পীরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সিলগালা অতপর রাতের বেলায় তালা খোলা

পীরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সিলগালা অতপর রাতের বেলায় তালা খোলা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিনের নেতৃত্বে পীরগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝটিকা অভিযান চলে। এ সময় মোহনা প্যাথলজিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সিলগালা করে দেয়। রাতেই প্রতিষ্ঠানের মালিক মিঠু সিলগালা ভেঙ্গে তালা খুলে বসে । এটি কতটা আইন সম্মত এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।
সূত্রে জানা যায়, ওই দিন যথাসময়ে লাইসেন্সের মুলকপি দেখাতে না পারায় যায় যায় দিনের পীরগঞ্জ প্রতিনিধি সেবু মোস্তাফিজের মালিকানাধীন সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। এদিকে কোন কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও জেনারেল হাসপাতালের মাত্র ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে মোহনা প্যাথলজি, জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মর্ডাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ডক্টরস পয়েন্ট তাৎক্ষণিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। ওই সময় মোহনা প্যাথলজিকে সিলগালা করলেও রহস্যজনক কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করা হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যাওয়ার পর তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে আবারও প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা চালিয়ে যায়। এদিকে মোহনা প্যাথলজির মালিক বৃহষ্পতিবার রাতেই নিজে সিলগালা করা তালা খুলে ফেলে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে। এ বিষয়ে মোহনার মালিক মিঠু মিয়া জানান, ইউএনও এর অনুমতিতে সে নিজে তালা খুলেছে। এ বিষয়ে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিএমএ মমিন বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্টার রুহুল আমিন বুলেটকে দায়িত্ব দিলে তিনি তালা খোলার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে ডাক্টার রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করে বিধি সম্মতভাবে সিলগালা করা তালা খোলা হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় সিলগালাকৃত প্রতিষ্ঠানের তালা খোলা হয় এক্ষেত্রে সেটি মানা হয়নি। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মিঠু মিয়া রাত ৯টার দিকে তার সাথে সাক্ষাৎ করলে ইউএনও সাহেবের নির্দেশ মত তিনি তালা খোলার নির্দেশ দেন। সারাদিনের নানা ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন নি। তিনি আরো বলেন এটি ঠিক হয়নি। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে একক ভাবে তালা খোলার নির্দেশ দিয়ে মেয়াদ উর্ত্তীণ রিয়েজেন্টসহ অবৈধ কোন কিছু সরিয়ে ফেলার সুযোগ করে দিয়ে আইন লংঘন করা হয়নি এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাহলে এর প্রতিকার কি এমন প্রশ্নের জবাবে ডাক্টার রুহুল আমিন জানান ইউএনও এর সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন-রংপুর ডাক্টার হিরম্ব কুমার রায় এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিয়য়টি গুরুত্বসহ দেখা হবে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *