পার্বতীপুরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাড়ে ৯ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ দুদকে !

পার্বতীপুরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাড়ে ৯ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ দুদকে !

আল মামুন মিলন, পার্বতীপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এবার সাড়ে ৯ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে আইনুল হুদা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। দিনাজপুর দুর্নিতী দমন কমিশনে ( দুদক) এই লিখিত অভিযোগটি করেছেন মাদ্রাসার দাতা সদস্য মো. আফসার আলী।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, আইনুল হুদা ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে প্রতিষ্ঠানে আধিপত্ত বিস্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্নভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠতে থাকে। মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ালখুশি মত যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছেন। অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪শ ২৯ টাকা আত্মসাত করে। মাদ্রাসার অর্থ আতœসাত ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দেয়ার নাম করে পাশ্ববর্তী চিরির বন্দর উপজেলার মাহামুদপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা লুফে নেন। চাকুরিতো দুরের কথা আজ অবদি টাকাও ফেরত পাননি ইদ্্িরস আলী। গত ২৬/০৪/ ২০১৫ইং তারিখে মাদ্রাসার বিভন্ন ব্যায় দেখিয়ে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে(স্নাতক পর্যায়ে) ১৩ জন শিক্ষার্থীর বিতরনকৃত উপবৃত্তির ১৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।স্নাতক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীরা টাকা আত্মসাতের বিষয়ে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন । অভিযোগের প্রেক্ষীতে মাধ্যমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা স্নাতক (পাশ)
ও সমমান পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প ( ১ম সংশোধিত) এর তদন্ত কর্মকর্তা মুহাঃ মোনায়েবরুর রশিদ অভিযোগগুলো তদন্ত করে শংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন।পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (বিশেষ) মোহছেনা বেগম স্বারক নং মাউশি/ তফতসপিটি/ বিঃবিঃ(অংশ-০১/৮৪/২০১৬/ ১৫১৮, তারিখ ২৯/৬/২০১৬) সালে তদন্ত পুর্বক কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন।পরে মাধ্যমকি ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর সৈয়দ মো. মোজাম্মেল হক ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধিশাখা ১৩( এমপিও) বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপ- সচিব নুসরাত জাবীন বানু তদন্ত করে মহাপরিচালকের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। এসব তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক এবং এমপিও বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়। রহস্যজনক কারনে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমুলক ব্যাবস্থা নেননি কর্তৃপক্ষ। অবশেষে প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য আফসার আলী গত ৩১ আগস্ট দিনাজপুর দুর্নিতী দমন কমিশনে একটি লিখিত আভিযোগ করেন।বিষয়টি নিয়ে কথা হলে অধ্যক্ষ মো. রিয়াজুুল ইসলাম বলেন, দুদকে করা অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *