পলাশবাড়ীর গলগন্ড (ঘ্যাগ) রোগীর সন্ধান লাভ

পলাশবাড়ীর গলগন্ড (ঘ্যাগ) রোগীর সন্ধান লাভ

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর পল্লীতে এক গলগন্ড (ঘ্যাগ) রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। পলাশবাড়ী উপজেলার ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কিশোরগাড়ী গ্রামের শচীন চন্দ্রের স্ত্রী চার সন্তানের জননী মিনি রানী (৬০) একজন গলগন্ড রোগী।

এ রোগের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিয়ের আগে থেকেই তার এ রোগটি ছোট আকারে দেখা যায়। অনেক ডাক্তার কবিরাজি চিকিৎসা করেও কোন ফল মেলেনি। পিতা হতদরিদ্র হওয়ায় বড় ডাক্তারের কোন চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হয়নি বলেও মিনি রানী দারিদ্রতাকে দায়ী করেন।

এর মাঝেই মিনি রানীর বিয়ে হয় কাশিয়াবাড়ী গ্রামের শচীন চন্দ্রের সাথে। সংসার জীবনে তিনি ১ মেয়ে ও ৩ ছেলের মা হন। বয়স বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে তার গলগন্ড ঘ্যাগ রোগটি বাড়তে থাকে। স্বামী সাধ্যনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়েও কোনো সুফল লাভ করতে পারেন নি। অপারেশন করে গলগন্ড (ঘ্যগ) টি কেটে ফেলতে চাইলে স্ত্রী’র ভয়ের কারনে তাও সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে মিনি রানীকে বিশাল আকৃতির এ গলগন্ড রোগটি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

এটি বয়ে বেড়াতে তার অনেক কষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে লজ্জায় পড়তে হয়, কিন্তু কোনো উপায় নেই, তাই তিনি খুব একটা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ও অপরিচিত লোকের সামনে পারতপক্ষে যেতে চান না। তবু এতো কষ্টের মাঝেও থাকেন হাস্যেজ্জ্বল।

আয়োডিনের অভাবজনিত কারনে গলগন্ড বা ঘ্যাগ রোগ হয় বলে ডাক্তররা জানলেও, মিনি রানী আয়োডিন কি তাই জানেন না। কি করেই বা জানবে..? দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, তিনি তো আর স্কুল কলেজে শিক্ষা লাভ করতে পারেন নি, তাই এ বিষয়ে না জানাটা তার দোষের নয়।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *