ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একই বাড়ির ১২ সদস্য হোম কোয়ারেন্টাইনে!

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একই বাড়ির ১২ সদস্য হোম কোয়ারেন্টাইনে!

ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহে ২২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে জেলা কালীগঞ্জে একই পরিবারের ১২ সদস্যকে রয়েছে। সম্প্রতি ওই এক নারী আমেরিকা থেকে দেশে আসার পর কালীগঞ্জের ওই বাড়িতে আসে। এরপর ঠান্ডা জনিত সমস্যা নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয় ওই প্রবাসি নারী। তার পর থেকে ওই পরিবারের ১২ সদস্যকে বাড়িতে সঙ্গীহীন করে রাখার নিদের্শনা দেয় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ছাড়া হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ভারতীয় সীমান্তবর্তী মহেশপুরে পাঁচজন এবং সদর উপজেলায় পাঁচজন। তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়িতে টানা ১৪ দিন বাড়ির বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দ্বায়িত্বশীলরা বলছে, জনসাধারনের জন্য ভয়ের কোন কারণ নেই। বাড়তি নিরাপত্তার জন্যই সন্দেহ থেকে তাদের এই নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। হোস কোয়ারেন্টাইনে থাকা নারী পুরুষ ও শিশুরা পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে না মেশারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রতিনিটি উপজেলায় চিকিৎসকদের নিয়ে বিশেষ একটি টিম গঠন করা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামিমা শারমিন লুবনা জানান, কিছুদিন আগে ফয়লা গ্রামের বাসিন্দা গোবিন্দ বিশ্বাসের বাড়িতে বেড়াতে আসে আমেরিকা প্রবাসী ভাই এর এক মেয়ে। সে মাত্র একদিন ওই বাড়িতে অবস্থান করে খুলনায় ফিরে যায়। এরপর ঝিনাইদহ স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ওই বাড়ির ১২ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। কোয়ারেন্টাইনে থাকা সদস্যরা হলেন, রানু বিশ্বাস, গোবিন্দ বিশ্বাস ও মিতা বিশ্বাস দম্পতিসহ দুই ছেলে, নন্দ বিশ্বাস ও অঞ্জলী বিশ্বাস দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং আনন্দ বিশ্বাস ও বিনা বিশ্বাস দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। গোবিন্দ বিশ্বাসের স্ত্রী মিতা বিশ্বাস জানান, আমেরিকা থেকে আমাদের ভাইজি বাড়িতে বেড়াতে আসে। একদিন থেকে সে চলে যায়। এরপর বাড়িতে কিছু ডাক্তার এসে আমাদের ১৪ দিন বাড়ির মধ্যে থাকার নির্দেশ দেন। তিনি আরো জানান, এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, বাড়ি থেকে বের না হওয়াসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সব নির্ধেশ মেনে চলছি, আমরা, সুস্থ আছি বলছিলেন ওই গৃহবধু। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডাক্তার সেলিনা বেগম জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ফয়লা দাসপাড়ার ওই বাড়িতে আমেরিকা থেকে এক প্রবাসী বেড়াতে আসে। আমরা বিষয়টি জানার পর ওই বাড়ির ১২ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছি। এইদকে হাচি-খাশি, কিংবা-জ¦র ঠান্ডা রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। এসব রোগীরা কোথায় চিকিৎসা নিবে তার জন্যও নেই হেল্প ডেস্ক। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া বিভাগে মাত্র তিনটা বেড রেখে আইসোলেশন ইউনিট রাখা হয়েছে। ফলে চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত ওয়ার্ডবয় থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পর্যন্ত স্বুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে স্বাস্থ মন্ত্রনালয়ের সচীবের নিজ জেলার সদর হাসপাতালের এই চিত্রে হতাশাগ্রস্থ সর্বস্তরের মানুষ। অথচ এই হাসপাতালেই প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নানা রোগে আক্রান্ত অন্তত ১৪ শতাধীক মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে জরুরী ও বহি: বিভাগে। সদর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা তত্তবধায়ক ডা: আয়ুব আলীর দাবি, হাসপাতালে করোনা ভাইরাস চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা আছে। করোনা সনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক রোধে চিকিৎসকদের গাউন, মাস্ক, আই-প্রটেকটর ব্যবহার করতে দিচ্ছি না বলে যোগ করেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *