ভাষার প্রতি ভালবাসা আলো আশার বাংলা ভাষা

ভাষার প্রতি ভালবাসা আলো আশার বাংলা ভাষা

মোমিন মেহেদীঃ ভাষার মাস, ভাষা আন্দোলনের মাস, ভাষা সংরক্ষণের মাস ফেব্রুয়ারী আসলেই সোচ্চার হয়ে ওঠেন অ-নে-ক ভাষাসৈনিক ও ভাষা গবেষক। ভাষার মাসে সকল পত্রিকা-চ্যানেল থাকে তাদের দখলে। এই সুযোগে গড়ে নেয় আখেরও কেউ কেউ। এরপর সারা বছর তারা রাজনীতিকদের-ব্যবসায়ীদের গোলাম হিসেবে ব্যস্ত হয়ে থাকেন। যে কারনে নির্মমভাবে বাংলা ভাষা সারা বছর ধর্ষিত হয়; হয় ভাষার চরম দূষণও। কিন্তু তারা কথা বলেন না; আসেন না সমাধানের দাবীতে এগিয়েও। বিনিময়ে আমরা আমাদের মায়ের ভাষা সংরক্ষণের পরিবর্তে দেখি ক্রমশ দূষিত হতে। বৃহ্নলা ভাষা চর্চারমধ্য দিয়ে এগিয়ে আসে স্বাধীনতা বিরোধী- দেশ বিরোধীদের রেডিও নামক ভাষা বিকৃতকারী বেশ কিছু এফএম প্রতিষ্ঠান; এগিয়ে আসে স্বাধীনতা বিরোধীতার পাশাপাশি ভাষা বিরোধী গণমাধ্যমও। যেমন- ইনসাফ, জিন্দাবাদ, এলহাম, এলান নামক সহ¯্রাধিক উর্দু ভাষাচর্চাকারী গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠান। সাথে সাথে ইংরেজী ও হিন্দী ভাষার ধ্বজাধারী আরো ¯্রহ¤্রাধিক প্রতিষ্ঠানতো আছেই। এদের কারনে নিখাদ বাংলা ভাষার-গণমানুষের রাজনৈতিক কোন দল এগিয়ে যেতে পারছে না। বরং উর্দু-ইংরেজী ভাষার সম্মিলন ঘটিয়ে এগিয়ে আসছে ছলাকলার রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। অথচ আমরা এদেরকে প্রায়ই বলতে শুনি- বাংলা ভাষা আমাদের অহঙ্কার ও গর্বের ভাষা। ১৯৫২ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছিলাম বাংলা ভাষার সাংবিধানিকমর্যাদা। বাংলা আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে রচিত হয় এক নতুন ইতিহাস। বাংলা–ই একমাত্র ভাষা, যারসাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য রক্ত দিয়েছে পৃথিবীর কোন জাতি। আর এ ঐতিহাসিক ঘটনার স্বীকৃতিস্বরুপ ২০০০ সালে ইউনেস্কো ২১ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। রচিত হয় বাংলা ভাষার নতুন অধ্যায়, অধিকতর উচ্চ আসনে উন্নীত হয় ‘বাংলা’। ভাষা আন্দোলনের হাত ধরেই বাঙালি হয় সংঘবদ্ধ, পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালে বাংলার আকাশে উদিত হয় নতুন সূর্য।বাংলাদেশীরা পায় নিজস্ব পতাকা, নিজস্ব ভূখন্ড, নিজস্ব দেশ-বাংলাদেশ। এরপর এ পর্যন্ত এ দেশের ক্ষমতায় এসেছে নানা নাটকীয় পরিবর্তন। কেটেছে অনেক প্রহর, চাঁদ–সূর্য পালাক্রমে উঠেছে–ডুবেছে সহস্রাধিকবার। বাংলাদেশ হয়েছে আধুনিক, আকাশ হয়েছে উন্মুক্ত। এদেশের মানুষের চিন্তা–চেতনা, জীবন-যাপন প্রণালী সবকিছুতেএসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। আমরা হয়ে উঠেছি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকারক। দেশে তৈরি হয়েছে অনেক খ্যাত–অখ্যাত ইংরেজি ভার্সন ওইংরেজি মাধ্যম স্কুল। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এসেছে আমূল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিজেদের আসন মজবুত করা ও নিজেদেরকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করার জন্য ইংরেজি ভার্সন ও ইংরেজিমাধ্যম শিক্ষাকে অবহেলা করার সুযোগ নেই কোনোভাবেই। কিন্তু আশংকা ও উদ্বেগের জায়গাটি হলো– এসব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোরকারিকুলাম আমাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে কতোটা সঙ্গতিপূর্ণ? খোঁজ নিলেই দেখতে পাবেন, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরতশিক্ষার্থীরা মাতৃভাষা বাংলায় কথাও বলতে পারে না সঠিকভাবে। বাংলাকে ইংরেজির মতো করে উচ্চারণ, ইংরেজি সাহিত্য, ইংরেজিনোভেল, ইংরেজি টিভি সিরিয়াল, ইংরেজি মুভি, ইংরেজি গেমস, ইংরেজি গল্প, ইংরেজি কমিকস ইত্যাদির প্রতি আসক্ত তারা নিজেদের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ইত্যাদি তাদের ভাষায় ‘ক্ষ্যাত’। এর জন্য দায়ী কে বা কারা? শুধুই কি শিক্ষার্থীরা? কোনোই দোষ নেই কর্তা ব্যক্তিদের?

বাংলাদেশের গণমাধ্যম অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন যথেষ্ট সমৃদ্ধ। তথ্য–প্রযুক্তির উন্নয়নের ধারায় দেশে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধিপেয়েছে গণমাধ্যমের সংখ্যা। বেতার শিল্পে নতুন ধারা যুক্ত করেছে প্রাইভেট এফএম রেডিও চ্যানেলগুলো। এসব রেডিওতে অনুষ্ঠানউপস্থাপকগণ (তাঁদের ভাষায় রেডিও জকি বা জঔ) শ্রোতাদের মনোরঞ্জনের জন্য বাংলা, ইংরেজি, হিন্দী ও বাংলাকে ইংরেজির মতো করেবাংলিশ কায়দায় উচ্চারণ ইত্যাদি মিশিয়ে খিচুড়ি ভাষায় যেসব কথাবার্তা বলেন স্বভাবতই আমাদের নতুন প্রজন্ম নিজেদেরকে স্মার্ট প্রমাণকরার জন্য সেগুলো অনুকরণ করছে। আর বরাবরই যেহেতু তরুণ সম্প্রদায় মিডিয়াকে আধুনিকতার মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করে। সেহেতু তারা এফএম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দূষণ করছে বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি ও সমাজকে। কোনভাবেই, কারোই যা কাম্য নয়। এখানে একথাও মনে করিয়ে দিতে চাই যে, বর্তমান বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী তরুণ। সুতরাং এভাবে চলতে থাকলে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, জঘণ্যভাবে বাংলা ভাষা হারাবে তাঁর নিজস্ব স্বকীয়তা। যা যে কোন উপায়েই প্রতিরোধ করতে হবে বলে আমি মনে করি।

আমার জানা মতে, ভাষার শৃঙ্খলার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভাষানীতি প্রচলিত রয়েছে। শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস, ইকুয়েডর, বেলজিয়াম ভাষা দূষণ ও ভুল উপস্থাপন রোধের জন্য বিশেষভাবে কাজ করে। বাঙালি হিসেবে আমরাও চাই আমাদের ভাষার ভুল প্রয়োগ, ভুল বানান, ইংরেজি-হিন্দি মিশ্রণ রোধে ভাষানীতির প্রচলন করা হোক। নির্মিত হোক কালোর বিপরিতে আলোর ক্যানভাস, সাহসের স্যালুলয়েড। প্রতয়ে পথ চলি, কথা বলি। কেননা, আমি জানি- একুশে ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রিয়ভাবে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের কাছে যেমন, তেমন পৃথিবীর সব জাতির ভাষা চেতনার দিন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলা ভাষার যথেচ্ছ ও বিকৃত ব্যবহার। বাংলা ভাষাকে নানাভাবে লাঞ্ছিতকরণের ভেতরই যেন এক ধরনের তৃপ্তি। ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম, এফএম রেডিওতে যে বাংলা ভাষার ব্যবহার তা সত্যি মর্মপীড়াদায়ক। এইসব ভাষা বিষয়ক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জেগে না উঠে আমরা সারা বছর কেন চুপচাপ থাকি, নীরব থাকি; জানি না। আবার একথাও জানি না যে, শুধু ফেব্রুয়ারি মাস এলেই কেন এইসব নিয়ে সরব হয়ে উঠি এবং শেষ পর্র্যন্ত যা ঘটার তাই ঘটে- একুশে ফেব্রুয়ারি চলে গেলেই আমরা সব বিস্মৃত হই! নীরব হয়ে যাই!! কেন আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের সমাজব্যবস্থা কেবলমাত্র স্বার্থগত কারনেই ব্যবহার করে একুশকে? যদি তা হয়েও থাকে কঠিনভাবে বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে সরে আসতে হবে। তা না করলে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সবার কর্মকান্ড নিয়েই, ভাষার প্রতি ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন আসতে পারে তাদের একুশের চেতনা কি তাহলে মেকি, কৃত্রিম একটা আবেগ মাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের কাছে? ‘একুশে’ কি আজ শুধু এক আনুষ্ঠানিকতারই নার্মান্তর? একুশের মাস তো আমাদের অর্জনের মাস। এই অর্জনকে সামনে রেখে আর বাকি এগারো মাস ধরে আমরা যে কাজগুলো করণীয় তা করি না কেন? না ব্যক্তির অবস্থানের জায়গা থেকে, না প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের জায়গা থেকে। দেশের অফিস-আদালতে, রাস্তা-ঘাটে, দোকানপাটে, যানবাহনে এমনকি বাসাবাড়িতে পর্র্যন্ত যে-সমস্ত নামফলক (সাইন বোর্ড) আমরা দেখি তার সিংহভাগই ইংরেজিতে। বাংলা ভাষায় যেসব নামফলক দেখা যায় সেগুলোতেও বানান ভুলের ছড়াছড়ি- এসবই আমাদের ভাষা ব্যবহারের দায়বদ্ধতার অভাবকেই নির্দেশ করে। প্রতিদিনই আমরা এইসব নাম ফলকগুলো দেখি এবং লজ্জাও পাই কিন্তু তা সত্ত্বেও সচেতন হই না। শুধু ইংরেজি নয়, যে কোনো ভাষায়ই এগুলো লেখা যেতে পারে। লেখাটা দোষণীয়ও নয় কিন্তু আমরা যা করছি সেটা দোষণীয়।

বিবেক-বিবেচনার অলোকে বলতে পারি- আমাদের রাজনীতিক-সাংবাদিকও ব্যবসায়িক অনেকেই ইংরেজিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে মাতৃভাষাকে পরিত্যাগ করছি, ইংরেজির পাশাপাশি একই নামফলকে যদি বাংলা ব্যবহারও করা হয় তবে দেখা যায় সে বাংলাটা গৌন রূপে জায়গা পাচ্ছে। অর্থাৎ যেন না-পারতে তাকে স্থান দেয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আমরা যা করছি তা তো আরও দোষণীয় এ জন্য যে, সেই ইংরেজিটাও শুদ্ধ রূপে লিখছি না। তবে এতে করে কাকের ময়ূরপুচ্ছ ধারণের মত ব্যক্তি যেমন তার মান বাড়াতে গিয়ে মান খোয়াচ্ছেন; তেমনই জাতি হিসেবে আমাদের সম্মান খোয়াতে হচ্ছে বলে আমি মনে করি। অন্য ভাষার অশুদ্ধ ব্যবহারে, অন্য ভাষার অমর্যাদা করার কারণে সে ভাষার লোকদের কাছে আমরা ছোট হয়ে যাচ্ছি। এমনকি আমাদের করণীয় কতটা, তাও ভুলে যেতে বসেছি। এই পরিস্থিতির উত্তরণে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিক-শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মী হিসেবে বলছি- সিটি কর্পোরেশন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামফলকগুলো কত ফুট, কত ইঞ্চি, কত গজ হবে তার জন্য লাইসেন্স ফি-এর সঙ্গে একটা ফিও আদায় করে থাকে। এই নামফলকের আকার-আকৃতির জন্য ফি আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা যদি নামফলক শুদ্ধকরণের জন্য একটা দায়িত্ব পালন করত তাহলে সেটা আমাদের এই লজ্জা থেকে উদ্ধার করতে পারত। অবশ্য তারা এখনো নিয়ম করতে পারে- যে কোনো দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামফলকটি কেমন হবে তার নমুনা নিয়ে, তাতে বাংলাকে প্রাধান্য দিয়ে, অন্য ভাষায় কি কি লেখা হবে তার বিস্তারিত নিয়ে সেগুলোর ভাষাগত শুদ্ধতা নিশ্চিত করে অনুমতি প্রদান করবে। এ কাজের জন্য তারা নিজেরা একটি বিভাগ করতে পারে কিংবা এটি তারা বাংলা একাডেমিকে অনুরোধ করে করিয়ে নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমিও এ কাজে জনস্বার্থে সহযোগিতা প্রদানের প্রয়োজনে আলাদা একটি বিভাগ খুলে দায়িত্বশীলদের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্ভুল নামফলকের অনুমতি বা অনুমোদন দিতে পারে। এ রকম একটা উদ্যোগ নেয়া জরুরি। বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক দিন ভেবেছি। কীভাবে এটি কার্যকর করা যায় এ রকম প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা আমার মনে হয় অনেকের ভাবনাতেই আসে, কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস পেস্তলেই আমরা এসব প্রসঙ্গ শিকেয় তুলে রাখি। বাকি এগারো মাস আমরা আর এসব নিয়ে ভাবাভাবির মধ্যে থাকি না। ফলে বছরের পর বছর পরিস্থিতি একই থাকে। এক্ষেত্রে অবশ্য সংবাদমাধ্যমগুলোরও দায়িত্ব নেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে এখন এই দায়িত্বটা যে, শুদ্ধ ভাষায় বলব এবং নির্ভুল লিখব- এটি নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ- তাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে এই দূষণ ও নৈরাজ্য কমবে। আমরা আর নিজেদেরকেও প্রশ্নবিদ্ধ করব না যে, আমরা আমাদের ভাষার এই দুর্দশাকে সামনে রেখে কেমন করে দিন কাটাচ্ছি!

ব্যক্তির নিজস্ব অবস্থান থেকেও কেউ যদি উদ্যোগী হন শুদ্ধ বলা শুদ্ধ লেখার চেতনায় তাহলেও হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে আমরা একটা বড় কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হব- ভাষার জন্য, একুশের জন্য, দেশের জন্য। আরেকটি বিষয় একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আর শুধুমাত্র বাঙালি জাতির গর্ব গৌরবের বিষয় নয়- একুশ আজ সারা পৃথিবীর সমস্ত জাতির ভাষা চেতনার দিন। এই গৌরবকে আমরা আরও গৌরবান্বিত করতে সক্ষম হব যদি আমরা আমাদের দেশের সবগুলো নৃ-গোষ্ঠির ভাষা ও সংস্কৃতিকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে সংরক্ষণ ও সম্মান জানাতে পারি। বাংলাদেশের সবগুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে একুশের এই মাসব্যাপী আয়োজনের মধ্যে স্থান করে দিতে হবে। তাদের সংগে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মধ্য দিয়ে আমাদের ভাষাকে যেমন সমৃদ্ধ করতে হবে তেমন তাদেরকেও এগিয়ে আনতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব- এটাও একুশের চেতনা। আর এই চেতনাতেই একুশের গৌরব। গৌরবের বাংলাদেশে বাংলা ভাষাকে কোনভাবেই যেন কেউ পিছিয়ে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্য থেকে ৮ ফাল্গুনে আমাদের শোক দিবস পালনেরও আহবান রইলো লোভ মোহহীন নিরন্তর রাজনীতির প্রত্যাশায়-ভালোবাসায়। যারা রাজনীতি করবে বাংলা ভাষাকে, বাংলাদেশকে ভালোবেসে করবে। কোন নির্মমতায় হারিয়ে যাওয়ার জন্য যেমন রাজনীতি নয়; তেমনি কোন নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্রের কাছে হেরে যাওয়ার জন্য ভাষা আন্দোলন বা বাংলাদশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নয় বিধায়ই চাই যথাযথ মূল্যায়ণ-নিরন্তর এগিয়ে চলা…

মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *