বীরগঞ্জের লাকি আক্তার হত্যাকান্ডের ৮ দিনেও খোজ মেলেনি।কেউ জানেনা তার তিন বছরের প্রতিবন্ধি শিশু কন্যা কোথায় ?

বীরগঞ্জের লাকি আক্তার হত্যাকান্ডের ৮ দিনেও খোজ মেলেনি।কেউ জানেনা তার তিন বছরের প্রতিবন্ধি শিশু কন্যা কোথায় ?

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি:দিনাজপুরের বীরগঞ্জে লাকি আক্তার (২৪) হত্যা কান্ড নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কি ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা ৮ দিনেও পুলিশ, ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক বা বাদী কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। স্বামীর পরিবার থেকে বিষ খেয়ে আতœহত্যা করেছে ও বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের পর বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করা হলেও ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক বলছে বিষের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। অপরদিকে ঘটনার দিন থেকে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ী ও ননদ পলাতক রয়েছে। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না নিহত লাকি আক্তারের তিন বছরের শিশু কন্যা ফারিয়া আক্তারের। জানা যায়, বীরগঞ্জ উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুর গ্রামের মোঃ মাজেদুর রহমানের ছেলে মোঃ ওমর ফারুকের সঙ্গে একই উপজেলার ১০ নং মোহনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল আজিজের মেয়ে লাকি আক্তারের পারিবারিক ভাবে ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৯৯ টাকা দেন মোহর নির্ধারণ করে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় ছেলেকে যৌতুক বাবদ ২লক্ষ ২০ হাজার টাকা মেয়ের পিতা প্রদান করেন। কিন্তু ছেলে ওমর ফারুক তাতে সন্তষ্ট হতে পারেনি। প্রায় সময় যৌতুকের জন্য লাকি আক্তারকে নির্যাতন করত। এরই মধ্যে তাদের একটি প্রতিবন্ধি কন্যা ন্তান জন্ম নেয়। এতে করে বেড়ে যায় নির্যাতন। বিয়েতে বাবা মায়ের দেয়া ২ ভরী স্বর্ণালংকার বিক্রি করে দেয় স্বামী অমর ফারুক। সে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর যৌতুকের জন্য লাকি আক্তারকে নির্যাতন শুরু করে স্বামী অমর ফারুক, শশুড় মাজেদুর রহমান, শ্বাশুড়ী মোছাঃ ফরিদা বেগম ও ননদ মোছাঃ মৌসুমি বেগম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে লাকি আক্তার তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ীতে চলে আসে। পরে এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালীশে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। সে সময় শিশু ফারিয়া আক্তারকে তার পিতা ওমর ফারুক নিয়ে যায়। পরে স্বামীর কাকুৃতি মিনতির পর পুনরায় বিয়ে করে সেই সন্তানের মায়ায় লাকি আক্তার স্বামীর সংসারে ফিরে যায়। এরপর বিচ্ছেদের সময় দেয়া টাকা বাবার বাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য আবারো শুরু নির্যাতন। বাধ্য হয়ে লাকি আক্তারের বাবা মা দুই দফায় ৮০ হাজার টাকা ওমর ফারুকের হাতে তুলে দেন। এখানেই শেষ নয় স্বামী ওমর ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যরা আরো ৫ লক্ষ টাকা বাবার বাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য নির্যাতন শুরু করেন। প্রায় সময় খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে বাঁশের সঙ্গে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করা হত। ঘটনার দিন ১২ জানুয়ারী তাকে হাত পা বেধে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায় লাকি আক্তার প্রসাব পায়খানা করার কথা বলে বাড়ী থেকে পালিয়ে গিয়ে তার বাবাকে ফোনে ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে না হলে তার স্বামী, শ্বশুর শাশুড়ী ও ননদ তাকে মেরে ফেলবে বলে জানায়। সেখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে প্রচার চালায় লাকি আক্তার বিষ পান করেছে। হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মৃত লাশ মাইক্রোবাসে করে ঘুরে ধরে বেড়ায়। কোন হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। যদিও স্বামীর পরিবারের দাবী প্রথমে লাকি আক্তারকে বীরগঞ্জ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে মারা যায়। কিন্তু দুই হাসাপাতালের রেকর্ডে কথাও লাকি আক্তারকে ভর্তি কিংবা চিকিৎসার রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পুলিশ লাশ বাড়ী থেকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপরে বীরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। যে মামলায় বাদী উল্লেখ করেছে যৌতুকের জন্য মারধর করে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এব্যাপারে জানতে মাহানপুর গ্রামে স্বামী ওমর ফারুকের বাড়ীতে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। অমর ফারুকের দাদি সখিনা খাতুন (৬৫) জানায় ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে। তবে কোথায় রয়েছে তা জানাতে পারেন নি। তিনি বলেন লাকি আক্তার বিষ পান করে আত্হত্যা করেছে। ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোপাল দেব শর্মা জানান, লাকি আক্তার বিষ পান করে আতহত্যা করেছে। তবে কয়েকজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লাকি আক্তারকে নির্যাতন করে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। মেয়ের বাবা মোঃ আব্দুল আজিজ জানান, মামলার বাদী হয়েছে মেয়ের মামা মোঃ বুলবুল ইসলাম। আমার মেয়েকে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে ময়না তদন্তকারী দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রভাষক ডাঃ হাবিবুর রহমান জানান, তিনি যে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তার পর্যবেক্ষণে তিনি বিষের কোন আলামত পাননি। অন্য কোন উপায়ে হত্যা করা হতে পারে। তিনি জানান নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা মহাখালিতে ভিসেরা রিপোর্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানার ওসি সাকিলা পারভিন বলেন, আমরা হত্যা মামলা গ্রহণ করেছি। আসামীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। কি ভাবে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত চলছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *