পীরগঞ্জের নির্বাচিত জয়িতারা

পীরগঞ্জের নির্বাচিত জয়িতারা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ২০১৮ সালের নির্বাচিত জয়িতাদের জীবন কাহিনী
* অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী ঃ পৌরসভার প্রজাপাড়া গ্রামের সাবিনা ইয়াছমিন বিন্দু সাধারন গৃহিনী থেকে ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যোগের কারণে তিনি আজ হয়ে উঠেছেন নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা। তার মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা থেকেই গ্রীণ ভিশন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড গঠন করেন। যা জেলা সমবায় কার্যালয়, রংপুর হতে নিবন্ধন প্রাপ্ত হয়। ধীরে ধীরে সংস্থাটি উপজেলার ক্ষুদ্র ঋণ, স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি, গাছের চারা বিতরণ, মাদক ও বাল্যবিবাহ সেমিনার, পরিবহন সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে তার সংস্থায় ১৫-২০ জন লোক চাকরী করছেন।

* শিক্ষা ও চাকরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ঃ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত হলেও লেখাপড়ার স্বপ্ন দমে যায় নাই রেবেকার। শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ, নিজের বাল্যবিবাহ ভেঙ্গে দিতে সাহস যুগিয়েছে। পিতার অবর্তমানে নিজে লেখাপড়া করে এমএ পাস করেছেন। পাশাপাশি ছোট ভাই-বোনদের লেখা পড়া চালিয়েছেন। এক সময় মানুষের সেবা করার জন্য সংরক্ষিত ইউপি মহিলা সদস্য আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছেন। এভাবে তিনি সমাজে অন্য নারীদের কাছে শিক্ষা ও উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়ে হয়ে উঠেছেন জয়িতা।

* সফল জননী নারী ঃ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের লায়লা খাতুন বাবার বাড়ী থেকে স্বামীর সংসার পর্যন্ত সব খানেই অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করেছেন। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার ও ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো কষ্ট হয়ে পড়ে। কিন্তু তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ছেলে-মেয়েরা সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে। বড় মেয়ে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে মৎস্য ক্যাডারে চাকরি করছেন। অন্য দুই সন্তানও কৃতিত্বের সাথে পড়ালেখা করছে। অভাব অনটনের মধ্য থেকেও সন্তানদের প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে দিয়েছেন বলেই তিনি সফল জননী।

* নির্যাতনের বিভিষীকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা নারী ঃ রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় মজিদপুর গ্রামের নাইস সুলতানা অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন অবস্থায় কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই বাল্যবিবাহের শিকার হন। সংসার জীবন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় নেশা ও জুয়া খেলায় আসক্ত স্বামীর কাছে যৌন ও শারিরীক নির্যাতনের শিকার হন। দিনের পর দিন নির্যাতন সহ্য করলেও ভেঙ্গে পড়েন নাই। উন্নয়নের আশায় এনজিওর সদস্য হন। স্বামীকে বুঝিয়ে সঠিক পথে পরিচালনা করেছেন। নিজের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেছেন। দুই সন্তানকেও মাস্টার্স পাস করিয়েছেন। নির্যাতনে থেমে না গিয়ে জীবন যুদ্ধে তিনি হয়েছেন জয়িতা।

* সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ঃ রামনাথপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর গ্রামের শাপলা বেগম সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার ও নারী পুরুষের বৈষম্যতাকে ভাবিয়ে তোলে। এসব সমস্যা দুর করার জন্য তিনি তাগিদ অনুভব করেন। এজন্য প্রথমে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য প্রার্থী হন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভও করেন। তিনি তার গ্রামে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি শিশুদের জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি স্কুল স্থাপন করেন। সেখানে ১৯৪জন শিশু অধ্যয়নরত রয়েছে। শতরঞ্জি ও হস্ত কুটির শিল্পের মাধ্যমে বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। বাল্যবিবাহ, মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য তৃণমুলে অনেক কাজ করে যাচ্ছেন। এভাবেই তিনি সমাজ উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *