পার্বতীপুরে বাড়ি লকডাউন করতে বলায় প্রধান শিক্ষকের ভূয়া নামে মামলা, হয়রানির চেষ্টা।

পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী। পার্বতীপুরে বাড়ি লকডাউন করতে বলায় প্রধান শিক্ষকের ভূয়া নামে মামলা, হয়রানির চেষ্টা।

বিশেষ প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের খাগড়াবন্দ পল্লিতে গাছের শিকড় কাটা নিয়ে চাচাতো-মামাতো ভাইদের সংঘর্ষ পরবর্তীতে হাসপাতাল ফেরৎ আহত রোগীদের করোনা সংক্রমন এড়াতে তাদের বাড়ি লকডাউন করতে বলায় প্রধান শিক্ষকের ভূয়া নামে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। করোনা কালিন সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতরা ভাইরাস বহন করতে পারে আশঙ্খায় তাদের বাড়ি লকডাউন করার জন্য একই মহল্যার সমাজ সচেতন ব্যাক্তিত্ব্য মৌলভীর ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নিকট প্রস্তাব করায় মোঃ হাসিনুর রহমান পার্বতীপুর মডেল থানায় বাদী হয়ে ৬ জনের নামে একটি হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করে। এই মামলায় প্রধান শিক্ষকের কাল্পনিক ভূয়া নাম ব্যবহার করে তাকে হুকুমের আসামী হিসেবে এজাহারে ৬ নম্বর তালিকায় সম্পৃক্ত করা হয় যার মামলা নং ০৫/১৩৪ তাং ০৫/০৫/২০২০ইং। জানা গেছে পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের খাগড়াবন্দ মৌলভীর ডাঙ্গা মহল্লায় ২৪/০৪/২০২০ইং তারিখে গাছের শিকড় কাটাকে কেন্দ্র করে মৃতঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ হাসিনুর রহমান ও মোঃ সাইদুল হক পুত্র বধু মোছাঃ লাকি বেগম, মোছাঃ মরিয়ম, মেয়ে মোছাঃ সোহাগি বানু (টুনি), স্ত্রী হাজেরা বেওয়া প্রতিবেশী মৃতঃ জাহাদ আলীর ছেলে মোঃ হানিফ আলীর সঙ্গে বাক যুদ্ধের এক পর্যায়ে তারা সমবেত হয়ে হানিফ আলীর প্রাচীরের দরজায় এসে লাটি সোটা নিয়ে তাকে হামলা চালায়। এসময় হানিফকে বাচাঁতে তার দুই ছেলে মোঃ সাফিকুর ইসলাম ও মোঃ শাকিল হোসেন, স্ত্রী মোছাঃ হাবিবা খাতুন এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্য সংঘর্ষে আহত সাফিকুল, শাকিল, হানিফকে ফুলবাড়ি উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স এ এবং হাসিনুরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
হানিফ আলী পক্ষ হাসপাতাল থেকে ফেরার পর স্থানীয় পুলিশ ফাড়িতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ উভয় পক্ষকে বসার জন্য ফাড়িতে আহব্বান জানান। উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা চলমান সময় হাসিনুর গং ৩ দিন সময় চেয়ে নেয় এবং সমঝোতার কথা বলে পার্বতীপুর থানায় মামলা দেয়। এ বিষয়ে ১০ নং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি শাহাবুদ্দিন শাহ্ বলেন, হানিফ আলী বনাম হাসিনুর মামাতো-ফুপাতো ভাই এবং নিকট আতœীয় তাদের পারিবারিক বিরোধে একজন প্রধান শিক্ষককে হয়রানিমূলক ভাবে জড়ানোয় আমি ও আমার দলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে ঐ শিক্ষকের নাম প্রত্যাহারের আহব্বান জানাচ্ছি, কেননা হাবিবুর রহমান একসময় দ্বায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় সোচ্চার ছিলেন। একই মহল্লার মুদী দোকানদার মোঃ ছলিম উদ্দিন জানান, সংঘর্যের সময় আমার দোকানে আমি সহ অনেকেই প্রত্যক্ষ দর্শী ছিলাম। অথচ পুলিশ তদন্তে এসে আমাদের কোন জবানবন্দী নেয়নি, এবং হাবিবুর মাষ্টার ঐ ঘটনায় বিন্দু মাত্র জড়িত ছিলনা। মামলার ৩ নং স্বাক্ষী মোঃ আশেক আলী বলেন, আমাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে আমি নিজেও জাািন না। তবে প্রধান শিক্ষককে জড়ানো অহেতুক হয়রানির চেষ্টা। প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষ দর্শী মোঃ লালমিয়া, লালচান, নূর ইসলাম, আফজাল হোসেন, ওমর ফারুক, সাখাওয়াত হোসেন, শাকিল, শাহিনা, শাহিদা, ফুলবাবু, রবিউল, জয়বানু, রাজ্জাক, ওহিদুল, হাসান, কবিরুল জানান- ঘটনা ঘটেছে হানিফ আলীর খলাতে অথচ এজাহারে বলা হয়েছে হাসিনুরের বাড়িতে যা আদেী সত্য নয়। তা ছাড়া হাবিবুর মাষ্টার ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলনা। পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী করেন মহল্লাবাসী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক বলেন, মামলায় আমার নাম অর্šÍভুক্ত দুঃখ জনক। বাদী হাসিনুর রহমান নিশ্চই কারো প্ররচনায় এমন ভূল কাজ করেছে। যেহেতু করোনার কারনে আদালত বন্ধ আছে পুলিশ নিশ্চই বাস্তবতার আলোকে দ্বায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় ওদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্য হয়েছে আমি বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি কিন্তু বাদী আপসের কথা বলে সময় নিয়ে প্রতারনা মূলক ভাবে মামলা করেছে। এই মামলায় প্রধান শিক্ষককে জড়ানোর কোন যুক্তিকতা নেই, অবশ্যই তার নাম প্রত্যাহার করতে হবে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ বাকের হোসেন মাষ্টার বলেন, হাবিবুর রহমান শুধু একজন প্রধান শিক্ষক নন তিনি মৌলভীর ডাঙ্গা শাহী জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি তাকে নিয়ে নোংরা মামলা করার কোন যুক্তিকতা নেই।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *