের সম্মুখেই সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে এবং জায়গাটি নিচু হওয়ায় সেখানে প্রায় সর্বক্ষনই জমে থাকে পানি। এছাড়া হাসপাতালেও যে পানির ফোয়ারাটি রয়েছে তাতেও সারাক্ষণ পানি জমে থাকে। এ সমস্ত জমানো পানি যেমন পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থেকে বিঘ্নিত করছে তেমনি ব্যাপক হারে মশার বিস্তার ঘটাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এই হাসপাতালটি ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি এবং অন্যতম লালন ক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *