প্রথম ধাপে ১৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এশিয়ান পেইন্টস

প্রথম ধাপে ১৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এশিয়ান পেইন্টস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের কারখানা নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।প্রথম ধাপে কোম্পানিটি ১৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। রঙ ও রঙের কাঁচামাল উৎপাদন করা হবে এ কারখানায়। এতে কয়েকশ লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে রঙের দাম কমে আসবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।দিন যত গড়াছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সোনাগাজীর ৩০ হাজার একর জমিতে নির্মীয়মাণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর তত বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। বাড়ছে বিনিয়োগ। বাড়ছে কর্মসংস্থান। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ম্পানির অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।এছাড়া জমি বরাদ্দ পাওয়া আরো অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। চলতি মাসে চীনভিত্তিক কোম্পানি জেনিয়ান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এরই মধ্যে ৫৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।জমি পাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড অন্যতম। সম্প্রতি এশিয়ান পেইন্টসের কারখানার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, এশিয়ান পেইন্টসের ব্যবস্থাপক ঋতিশ দোষীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এশিয়ান পেইন্টস সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ২০ একর জমি নিয়েছে ভারতীয় এ শিল্পপ্রতিষ্ঠান।এরই মধ্যে জমির মাটি ভরাট ও সীমানা প্রচীরের কাজ শেষ হয়েছে। শুরু হয়েছে কারখানার অবকাঠামো নির্মাণকাজ। এখানে কয়েকটি ধাপে কাজ করবে এশিয়ার অন্যতম রঙ উৎপাদনকারী এ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রথম ধাপে তিন-চার বছরের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। প্রথম ধাপের বিনিয়োগের পর বাজার ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় ধাপের কাজ করবে এশিয়ান পেইন্টস। ওই পর্যায়েও দুই বছরের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।জানা গেছে, ২০২১ সালের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে যাবে। বছরে উৎপাদন হবে ৩০ হাজার কিলোলিটার রঙ।প্রথম ধাপের কাজের পর প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে প্রায় ৩০০ জন দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজন পড়বে। প্রতিষ্ঠানটি শুধু রঙ নয়, রঙ উৎপাদনের কাঁচামালও তৈরি করবে। নিজেদের কারখানায় উৎপাদিত কাঁচামাল দিয়ে রঙ তৈরির ফলে বাংলাদেশের বাজারে এশিয়ান পেইন্টসের দাম কমে যাবে।উল্লেখ্য, ২০০২ সালে কনফিডেন্স সিমেন্টের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশে যাত্রা করে।বর্তমানে গাজীপুরে এশিয়ান পেইন্টসের একটি কারখানা রয়েছে। এছাড়া ৬৪ জেলায় রয়েছে ১ হাজার ৫০০ ডিলার।এশিয়ান পেইন্টসের ব্যবস্থাপক ঋতিশ দোষী বণিক বার্তাকে বলেন, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০ একর জায়গার ওপর এশিয়ান পেইন্টসের দ্বিতীয় কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। যেখানে রঙ ছাড়াও রঙ তৈরির উপকরণ উৎপাদন করা হবে, যা বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে কারখানাটি উৎপাদনে যাবে। এশিয়ার সবচেয়ে বড় রঙ তৈরির কারখানা হবে এটি।বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে।বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে এখানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক, সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করবে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *