পার্বতীপুরের একমাত্র সিনেমা হল উত্তরা টকিজ বন্ধ হয়ে গেল

পার্বতীপুরের একমাত্র সিনেমা হল উত্তরা টকিজ বন্ধ হয়ে গেল

আল মামুন মিলন , পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ভাগ বাটোয়ারা ভাল ছবি প্রদর্শন না হওয়ায় দর্শক চাহিদা কমে যাওয়া সহ নানা অবস্থাপনার কারনে বন্ধ হয়ে গেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার একমাত্র সিনেমা হল উত্তরা টকিজ । ফলে আর কোন বড় পর্দার বিনোদন কেন্দ্র থাকলোনা সংস্কৃতি মনা মানুষদের জন্য ।
জানা যায়, ১৯৮৫ সালে পার্বতীপুর পৌর শহরের নতুন বাজারে যৌথ মালিকানায় নির্মান করা হয় উত্তরা টকিজ নামে এই সিনেমা হলটি। এক সময় সিনেমা হলটি ছবি প্রদর্শনে জৌলুস ছড়াতো শহর থেকে গ্রাম গঞ্জ পর্যন্ত। এমনকি পার্শ্ববর্তী বদরগঞ্জ ও চিরিবন্দর উপজেলা থেকেও ছবি উপভোগের জন্য দর্শক সমাগম ঘটত হলটিতে। আত্বীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব ও পরিবার পরিজন নিয়ে সিনেমা হলে ছবি দেখার কদর ছিল বছর কয়েক আগেও । সাধারন দশৃক শ্রোতার ভীড় ছিল লক্ষ্যনীয় । দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার উৎসব ছিল কাউন্টারের সামনে । অনেকে অগ্রীম টিকিট বুক করত কাউন্টার থেকে। ঘাম ঝরিয়ে টিকিট কাটা কষ্টসাধ্য হলেও ভাল ছবি উপভোগ করে তা পুষিয়ে নিত দর্শক । ছবির বিরতীতে শীষ দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগী করত শ্রতারা । এ সময় বুট বাদাম সহ নানা মুখরোচক খাবার ও আইসক্রীম বিক্রেতারা চলে আসত হলের ভিতর । ভাল হলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলত ছবির প্রদর্শন । এসব নামি-দামি ছবির মধ্যে বদনাম সারেন্ডার নসিব ঝিনুকমালা বেদের মেয়ে জোসনা আম্মাজান কেয়ামত থেকে কেয়ামত ইত্যাদি। পরবর্তীতে হলটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সিনেমা হল সংলগ্ন সড়কটির নামকরন করা হয় উত্তরা টকিজ রোড । যার পুর্বনাম ছিল চাউল হাটি রোড ।

কালক্রমে সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা টাকার ভাগ বাটোয়ারা ভাল ছবির বীপরিতে অশ্লীল ছবি প্রদর্শন আপত্বিকর কর্মকান্ড সহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। এতে দর্শক চাহিদা কমতে থাকে । ফলে হল কর্তৃপক্ষ সিনেমা হলের প্রধান ফটকে তালা মেরে বন্ধ করে দেন এর কার্যক্রম । এদিকে সিনেমা হলটি বন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ে সেখানকার কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীরা। জনসমাগম না থাকায় সিনেমা হল রোডের শতাধীক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সাধারন দোকানপাটের ক্রয়-বিক্রয় তেমন ভাল চলছে না। সিনেমা হল সংলগ্ন মনিহারি দোকান মালিক নজরুল ইসলাম জানান, আগের মত দোকানে বেচা বিক্রি নেই কোন রকম চলে যাচ্ছে এই। অনুরুপ মন্তব্য করে মুদি ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সিনেমা হলের সুবাদে অনেকে নতুন নতুন দোকান পাট চালু করেন এখানে হলটি বন্ধ হলে সব ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। হল বন্ধের বিষয় নিয়ে মালিক পক্ষের রেহেনা খাতুনের সাথে কথা হলে জানান, দর্শক চাহিদা কমে যাওয়ায় এটি বন্ধ করা হয়েছে। সংস্কৃতি ব্যাক্তিত্ব প্রগতি সংঘের সাধারন সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেন, ভাল কিছু সবসময় দর্শক প্রিয়তা পায় কখনও দর্শক চাহিদার বীপরীত অবস্থায় তা ফিরিয়ে নেন। সিনেমা হলটি বন্ধ হওয়ায় দুঃখজনক বলে পার্বতীপুরের সংস্কৃতিক অঙ্গনের এটি একটি নক্ষত্রের পতন বলে মনে করেন সচেতন মহল । আবার কেউ কেউ এটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *