বৃষ্টিস্নাত দেনাপাওনা-মেরিন নাজনীন

বৃষ্টিস্নাত দেনাপাওনা-মেরিন নাজনীন

আজ ভালোবাসায় জড়াজড়ি করে ভিজবো বলে আকাশ থেকে বৃষ্টি নামিয়ে ছিলাম।

তোমার অপেক্ষায় কাতর আমি তৃষার্ত কপোল নিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম

তুমি এসেও ছিলে, পাগলী বলে জড়িয়ে ধরেছিলে কিন্তু বড্ড বেশি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছো, অসুস্থ সংগিনীর পাশে শান্ত স্বাভাবিকতায়।

চুমু খেয়ে ঠোঁট মুছে নিয়েছো আমাকে খুশি করতে।কিন্তু কেন?একটু আড়াল হলেই নাহয় মুছতে। কি দোষ ছিলো তাতে।

মনে আছে সেই আমাদের প্রেমের বেলায় কতো পথ চেয়ে থেকেছো একটা নরম হাতের পরশের আবেশ নিতে।

বৃষ্টি নামলেই চিংড়ির বাচ্চাদের মতো তিড়িংতিড়িং করতে, বৃষ্টিতে ভিজতে তোমার সেকি বায়না থাকে, ইলিশ খিচুড়ি রান্নার কতো আব্দার থাকে।

আর আজ এতো সাধের বৃষ্টি তুমি ভেস্তে দিলে, বলোতো বৃষ্টির জলকণারা কতো রাগ করবে?খুউব রাগ করে বাড়ি ফিরেছে ওরা, বলেছে আর আসবেনা আমার ডাকে।

সি এন জি তে বাড়ি ফিরতে তোমার কাঁধে যখন ক্লান্ত মাথাটা এলিয়ে ছিলাম ওরা চুপিচুপি বলে গেছে, যেদিন দুজন মিলে ডাকবো, সেদিন মুন্সিগঞ্জের সেদিনকার চাইতেও আরো জোরে তারা আসবে এই রাজধানীর রাজপথে।
তোমাতে আমাতে শুচিতায় ধুইয়ে দিতে, আচ্ছা সেদিনও কি থাকবে? তোমার হাতে সাদা থাই পদ্মফুল।কোথায় পাবে বলোতো অই ফুল টা।আচ্ছা থাক একটা দোলন চাঁপা নিয়ে এলেও আমি তৃপ্ত হবো।

আচ্ছা আমি তোমার তুমি, তুই, আপনি।কিন্তু আমি তোমার আপন হলাম কবে? তুমি আমাকে বেড়াল ছানার মতো এতো আগলে না রাখলে কি হয়?বউ ভাবো? মনে তো হয়না, প্রেমিকা সেটাও আজকাল ধোঁয়াশা , কবে থেকে এতো অধিকার এতো দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে বসে আছো দিব্বি আরামে।

তোমার আরামে আমার হিংসে হয়, লোভ হয়,ব্যস্ত আমিটা কে ছুটি দিতে খুউব মন চায়,তোমার অবকাশকালীন সংগী হতে। মনে মনে কতো বলি,ক্ষমো,ক্ষমো হে প্রিয় আমার দিনরাত্রির দীনতার স্বল্পতাকে।

খুউব বলেছিলাম, সংসার নামক মায়াজাল এ বাঁধতে এই ধরিত্রীপুরে কোন শেকল বানানো হয়নি। কি সুখ পাও বলোতো এই দূর দ্বীপবাসীনির অই টুকু রক্তচক্ষু ভালোবাসা পেতে।

এইবারে আমায় ছুটি দাও। সকল দেনাপাওনার হিসেব আমার হয়েছে বিলীন। কোন তীরথস্নানে যেতে নয়।পৃথিবী অন্যপারে যেতে।যেখান থেকে দেখবো পাগল হলে মানুষ কি করে।।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *