চিটাগং ভাইকিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে কোয়ালিফাইয়ারে ঢাকা

বিপিএলে ঠিক সময়েই জ্বলে উঠলো স্বাগতিক ঢাকা ডায়নামাইটস। সোমবার বাঁচা মরার লড়াইয়ে চিটাগং ভাইকিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে কোয়ালিফাইয়ারে সাকিবের ঢাকা। মুশফিকের দেয়া ১৩৬ রানে জবাবে নেমে ১৬.৪ ওভারে চার উইকেটে এ রান তুলে নেয় তারা। ঢাকার জয়ের নায়ক সুনীল নারাইন।

সহজ লক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ঝড় তোলেন উপল থারাঙ্গা ও সুনীল নারাইন। দারুণ শুরু করে দলীয় ৪৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় ঢাকা। সুনীল ১৬ বলে ছয় বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৩১ রান করে খালিদ আহমেদের বলে নাঈম হাসানের তালুবন্দি।

ওয়ানডাউনে ব্যাটিংয়ে নামা রনি তালুকদাও থারাঙ্গাকে ভালোই সঙ্গ দেন। শুরুটা ভালো হলেও নিজের ইনিংস লম্বা করতে পারেনি রনি। ১০.১ ওভারে খালিদের জোড়া আঘাতের প্রথম শিকার। ১৩ বলে ব্যক্তিগত ২০ রান করে খালিদের বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন। ঐ ওভারের দ্বিতীয় বলেই ঢাকার অধিনায়ক সাকিববে শুন্য রানে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন ২৬ বছর বয়সী ডানহাতি এই পেসার।

ওপেনার থারাঙ্গা সাজঘরে ফেরার আগে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১৩.৩ ওভারে ৪৩ বলে সাত বাউন্ডারিতে ৫১ রান করে নাঈম হাসানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন থারাঙ্গা। ততক্ষনে জয়ের খুব কাছেই পৌঁছে যায় ঢাকার দলটি। শেষ মুহুর্তে নুরুল হাসান ২০ ও কাইরন পোলার্ড ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

চিটাগংয়ের হয়ে খালিদ আহমেদ ৪ ওভারে ২০ রানে একাই নেন তিনটি উইকেট।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৫ রান তোলে চিটাগং। ক্যামেরন ডেলপোর্ডের সঙ্গে এ দিন ইনিংস শুরু করেন টুর্নামেন্টে দলের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী। কিন্তু ইনিংসের তৃতীয় ওভারে রুবেল হোসেনের বল পুল শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারি ক্যাচ দেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৯ বলে ৮ রান করেন ইয়াসির।

ওয়ানডাউনে নামা সাদমান ইসলামকে নিয়ে ডেলপোর্ট ভালোই টেনে নিচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু ডেলপোর্টের ২৭ বলে ৩৬ রানের সম্ভাবনাময় ইনিংস শেষ হয় দৃষ্টিকটু এক রান আউটে। সেখান থেকেই চিটাগংয়ের ছন্দপতন শুরু। এরপর সুনীল নারাইনের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে ব্যক্তিগত ৮ রানে বোল্ড মুশফিকুর রহিম।

১৯ বলে ২৪ রান করা সাদমানকেও ফেরান নারাইন। ১১.১ ওভারে দলীয় ৮১ রানে চার উইকেট হারায় চিটাগংয়ের দলটি। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যান ঢাকার বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। দাসুন শানাকা ৭, বিপজ্জনক রবি ফ্রাইলিঙ্ক ১ ও হার্ডাস ভিলিওন ১ রান করে বিদায় নেন। চিটাগংয়ের রান তখন ১২০ ছোঁয়া নিয়েই টানাটানি।

দলের বিপদেও ধীরেসুস্থে খেলতে থাকা মোসাদ্দেক শেষ ওভারে বাঁহাতি পেসার কাজি অনিককে মারেন টানা তিন বলে এক ছক্কা ও দুই চার হাঁকিয়ে বিদায় নেন। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৫ বলে ৪০ করে মোসাদ্দেক রান আউট হন। শেষ মহুর্দে নাঈম হাসান ৬ ও আবু জায়েদ ১ রান করে অপরাজিত থাকেন। ঢাকার সফল বোলার সুনীল নারারিন। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে একাই চারটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া রুবেল ও অনিক নেন একটি করে উইকেট।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *