বিরামপুরে অনভিজ্ঞ ডাক্টার দিয়ে সিজার করায় শিশুর মৃত্যু ॥

শৈলকুপায় সাপের কামড়ে দুই ভাই'র মৃত্যু !

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের বিরামপুরে নিউ মডার্ন ক্লিনিকে অনবিজ্ঞ ডাক্টার দিয়ে সিজার করায় শিশুর মৃত্যু। দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ঝগড়–পাড়া গ্রামের মেহের আলীর পুত্র মোঃ রুজু আহম্মেদ এর দিনাজপুর সিভিল সার্জেন অফিসে নিউ মডার্ন ক্লিনিক এর সত্ত্বাধিকারী প্রোঃ মোঃ জিল্লুর রহমান ও জয়পুর হাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সহিদ এর বিরুদ্ধে গত ৮ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগে জানা যায় মোঃ রাজু আহম্মেদ এর স্ত্রী অন্তঃসত্তা মোছাঃ রূপালী আক্তার সুবর্ণা’র (২৫) শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে শ্বাশুড়ি মোছাঃ দিলপী আরা গত ০৩/০৯/২০১৯ই তারিখে স্ত্রী কে নিউ মডার্ণ ক্লিনিক বিরামপুরে নিয়ে যায়। নিউ মর্ডাণ ক্লিনিক এর মালিক মোঃ জিল্লুর রহমান ও ডাঃ সহিদ বলেন, যে ১ ঘন্টার মধ্যে সিজার না করলে আপনার কন্যা এবং তার গর্ভের সন্তানকে বাচাঁনো সম্ভব হবে না বলে শ্বাশুড়ি মোছাঃ দিলপী আরা কে জানিয়ে দেন। দিলপী আরা সরল বিশ্বাসে জীবন রক্ষার্থে তৎক্ষনাত রাজুর স্ত্রী কে ঐ ক্লিনিকে ভর্তি করে দেন। আলট্রাস্নোরিপোর্টে তার স্ত্রীর ডেলিভারীর তারিখ ছিল ২৪/০৯/২০১৯। সিজার করার পূর্বে রাজুর শ্বাশুড়ির নিকট থেকে আলট্রাস্নো রিপোর্টের কাগজ কেড়ে নেয় এবং ০৩/০৯/২০১৯ ইং তারিখে তার স্ত্রী রূপালী আক্তার সুবর্ণার সিজার করান ডাঃ সহিদ। ডাঃ সহিদ প্রসুতির সিজার করার বিষয়ে পারদর্শী চিকিৎসক ছিলেন না। তিনি মূলত গোল্ড ব্লাডার অপারেশন করান। অর্থের বিনিময়ে আলট্রাস্নো রিপোর্টে সন্তান প্রসবের তারিখ ২৪/০৯/২০১৯ উল্লেখ্য থাকার পরেও ০৩/০৯/২০১৯ ইং তারিখে সিজারের মাধ্যমে তার স্ত্রীর অপেক্ষাকৃত দুর্বল সন্তান প্রসব করান। ঐ সন্তানের শ্বাসকষ্টসহ তাহাকে হীড দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। নিউ মডার্ন ক্লিনিকে অক্সিজেনসহ রোগীর চিকিৎসার পর্যাপ্ত পরিবেশ না থাকায় ডাঃ সহিদ তার শিশুকে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এর নিকট নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এর নিকট নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। নিউ মর্ডান ক্লিনিকে শিশুকে ফিরে আনলে ক্লিনিকের সত্ত্বাধিকারী মোঃ জিল্লুর রহমান ও ডাঃ সহিদ শিশু পুত্রকে নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। নিউ মর্ডান ক্লিনিকের এ্যাম্বুলেন্স এর চালক দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে সটকে পড়েন। সেখানে শিশু পুত্রকে ভর্তি করার ২১ ঘন্টা পর চিকিৎসক জানান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া এখানে চিকিৎসা করা সম্ভাব নয়। পরে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজু আহম্মেদ শিশু কে বাচাঁনোর জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার ১০ মিনিট পর শিশুটি মারা যায়। রাজু আহম্মেদ এর স্ত্রী মোছাঃ রুপালী আক্তার সুবর্ণা শিশু মারা যাওয়ায় নিউ মর্ডান ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার সময় রাজু ডায়াগনিস্ট্রিক সেন্টারে আলট্রাস্নো রিপোর্টের কাগজটি মডার্ন ক্লিনিক কর্তপক্ষ কোন ভাবে ফেরত দেয়নি। নিউ মর্ডান ক্লিনিকের চিকিৎসক যেনে শুনেই আলট্রাস্নো রিপোর্টের ২১ দিন পূর্বে সিজার করায়। শিশুটি পরিপূর্ণতা লাভ না করায় মারা যায়।
এব্যাপারে গতকাল বুধবার দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জেন ডাঃ আব্দুল কুদ্দুস এর সাথে কথা বললে, তিনি জানান ডিপুটি সিভিল সার্জেন সহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে ঘটনার রির্পোট পেশ করবেন। এর পর ঐ নিউ মর্ডান ডায়াগনিষ্ট সেন্টার ও ডাক্টার এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *