প্রাণী স্বল্পতা ॥ নিরাশ দর্শনার্থীরা জৌলুস হারিয়েছে রংপুর চিড়িয়াখানা

প্রাণী স্বল্পতা ॥ নিরাশ দর্শনার্থীরা জৌলুস হারিয়েছে রংপুর চিড়িয়াখানা

পর্ব – ১

জয় সরকার
রংপুর অঞ্চলের সর্ববৃহৎ বিনোদন উদ্যান রংপুর চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা ও আয় বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি পশু-পাখির সংখ্যা। স্বল্প সংখ্যক পশু-পাখি থাকলেও খাবার অভাবে ন্যুয়ে পড়েছে সেগুলো। দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই তাদের সন্তানদের পশু-পাখিদের সাথে পরিচিত করিয়ে দিতে এসে পর্যাপ্ত পশু-পাখি না থাকায় নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি অর্থবছরে রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার মতো আয় হয়। যা আগের তুলনায় অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, আয় বৃদ্ধি পেলেও বিণোদন প্রিয় মানুষের নিত্য নতুন প্রাণী দেখার আকাক্সক্ষা থাকছে অধরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ রংপুর চিড়িয়াখানায় একই পশু-পাখি দেখে আসছে। এর কোনো পরিবর্তন নেই। এছাড়া দিন যত যাচ্ছে এখানকার পশু-পাখিরাও হারাচ্ছে তাদের প্রাণচাঞ্চল্য। আর সাধারণ দর্শনার্থীরা এসব দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই তাদের সন্তানদের পশু-পাখিদের সাথে পরিচিত করিয়ে দিতে এসে পর্যাপ্ত পশু-পাখি না থাকায় নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ বিণোদন উদ্যান রংপুর চিড়িয়াখানা হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। কিন্তু বাড়েনি পশুপাখির সংখ্যা। বর্তমানে রংপুর চিড়িয়াখানায় ২টি সিংহ, ১টি বাঘ, ১টি জলহস্তি, ২টি কুমির, ২টি অজগর, ৩টি ময়ুর, ১টি ভাল্লুক, ১টি কেশোয়ারী, ১টি ঘোরা, ১টি হনুমানসহ ২৬ প্রজাতির মাত্র ২১৫ টি পশু পাখি রয়েছে। বেশ কিছু প্রাণীর খাঁচা থাকলেও সেগুলো শুন্য পড়ে আছে। বিশ^স্ত সূত্রে জানা যায়, চিড়িয়াখানায় পশুপাখি রাখার অবকাঠামোর তেমন পরিবর্তন করা হয়নি। চিড়িয়াখানায় রাখা পশু-পাখিগুলোর তেমন পরিচর্যাও করা হয়না। এছাড়া, বন্দী এসব প্রাণীর জন্য উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত খাবারের সরবরাহ করা হয় না। এতে, ভিন্ন পরিবেশ ও খাবারের অভাবে বিভিন্ন সময় মারা গেছে অসংখ্য পশু পাখি। বর্তমানে যেসব পশুপাখি আছে সেগুলোও খাবারের অভাবে ন্যুজ¦ হয়ে পড়েছে।
কথা হয় চিড়িয়াখানা ঘুড়তে আসা মুসতাক আহমেদ ও বিউটি বেগম দম্পতি’র সাথে। তারা জানান, সন্তানদের নিয়ে কয়েক বছর থেকে নিয়মিত চিড়িয়াখানায় আসেন তারা। একই প্রাণী দেখতে দেখতে বর্তমানে চিড়িয়াখানায় আসার শখ অনেক কমে গেছে। চিড়িয়াখানায় সপরিবারে আসা আনারুল ইসলাম জানান, ছুটির দিনে শিশুদের নিয়ে নিয়মিত চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসেন। এখানে ঘুরতে এসে বাচ্চারা আনন্দ পায় । তবে আরও অধিকসংখ্যক প্রাণী রাখা গেলে চিড়িয়াখানার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেত। এতে শিশুদের আনন্দও বেড়ে যেত। রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এসএম সুজন মিয়া বলেন, বড় প্রাণী চিড়িয়াখানায় নেই বললেই চলে। এছাড়া ঘুঘু, কবুতরের মতো সাধারণ পাখিগুলো দিয়ে খাঁচা ভরিয়ে রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডাঃ জসিম উদ্দিন বলেন, চিড়িয়াখানায় নতুন নতুন প্রাণী আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঢাকা চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। এছাড়া আমি এ চিড়িয়াখানার দায়িত্বগ্রহণ করার পর নিজ উদ্যোগে স্থানীয় বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে হনুমান, ঘোড়া, বন বিড়ালসহ বেশ কিছু পশু-পাখি চিড়িয়াখানায় এনেছি। যা এর আগে এ চিড়িয়াখানায় ছিলো না।
প্রসঙ্গত, রংপুর চিড়িয়াখানা বাংলাদেশের একটি অন্যতম চিড়িয়াখানা এবং রংপুর মহানগরীর প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। ১৯৮৮ সালের ১৪ আগস্ট রংপুর মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র পুলিশ লাইন স্কুল এ্যান্ড কলেজের সামনে ২২ দশমিক ১৭ একর জমির উপর ১ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার টাকা ব্যয়ে রংপুর চিড়িয়াখানার নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং নির্মাণ কার্যক্রম শেষে ১৯৯১ সালের ১৪ জুন এটি জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *