পীরগঞ্জে ঝিঙ্গার সাথে সাথী ফসল আদা চাষ লাভজনক

পীরগঞ্জে ঝিঙ্গার সাথে সাথী ফসল আদা চাষ লাভজনক

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ আদা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে সবজি চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। আদার সঙ্গে লাউ, ঝিঙ্গা, ধুন্দল,পটল ও চাল কুমড়া চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন চাষীরা।
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ধান, মৌসুমী ফল, শাক-সবজি ও মসলা চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দু’ফসলি-তিন ফসলি এসব জমিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে মৌসুমভিত্তিক চাষাবাদ ও পরিচর্চা করে আর্থিক স্বচ্ছলতা পাচ্ছে কৃষক।
বিগত বছরগুলোয় পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করেছেন, যার মধ্যে ছিল পটল, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, লাউ, বেগুন, ঝিঙা, করলা,কচু ও বিভিন্ন ধরনের শাক।
আদা চাষে ছায়ার প্রয়োজন হয় বলে জমিতে ঝিঙ্গা. লাউ, পটল চাষের মাচা তৈরি করে সাথী ফসল হিসেবে আদা চাষ করে খুব সহজেই লাভবান হওয়া সম্ভব। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদা চাষের সঙ্গে একই জমিতে নিয়ম অনুযায়ী লাউ, ঝিঙ্গা, পটল চাষ করে সফলতা আসায় এ পদ্ধতিতে ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এখানকার কৃষকরা।
পীরগঞ্জ উপজেলার করতোয়া, আখিরা নদী ও খাল বিলের পার্শ্বের জমিতে শাক-সবজি চাষের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। করতোয়া নদীর তীরবর্তী পার বোয়ালমারী গ্রামের সফিকুল ইসলাম এবছর ৩০ শতাংশ জমিতে একই সঙ্গে ঝিঙ্গা ও আদা চাষ করেছেন।
মাচায় ঝিঙ্গা এবং মাটিতে আদা। গত ৩ বছরে এ পদ্ধতিতে ঝিঙ্গা, পটল ও আদা চাষের মাধ্যমে ভালো মুনাফা পেয়েছেন তিনি। লাভজনক হওয়ায় এবছর তিনি ৩০ শতাংশ জমিতে ঝিঙ্গার মাচার নিচে একইসঙ্গে প্রায় ৪ মণ আদা লাগিয়েছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেল- বর্তমানে ঝিঙ্গার মাচার নিচে কিছু ঝিঙ্গা ঝুলছে। সেইসঙ্গে রোপনকৃত আদা গাছ গুলোও বেশ বড় হয়েছে।
সফিকুল ইসলাম জানান, এখানে শ্রমিক মজুরি, সার প্রয়োগ, সেচ খরচ ও শ্রমিক খরচ বাদে ৩০ শতাংশ জমি থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাদেকুজ্জামান সরকার জানান,একই জমিতে স্বল্প খরচে একাধিক ফসল চাষে কৃষকেরা অধিক লাভবান হচ্ছেন, এবং এই শস্য বিন্যাস অন্যান্য কৃষকেরা দেখে তারাও এইভাবে ফসল চাষ করতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *