নুর মোহাম্মদ মন্ডল এক স্বপ্ন জাগানিয়া মানুষ

নুর মোহাম্মদ মন্ডল এক স্বপ্ন জাগানিয়া মানুষ

পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধিঃ দেশ স্বাধীনতার পর তেজদীপ্ত যুবকরা দেশ গঠনের পাশাপাশি কর্মসংস্থন তৈরী করতে দিনের পর দিন ঘুরে বেড়িয়েছেন ব্যবসার খোঁজে। কি করবেন কি করবেন। কোথা থেকে শুরু করবেন কিভাবে শুরু করবেন ভাবতে ভাবতে ১৯৮৬ সালে পীরগঞ্জে ছোট্ট একটি সাহসী উদ্যোগ নিয়ে শুরু করলেন স্ত্রী লাইলী বেগমের নামে লাইলী টকিজ। কিন্তু যার চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন সে কিভাবে থেমে থাকবেন এক একে পার্শ্ববর্তী থানা মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ীতে ১৯৮৩ সালে সোহাগ সিনেমা হল পরবর্তীতে মিঠাপুকুরে ১৯৯০ সালে ঝিনুক সিনেমা হল, ২০০৩ সালে খালাশপীর আনন্দ সিনেমা হল করে বিনোদনের পাশাপাশি শত শত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন। চলচিত্র ব্যাবসায় দাপটের সাথে করলেন দেড় যুগ ধরে। এতক্ষন যার কথা বললাম পাঠকরা নিশ্চয়ই অনুমান করেছেন কার গল্পটা বলছি, হ্যাঁ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি সমাজ সেবক আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ মন্ডল। সমাজসেবাকে স্থায়ী রুপদানের জন্য অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য সপে দিয়েছেন স্বাধীনতার পর থেকেই।
আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ মন্ডল ১৯৯৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ রংপুর -৬ পীরগঞ্জসহ ৫টি আসনে জয়লাভ করলে স্থানীয় নের্তৃবৃন্দ বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে উপ নির্বাচনে অংশগ্রহন করে জয়লাভ করেন। আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলেও এরশাদ এবং নিজ নেতৃর্ত্বের কারনে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী শেখ হাসিনার ভাসুর ওয়াজেদ মিয়ার বড় ভাই আব্দুল ওয়াহেদ কানু মিয়াকে পারাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদে পীরগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন পীরগঞ্জ সদর থেকে খালশপীর, মাদারগঞ্জ,চতরা, ভেন্ডাবাড়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সুচনা করেন। আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ মন্ডল জনগনের নেতা ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচন তাঁর একটি বড় দৃষ্টান্ত। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশ বিস্মিত হয়েছিল শেখ হাসিনা তার শশুড় বাড়ীতে এই জন নন্দিত নুর মোহাম্মদ মন্ডলের কাছে পরাজিত হয়ে।
২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হলে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন এবং অদ্যবদি উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন স্বনির্ভর পীরগঞ্জ গড়ার জন্য। আধুনিক সমৃদ্ধ উন্নয়নশীল পীরগঞ্জ গড়ার জন্য সম্মুখভাগে কাজ করছেন। আঞ্চলিক মহাসড়ক গড়ার রুপকার পীরগঞ্জের সাথে নবাবগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা , ঘোড়াঘাটের সেতু বন্ধনের জন্য কাজ করছেন নিরলসভাবে। পাশাপাশি পীরগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান ও বিনোদনের জন্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন আনন্দ নগর নামে বিনোদন পার্ক। শুরুতেই পুকুরে মাছ চাষ করার পরিকল্পনা থকলেও বর্তমানে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম একটি বিনোদন কেন্দ্র। প্রায় ৬০ একর জমি জুড়ে বিশাল বিশাল পুকুরের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য কৃত্রিম চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট, সেমিনার করার খোলা মেলা জায়গা আনন্দ নগর। ৫ লক্ষ মানুষের জন্য ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অপ্রতুল তাই তিনি লাইলী টকিজ এর স্থানে গড়ে তুলেছেন পীরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *