দৃষ্টি নান্দনিক কারুকার্যের ২০০ বছর পুরনো মিঠাপুকুর মসজিদের বেহাল দশা

দৃষ্টি নান্দনিক কারুকার্যের ২০০ বছর পুরনো মিঠাপুকুর মসজিদের বেহাল দশা

এস.এম রাফাত হোসেন বাঁধন,রংপুর
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা সদর থেকে আধা মাইল উত্তর পশ্চিমে ইতিহাস খ্যাত প্রাচীন মিঠাপুকুর বড় মসজিদটির অবস্থান। গড়ের মাথা হতে মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ি মহসড়কে পায়ে হেটে ১০ মিনিট রিকশা-ভ্যান কিংবা অটোতে দুই-তিন মিনিট সময় লাগতে পারে। এরই মধ্যে সড়ক থেকে দক্ষিণ দিকে (বামে) তাকালেই চোখে পড়বে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মাটিতে পোড়ানো লাল মেটো রঙ্গের একটি মসজিদ। এই মসজিদটির নাম মিঠাপুকুর বড় মসজিদ।
মসজিদটি আয়তাকার তিনটি গোলাকার গুম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। মসজিদের সম্মুখ লিপি পাঠাদ্ধার হতে জানা যায়-হিজরী ১২২৬ মোতাবেক বঙ্গাব্দ ১২১৭ শুক্রবার এবং খ্রিঃ ১৮১১ সাল জনৈক শেখ মোয়াজ্জম এর প্র-পুত্র শেখ মুহাম্মদ আসিন এর পিতা শেখ সাবির কর্তৃক এ মসজিদটি নির্মিত হয়।
নান্দনিক কারুকার্যের ছোঁয়া মসজিদটির সব জায়গায়। তিনটি গম্বুজ মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকা মিঠাপুকুর বড় মসজিদটি বয়সে ও ঐহিত্যে বেশ পুরনো। রঙ্গ নির্মাণশৈলির আকর্ষণে আকৃষ্ট না হয়ে উপায় নেই দর্শনার্থীদের। রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনটি নির্মাণ হয়েছে আজ থেকে ২০৯ বছর আগে।রংপুর শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে রংপুর ও ঢাকা মহাসড়কের উপর অবস্থান এই মসজিদটির। চারিদিকে গাছগাছালিতে ঘেরা আর সবুজ ক্ষেত। এর মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন মিঠাপুকুর বড় মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্য হিসেবে পরিচিত এই মসজিদটি মোঘল আমলের শেষ দিকে নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আয়তনে ছোট হলেও নামের সাথে যুক্ত আছে বড় শব্দটি। তবে স্থানীয়দের কাছে মিঠাপুকুর বড় মসজিদটি ভাঙা মসজিদ বা পুরনো মসজিদ নামে বেশ পরিচিত।মসজিদের চারপাশে রয়েছে সুরম্য গেটসহ পুরো বাউন্ডারি দেয়াল। দেয়ালের অভ্যন্তরে রয়েছে খোলা আঙ্গিনা। মসজিদের চার কোণায় পিলারের উপর রয়েছে চারটি মিনার। মিনারগুলো আট কোণাকারে নির্মিত। মিনারগুলো ছাদের কিছু ওপরে ওঠে গম্বুজ আকৃতিতে শেষ হয়েছে।মসজিদের ভেতরে প্রবেশের জন্য রয়েছে কারুকার্য খচিত তিনটি প্রবেশদ্বার। মসজিদের মধ্যের প্রবেশদ্বারের দু পাশের পিলারের উপর রয়েছে ছোট দুটি মিনার। সামনের অংশে পোড়া মাটির কারুকার্য মসজিদটিকে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে।মসজিদের ভেতরে সামনের দরজা বরাবর পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি মেহরাব। মসজিদটির প্রবেশ দ্বারেও রয়েছে কারুকার্যের ছাপ। মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো কন্দকারে নির্মিত সুবিশাল তিনটি গম্বুজ।মসজিদের সম্মুখের দেয়াল, প্যারাপেট দেয়াল ও গম্বুজের ড্রামসমূহ সুন্দর প্যানেল, লতাপাতা, ফুল জ্যামিতিক নক্শা ও সাপের ফনা সদৃশ নক্শা দ্বারা অলংকৃত। মসজিদের সম্মুখের দেয়ালের শিলালিপি থেকে জানা যায় জনৈক শেখ মোহাম্মদ সাবেরের পুত্র শেখ মোহাম্মদ আছের কর্তৃক ১২২৬ হিজরীতে (১৮১০ খ্রিঃ) মসজিদটি নির্মিত।মসজিদে প্রবেশের পূর্বেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতেরর তালিকাভুক্ত সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া বেশ পুরোনো এই মসজিদটির সংস্কার, যথাযথভাবে সংরক্ষণ, দেখভাল ও প্রচারণার অভাবে দিন দিন দর্শনার্থী কমছে।স্থানীয় এলাকাবাসী আতোয়ার হোসেন জানায়-দীর্ঘ ১০-১১ বছর পূর্বে মসজিদটি একটু সংস্কার করা হয় তারপর আর কোন প্রকার সংস্কার কিংবা রঙ্গও করা হয়নি মসজিদে।মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লী জানান-দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় মসজিদের দেয়ালে স্যাঁতা ধরেছে যার ফলে খুলে পড়ে যাচ্ছে দেওয়ালের অংশ।প্রতি ওয়াক্ত জামাতের সাথে সালাত আদায় করা হয় মসজিদে কিন্তু সংস্কার কার্যক্রম না চালালে মসজিদটি একসময় বিলীন হয়ে যাবে বলে দাবী এলাকাবাসীর।তরুণ-প্রজন্মের কাছে কালের স্বাক্ষী হিসাবে দাড়িয়ে থাকা এই মসজিদটির সংস্কার করলে শুধু মাত্র ২০০ বছর নয় হাজার বছর দৃষ্টিপট হয়ে থাকবে আর তৃষœা মেটাবে দর্শনার্থীরও।এজন্য সরকারকে এখনি প্রাচীন এই স্থাপত্য গুলো সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ স্থানীয়দের।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *