ছেলে হত্যার খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

হরিণাকুন্ডুতে বিষধর সাঁপের কামড়ে এক মহিলার মৃত্যু

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কামারদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছেলে সৈয়দ আপেল মাহমুদ গেল রাতে বগুড়ার কাহালুতে দুবৃর্ত্তদের হাতে নিহত হওয়ার খবর শুনে মা আয়েশা বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
এলাকাবাসী ও কাহালু থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কাহালু উপজেলার বারমাইল-নামুজা সড়কের সাঁতারপুকুর নামক স্থানের রাস্তার উপর থেকে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দঞ্জের ইনডেক্স বিজনেস কো-অপারেটিভ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের বার্না চন্দ্র শিখর(মোগলটুলি)গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ ডিপ্টি ও আয়েশা বেগম(৫৫)এর একমাত্র ছেলে সৈয়দ আপেল মাহমুদ(৩২)এর লাশ উদ্ধার করে কাহালু থানা পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বগুড়া টি,এম,এস,এস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ্য মা আয়েশা বেগম ছেলে দুবৃর্ত্তদের হাতে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে হৃদক্রীড়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
আপেল মাহমুদ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলার মোগলটুলি গ্রামের সৈয়দ আঃ ওহাবের একমাত্র ছেলে। কাহালু থানার এস আই ডেভিড হিমাদ্রি বর্মা সাংবাদিকদের জানান,“দুঃস্কৃতকারীরা এলাস্টিক জাতীয় পায়জামার ডোর গলায় পেঁচিয়ে আপেল মাহমুদকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। তবে এই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।”
এদিকে আপেলের চাচা আশরাফুল ইসলাম মানিকসহ অন্যান্য স্বজনরা জানান, আপেল মাহমুদ আর্থিক লেনদেন, ময়দা মিল ও আমদানী-রপ্তানীকারকসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেও তার কোনো শত্রু ছিলোনা। ক্যান্সারের রোগী মা আয়েশা বেগমকে গত বৃহস্পতিবার ঠেঙ্গামারা টিএমএসএস মেডিক্যালে দেখতে যান আপেল মাহমুদ। মাকে দেখে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেডিক্যাল থেকে বের হন তিনি।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শওকত কবির জানান, তিনি বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে স্থানীয় চৌকিদারের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আপেল মাহমুদের বড় চাচা সৈয়দ আব্দুল করিম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আজ সন্ধা ৬টায় ফাঁসিতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছেলে সৈয়দ আপেল মাহমুদ ও মা আয়েশা বেগমের নামাযে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি কামারদহ ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ শরিফুল ইসলাম রতন ছেলে ও মায়ের এই আকর্ষিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তাপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান।এ দুটি ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *