পলাশবাড়ীতে শীতকালীন সবজির বাজারে ধস :কৃষকের মাথায় হাত

পলাশবাড়ীতে শীতকালীন সবজির বাজারে ধস :কৃষকের মাথায় হাত

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ উত্তরাঞ্চলের সবজি খ্যাত পলাশবাড়ীতে এ বছর শীতকালীন সবজির বাজারে ধস নেমেছে। প্রায় প্রতিদিনই কমছে সবজির দাম। এক্ষেত্রে বাজার থেকে পাইকাড়রা সস্তায় কিনে বেশী দামে বিক্রি করলেও উৎপাদন খরচও উঠছে না কৃষকের ঘরে। অতি কষ্টে উৎপাদন করা এসব সবজির দাম কৃষকরা ভোগ করতে না পারলেও কয়েক হাত বদলের মাধ্যমে এই সবজি সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে তিন গুণ দামে।
পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী হাট ও ও মাঠের হাট সবজি বাজার ঘুরে শীতকালীন সবজির বর্তমান বাজারমূল্য সম্পর্কে এমন তথ্য জানা যায়। গাইবান্ধা ও বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ছাড়াও জেলা এবং উপজেলা শহর থেকে ব্যাপারীরা আসেন এ হাটে। কিনে নেন বছরের সব ধরনের সবজি।
এছাড়া পলাশবাড়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ানে ১২ মাসই বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন করে থাকেন কৃষকরা। তবে একটু বেশি লাভের আশায় কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষকে তুলনামূলক অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
উপজেলায় কিশোরগাড়ী সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ করা হয়। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়ানে কমবেশি সবজি চাষ করেন কৃষকরা।

সরেজমিনে সোমবার পলাশবাড়ীর সবচেয়ে বড় সবজি বাজার কালবিাড়ী হাট ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। জমিতে চাষ করা টাটকা সবজি বিক্রি করতে এসে অনেকটা বাধ্য হয়ে সস্তায় বিক্রি করে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা।
কালীবাড়ী হাট ঘুরে দেখা যায়, পুরো হাটের জায়গা ছাপিয়ে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের দুই পাশ ও পলাশবাড়ী সদরে যাওয়ার প্রবেশ পথে শুধু সবজি আর সবজি। দূর-দুরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা ছোট-বড় ট্রাক নিয়ে এসেছেন এ হাটে। আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় সবজি কেনার পর এখান থেকেই ট্রাক ভাড়া করে সেই সবজি নির্ধারিত গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন।
কালীবাড়ী হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা অভিরামপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল খালেক ও জামাল উদ্দিন জানান, ফুলকপি ৫ টাকা, সিম ও বেগুন ৫ টাকা, কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এই দামে সবজি বিক্রি করে হাটে আনতে ভ্যান ভাড়া এবং জমি থেকে ফসল উঠানোর খরচ হচ্ছে না। তাছাড়া বাধা কপি প্রতি পিছ ৪ টাকা, গাজর ১০ টাকা কেজি, টমেটো ৬ টাকা, বরবটি ৫টাকা, আলু ১৭ টাকা, মুলা ৫টাকা, কাচা মরিচ ১০ টাকা এবং পিয়াজ ১৭ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। কৃষক তাদের সবজির ন্যায্য দাম না পেলেও খুচরা বাজারে দুই থেকে তিনগুন বেশী দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকাড়রা সস্তায় কিনে বেশী দামে বিক্রি করে পোয়াবারোতে পরিণত হলেও কৃষকদের মাথায় হাত পড়ছে বলে সচেতনমহলেরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
খুচরা সবজি বিক্রেতারা দ্বিগুন মুল্যে সবজি বিক্রির কারণ হিসেবে বলেন, পরিবহন খরচ ছাড়াও পাইকারী হাটে সবজি কিনতে এবং খুচরা বাজারে সবজি বিক্রি করতে দুইবার খাজনা দিতে হয়। এছাড়াও কাচা সবজি পচনশীল হওয়ায় তাদের অনেক সবজি ঘাটতি হয়ে থাকে।
পলাশবাড়ী সবজি হাটের ফড়িয়া ব্যাবসায়ী মিন্টু ও আব্দুল খালেক জানান, তারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনলেও অতিরিক্ত খাজনা, পরিবহন খাতে অধিক ব্যয় ছাড়াও তাদের লাভ্যাংশ রাখার কারনে খুচরা বাজারে দুই থেকে তিন গুন দামে সবজি বিক্রি করতে হয়।
তারা জানান, পলাশবাড়ী হাট থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক সবজি রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। পলাশবাড়ী হাটের সবজির আড়ৎ সিদিদ্দক সততা বাণিজ্যালয় এর স্বত্বাধিকারী সিদ্দিক বলেন এ অঞ্চলে ব্যাপক সবজি চাষ হয়ে থাকে। এখন ভরা মৌসুম একারণে প্রতিদিনই দাম কমছে। কাঁচামাল হওয়ার কারণে কৃষক অনেক সময় বাধ্য হয়েই সস্তায় সবজি বিক্রি করে থাকে।

এদিকে সোমবার সকালে পলাশবাড়ীর মাঠের হাট পাইকারী সবজীর বাজারে আসা কৃষক সুমন ইসলাম, আব্দুল খালেক ও ছফের জানান, ফুলকপি ৮ টাকা, সিম ও বেগুন ৮ টাকা, কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে সবজি বিক্রি করে হাটে আনতে ভ্যান ভাড়া এবং জমি থেকে ফসল উঠানোর খরচ হচ্ছে না। ঠুটিয়া পাকুর হাট ঘুরে দেখা গেছে বাধা কপি প্রতি পিছ ৪ টাকা, গাজর ১৪ টাকা কেজি, টমেটো ১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বরবটি ৭ টাকা, আলু ১৭ টাকা, মুলা ৬ টাকা, কাচা মরিচ ২০ টাকা এবং পিয়াজ ১৮ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
পলাশবাড়ী কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলায় পুরো শীত মৌসুমে ৮০ হাজার মেট্রিক টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এবার সাড়ে ২ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করায় মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ৮০ হাজার মেট্টিক টনেরও বেশী সবজির ফলন হবে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *