ডোমারে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাব

ডোমারে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস রোগের প্রাদুর্ভাব


সত্যেন্দ্র নাথ রায় , ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় গবাদি পশুতে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস রোগের প্রাদুভার্ব দেখা দিয়েছে। রোগটি মরণব্যাধি না হলেও গরু খামারিরা এ রোগের প্রাদুর্ভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসটি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গবাদি পশুতে দেখা যায়। এখন বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গবাদি পশু উক্ত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
ভাইরাসটি প্রাথমিকভাবে গরুর জ্বর, পা ও গলা ফুলে যাওয়া, পরে ফেটে যাওয়া, গলায় ব্যাথা হওয়া, শরীরে গুটি হওয়ার উপসর্গ নিয়ে প্রভাব বিস্তার করে। রোগটি ভাইরাস জনিত হওয়ায় মশা মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। এতে বেশ কিছু গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গরুর দুধ উৎপাদন, ওজন কমে যায় ও চামড়ার গুনগত মান নষ্ট হয়। উপজেলায় এক লক্ষ ২২ হাজার গরুর মধ্যে একশ ৩৪টি গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বেশকিছু জায়গায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে গবাদি পশু আক্রান্ত হয়েছে। বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের নওদাবস এলাকার কৃষক নন্দলাল বর্মন জানায়, আমার দশটি গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বাছুর মারা গেছে। আক্রান্ত গরু গুলোর চিকিৎসা চলছে।একই এলাকার রামপ্রাসাদ, অর্থলাল, লালুরামের গরুর গলা ও পা ফুলা,শরীরে গুটি দেখা দিয়েছে। গরু রাখার কোলামেলা জায়গা না থাকায় একই স্থানে অসুস্থ্য গরুর সাথে সুস্থ্য গরু রাখায় সেগুলোও মশা মাছি দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার ঝুকিতে রয়েছে।
সোনারায় ইউনিয়নের জামির বাড়ী এলাকার মধুসুধন রায়, হিরাম্ব রায় ও ধীরেন্দ্রনাথ জানান এক সপ্তাহ আগে গরু গুলোর মধ্যে জ্বর,পা ও গলা ফুলে যায়। শরীরে গুটি দেখা দেয়। চিকিৎসা চলছে, এখন গরুগুলো অনেকটা সুস্থ্য হয়েছে।
ডোমার উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ জহিরুল ইসলাম জানান,এটি একটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ যা শুধু গরু ও মহিষকে আক্রান্ত করে কিন্তু এ রোগে মানুষ আক্রান্ত হয় না। আক্রান্ত গবাদি পশুর মৃত্যুর হার খুব কম। নাই বললেও চলে তবে গ্রামে কিছু অপচিকিৎসার কারনে শতকরা একভাগ মারা যেতে পারে। এ রোগটি বাংলাদেশে নতুনভাবে আর্বিভাব হয়েছে। এ পর্যন্ত রোগটির কোন ঔষধ তৈরী হয়নি। হিউম্যানের জ্বর ও পক্সের ঔষধ টায়াল দেওয়া হচ্ছে। দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে এ রোগ সেরে যায়। তিনি আরো বলেন এই ভাইরাসে ভয়ের কোন কারন নেই! এটি গবাদি পশুর মরণব্যাধি নয়। খামারিরা আতঙ্কিত না হয়ে ধৈয্য ধারন করতে হবে। তবে খামার মশা মাছি মুক্ত পরিচ্ছন্ন যায়গায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *