গাইবান্ধা-৩ আসনে চলছে ভোটগ্রহণ

গাইবান্ধা-৩ আসনে চলছে ভোটগ্রহণ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে চলছে ভোটগ্রহণ। রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার সকালে নিজ ভোটকেন্দ্র সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ভোট দেন।
আসনের ২০টি ইউনিয়নের ১৩২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন দুই উপজেলার ৪ লাখ ১১ হাজার ৮৫৪ জন ভোটার।
এই নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী তিনজন। তারা হলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. ইউনুস আলী সরকার নৌকা, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী (লাঙ্গল) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ, ইনু) কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (মশাল)।
অপর দুই প্রার্থী হলেন- এনপিপির মিজানুর রহমান তিতু (আম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ (সিংহ)।
নির্বাচনে মহাজোটের তিন প্রার্থীর মধ্যেই লড়াই হবে বলে সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে এই নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী। কিন্তু তিনি গত ১৯ ডিসেম্বর মারা গেলে ২০ ডিসেম্বর ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে পুনঃতফসিল মোতাবেক আজ ভোটগ্রহণ চলছে।
এদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ২০ প্লাটুন র‌্যাব ও বিজিবি, আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য, এক হাজার ৫৮৪ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত আছে নির্বাচনী মাঠে। এ ছাড়া একজন করে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দুই উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে সার্বক্ষণিক টহলে আছে স্ট্রাইকিং ফোর্স।
পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, নির্বাচন চলাকালীন সিভিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্যান্য সহযোগী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। গত ৩০ তারিখের নির্বাচনের মহাযজ্ঞ যেহেতু আমরা গাইবান্ধায় ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাই এই একটি আসনের নির্বাচন আমরা চ্যালেঞ্জ মনে করছি না। আমরা আশা করি, জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার আবদুল মতিন বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সফল করার লক্ষ্যে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা কাজ করছেন। ভোটাররা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দেবেন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমাদের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *