পলাশবাড়ীতে ৪০ দিনের কর্মসূচীর শ্রমিকের টাকা ইউপি উদ্যোক্তার পকেটে

পলাশবাড়ীতে ৪০ দিনের কর্মসূচীর শ্রমিকের টাকা ইউপি উদ্যোক্তার পকেটে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে গত ৪ বছর যাবৎ আগে হতে ইজিপিপি কর্মসূচী খাদ্যের বিনিময়ে কাজ যেটা আমরা সকলে চিনি ৪০ দিনের কর্মসূচী । এ কাজে ইউনিয়নে ৩২৮ জন শ্রমিক কাজ করে। ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে দুটি গ্রামে এ কর্মসূচীর তালিকায় রয়েছে ২৮ জন শ্রমিক। এই ২৮ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মধ্যে ১৯ নং মাহমুদা পিতা তোতা মিয়া সাতারপাড়া পুরানো শ্রমিক ও ২৭৭ নং মর্জিনা বেগম স্বামী মেহেদুল সাতারপাড়া সেই হতে তারা এ কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন বা প্রদানকৃত অর্থ না পেলেও এ কর্মসূচী হতে প্রাপ্ত অর্থ তুলে নিয়েছে বেতকাপা ইউনিয়নের পরিষদের উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম ও ইকবাল হোসেন।
এ বিষয়টি পরিষদের সকলে জানে কিন্তু জানে এই তালিকার দুই শ্রমিকের টাকা নেয় এই দুই উদ্যোক্তা অথচ জানেনা সেই দুজন শ্রমিক। বছরের পর বছর তালিকাভুক্ত হয়ে প্রাপ্ত অর্থ উত্তোলন করে নিয়েছে এ দুই উদ্যোক্তা।বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান,আমি নির্বাচিত হওয়ার আগেই এ দুটি নাম উদ্যোক্তাদের দেওয়া হয়েছে তারা সেই হতে প্রাপ্ত অর্থ উত্তোলন করে। এসময় উক্ত ওয়ার্ডে কতজন শ্রমিক সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন গোটা ইউনিয়নে ৩২৮ জন শ্রমিক রয়েছে। ২ নং ওয়ার্ডে রয়েছে ২৮ জন। ইউনিয়নের এ কর্মসূচীতে চেয়ারম্যান হিসেবে আমার নিজের কোন নাম নেই। তবে আমার ইউনিয়ন সহ প্রতিটি ইউনিয়নে ইউপি সদস্যদের একাধিক নাম রয়েছে তারা সেই অর্থ গুলো উত্তোলন করে। আমি কর্মসূচীর প্রতিটি শ্রমিকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশি¬ষ্ট কমিটিকে সর্বদা বলে আশি।
এদিকে সরেজমিনে উক্ত ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকগণ কাজ করছেন। উপস্থিত শ্রমিকদের নিকট তাদের সময়কালে সর্বমোট সংখ্যা কতজন জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা এই ওয়ার্ডে মোট ২৫ জন শ্রমিক কাজ করি। তবে মর্জিনা ও মাহমুদ তারা কোন দিনই কাজে আসেনি। তবে তারা তালিকাভুক্ত শ্রমিক বটে।ইউপি সদস্যরা বলেন, দেখেন শুধু আমার এলাকায় নয় গোটা উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে কর্মসূচী চলাকালে আমাদের সংশি¬ষ্টি কর্মসূচীর অফিস খরচ তো আছেই এর উপর আবার আপনাদের সাংবাদিকদের আপ্যায়ন করতে ৫০ হতে ১০০ শত করে দিতে দিতে টাকা উত্তোলনের দিন প্রায় ২ হাজার টাকা প্রতিটি ইউপি সদস্যকে দিতে হয়। এ টাকা টা কোথায় পাবো আমরা ইউপি সদস্যরা । বিধায় এরকম দুই একটা নাম এভাবেই রাখতে হচ্ছে । আর অনউপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন দলীয় মনোনীত দরিদ্র কয়েকজন রয়েছে তারা সাধারণত কাজে আসেন না সে কারণে কর্মসূচীতে উপস্থিতির সংখ্যা অনেক সময় কম থাকে। তবে টাকা উত্তোলণের সময় সকলকেই সঠিক সময়ে পাওয়া যায়।
উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম টাকা উত্তোলনে কথা স্বীকার করে বলেন তিনি ও সহকর্মী ইকবাল এ দুই শ্রমিকের প্রাপ্ত অর্থ শুরু হতে উত্তোলন করে আসছেন। ভুক্তভোগী শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্ত অর্থ ও কাজ পেতে আগ্রহী। এজন্য তারা সংশি¬ষ্টদের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় সচেতন মানুষ গুলো বলেন, কি বলবো আপনাদের আপনারা এসব তথ্য নিয়ে অভিযুক্তদের নিকট গিয়ে বিক্রি করে খাবেন। গত কয়েকদিনে এ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের লাইন দেখা গেল কিন্তু আজ পর্যন্ত কিছুই হলো না বরং সাংবাদিক ভাইদের চা মিষ্টি পান সিগারেট খাওয়ার জোড় বেড়ে গেলো। সবাই বলাবলি করছে ইউপি সদস্য হাবিব এদুটি নামের অর্থ তুলে খায় আজ আপনাদের নিকট হতে সত্যতা জানা গেলো যে পরিষদের উদ্যোক্তারা তুলে খায়। যে খাক প্রাপ্ত অর্থ প্রকৃত নামধারি শ্রমিকেরা যাতে পায় সে দাবীই আমরা জানাই।
এবিষয়ে উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের এ কর্মসূচীর দেখভাল করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারি প্রকৌশলী রাসেল জানান,নাম দুটি তালিকাভুক্ত এবং তারা পুরাতন শ্রমিক। এরকম যদি ঘটে থাকে ঘটনাটি দেখে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় তিনি মোবাইলে ইউপি সদস্যকে উক্ত শ্রমিকদের কাজে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করেন।
এভাবেই চলছে পলাশবাড়ী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাজ শুধু আর প্রকল্পের মধ্যে অনিয়ম সীমাবদ্ধ নাই এখন আবার খাদ্যের বিনিময়ে কাজ তাতেও অনিয়মের ঘুণ ধরেছে । উপজেলা জুড়ে এ কর্মসূচীতে এভাবে প্রতিটি এলাকায় এমন চিত্র রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী বলেন,আমি নতুন যোগদান করেছি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে একজন শ্রমিককের টাকা অন্যজন তোলে নেওয়ার কোন ওয়ে নেই। এবং উদ্যোক্তারা কোনভাবে একজন শ্রমিকের টাকা উত্তোলন করতে পারেনি এটা বৈধ নয়।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *