বন্যার পানি ঢোকায় সাঘাটায় ৪৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

বন্যার পানি ঢোকায় সাঘাটায় ৪৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল সহ বন্যা কবলিত গ্রাম গুলোর ৪৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাময়িক পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে যমুনায় পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। উপজেলার ৪ ইউনিয়নের ২৫ টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সরে জমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বাংশে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সাঘাটা ইউনিয়নের উত্তর সাথালিয়া গ্রামের সোনাইল বাঁধ বন্যার ¯্রােতে ভেঙ্গে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত শনিবার থেকেই বন্যার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তায় পানি উঠতে শুরু করে। স্কুলগুলোতে পানি ওঠার ফলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসার পরিবেশ নেই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, বেড়া, গাড়ামারা, দীঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি, গুয়াবাড়ি, কালুরপাড়া, কানাই পাড়া, কুমারপাড়া, জুমারবাড়ি ইউনিয়নের কাঠুর, থৈকরের পাড়া, র্প্বূ আমদির পাড়া, ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল, খামার পবনতাইড়, সাঘাটা ইউনিয়নের হাটবাড়ি, গোবিন্দী, বাঁশহাটা, দক্ষিণ সাথালিয়া, হাসিলকান্দি, ভরতখালি ইউনিয়নের ভরতখালী, বরমতাইড় ও ভাঙ্গামোড়সহ বন্যা কবলিত গ্রাম গুলোর ৩৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিঘলকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেনীকক্ষে পানি ওঠায় ক্লাশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিদ্যালয় ভবন গুলোতে পাঠদানের পরিবেশ নেই। কবলিত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো গত রোববার থেকে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো মোখলেছুর রহমান জানান, গত ১২ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি ১৮ সে.মি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সাঘাটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু জানান, সরকারীভাবে বন্যা দূর্গত এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে ৫০ মে.টন চাল ও শুকনা খাবার চেয়ারম্যানদের বিতরণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *