টাকার অভাবে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আটকে আছে ছন্দার

টাকার অভাবে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আটকে আছে ছন্দার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন গাইবান্ধার ছন্দা রানী। কিন্তু তাঁর স্বপ্নযাত্রা থেমে যেতে বসেছে। মেডিকেলে ভর্তির টাকা জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছে তাঁর পরিবার। শেষ পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন।ছন্দার বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে। বাবা প্রদ্বত কুমার সরকার মুদিদোকানি। মা জোসনা রানী সরকার গৃহিণী। তিন ভাই–বোনের মধ্যে ছন্দা বড়। ছোট বোন জয়া রানী গাইবান্ধা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ভাই মিতুল সরকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।ছন্দা পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলেন জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল ও কলেজ থেকে। অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তি পেয়েছিলেন। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ২০১৯ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ তাঁর।প্রদ্বত কুমার সরকার জানান, মুদিদোকান থেকে যা আয়, তা সংসারের ভরণপোষণে চলে যায়। সম্পত্তি বলতে ছিল কেবল বসতভিটা। দুই বছর আগে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে তা–ও বিক্রি করেছেন। এখন ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি বলেন, ‘২১ অক্টোবর থেকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি শুরু হয়েছে। শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর। ভর্তি হতে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকার দরকার, যা সংগ্রহ করা আমার পক্ষে এখন অসম্ভব।’ ছন্দার মা জোসনা রানী সরকার বলেন, ‘আগে বাসায় লেখাপড়া করেছে, টাকাপয়সা তেমন লাগেনি। কষ্ট করে খরচ জুগিয়েছি। এখন ছন্দা মেডিকেলে পড়বে। ভর্তি হতে অনেক টাকার দরকার। প্রতি মাসেও টাকা দিতে হবে। এখন ভর্তির টাকা দেব কোত্থেকে। আর মাসে মাসে টাকাইবা কীভাবে দেব।’ছন্দা বলেন, ‘চিকিৎসক হয়ে মা–বাবার দুঃখ ঘোচাতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম বিনা মূল্যে গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে। কিন্তু টাকার অভাবে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না জানি না।’

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *