গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ ৩১-গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনের নির্বাচন আগামী ২৭ জানুয়ারি রবিবার অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী জাপা কাজী জাফর দলের ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী গত বছরের ২০ ডিসেম্বর মারা যান। ফলে স্থগিত থাকা নির্বাচনের পূর্ণ:তফশিল গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ঘোষনা দেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্বিতীয় দফায় জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মইনুল হাসান সাদিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু প্রত্যাহারের শেষদিন গত ১০ জানুয়ারি কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ ময়নুল হাসান সাদিকসহ বাসদ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
এখন পাচ প্রার্থীর মধ্যে মহাজোটভুক্ত আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডাঃ ইউনুস আলী সরকার (নৌকা), জাপা (এ) প্রার্থী ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার (লাঙ্গল) ও জাসদ প্রার্থী এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (মশাল)। এই তিন প্রার্থী গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং জনসভাসহ নানা কার্যক্রমে ব্যস্ত দেখা গেছে। অন্য দুই প্রার্থী হলেন- এনপিপির মিজানুর রহমান তিতু (আম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ (সিংহ)। সবমিলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে বিভিন্ন মহল ধারনা করছেন।
বিগত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলগুলোতে দেখা যায়, আসনটিতে প্রথম নির্বাচনে বাকশালের আবু তালেব মিয়া, দ্বিতীয়বার বিএনপি’র ড. আর এ গণি, তৃতীয় থেকে নবম পর্যন্ত (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি’র মোখলেছুর রহমান এমপি হয়েছিলেন) জাতীয় পার্টির (এ) ড. ফজলে রাব্বী এমপি নির্বাচিত হন (তারমধ্যে ৯ম সংসদ নির্বাচনে ফজলে রাব্বী ছিলেন মহাজোটভুক্ত জাপার প্রার্থী) এবং দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডাঃ ইউনুস আলী সরকার এমপি হয়েছিলেন।
সাদুল্যাপুর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়া খান বিপ্লব ও পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামিকুল ইসলাম লিপন জানান, গত ৪২ বছরের উন্নয়ন বঞ্চিত আসনটিতে ডাঃ ইউনুস নির্বাচিত হওয়ার পর গ্রাম-গঞ্জের রাস্তাঘাট পাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার অবকাঠামো নির্মাণসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এছাড়া ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত জাপার (জাফর) নেতাকর্মীরা ছাড়াও পলাশবাড়ী জাপার (এ) একাংশ ইউনুসকে সমর্থন দিয়ে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা আরও জানান, নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। সরকারও গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। তাই এই আসনের গত পাচ বছরের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখতে ভোটাররা নৌকা মার্কাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।
ডাঃ ইউনুস আলী সরকার বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তায় গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাই নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।
অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় তাদের ভোটারদেরকে জাপা ও জাসদ প্রার্থী নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। এরশাদের অরাজনৈতিক উপদেষ্টা দিলারা খন্দকার শিল্পীর (লাঙ্গল) রাজনীতিতে আর্বিভাব নতুন। এলাকায় তার পরিচিতিও কম। কিন্তু বিগত ৬ বার এ আসনে শুধু মাত্র এরশাদ জনপ্রিয়তায় লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন। দিলারা খন্দকার বলেন, প্রত্যাশা করছি ব্যাপক ভোটে লাঙ্গল জয়লাভ করবে যেহতু এই আসনটি জাপা’র ভোট ব্যাংক । অপরদিকে জাসদের সাংগঠনিক অবস্থা ভালো না হলেও ব্যক্তি ইমেজে খুদি সাদুল্যাপুরের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই তার সমর্থকরা মনে করেন, বিএনপি-জামায়াত তারা মশালে সমর্থন দিবে। যেহতু কোন প্রার্থী নেই, কাজেই আমরা আশা করছি। খুদি বলেন, অল্প বয়সের জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় আমার ব্যাপক সুনাম আছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ হলে আসনটি জাসদকে উপহার দিতে পারবো।
জেলা বিএনপি সভাপতি ডাঃ ময়নুন হাসান সাদিক বলেন, ফলাফল পূর্ব নির্ধারিত থাকা নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমি আমার নেতাকর্মীদের আবারও মামলা, হামলা, নিপীড়ন, নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিতে পারি না। তাই কেন্দ্রীয় সিন্ধান্তে আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি। সেখানে কাউকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, সাদুল্যাপুরের ১১টি ও পলাশবাড়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩২টি। নিয়োগ করা হয়েছে ১৩২ জন প্রিজাইডিং, ৭৮৬ জন সহকারি প্রিজাইডিং ও ১৫৭২ জন পোলিং কর্মকর্তা। মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৮৫৪। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৪৬ ও নারী ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ১০৮।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *