মিঠাপুকুরে এফএনডিএস -৯২ কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা

মিঠাপুকুরে এফএনডিএস -৯২ কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা

রুবেল ইসলাম,মিঠাপুকুর
“আমরা তোমাদের ভূলবোনা” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় শুকুরেরহাট ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফেন্ডস্ নেটওয়ার্ক ডিভলপমেন্ট সার্পেট(এফএনডিএস)’৯২ কর্তৃক আয়োজিত ৭১এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধিত করা হয়।
শনিবার বিকালে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলহাজ্জ এ.কে.এম হানীফ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট চিকিৎসক,শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক ডাঃ মোঃ শামছুল আলম,বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন শুকুরেরহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মফিজার রহমান,শুকুরেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষব মোঃ সিরাজুল ইসলাম,শুকুরেরহাট ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক,শুকুরেরহাট ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যাক্ষ তারিকুল ইসলাম,রানীপুকুর স্কুল ও কলেজের প্রভাষক আল মাসুদ মিল্টন ও এফএনডিএস’৯২এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃমাজারুল ইসলাম।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম সিদ্দিকী (চপল),সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন মিজান দরিদ্র ছাত্র তহবিল ও গ্রীণ হাউজ প্রকল্প।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামছুল আলম বলেন-আজকে আমাদের দেশ যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি তাদের অনেকেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।স্বল্প পরিসরে আজকে যে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক ও সংবর্ধনা প্রদান করা হচ্ছে এটাই শুধু তাদের প্রাপ্য নয়।মুক্তিযোদ্ধাদের কঠোর পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের কারণে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি।মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে দেশকে রক্ষা করার জন্য আর এখন আমাদের যুদ্ধ করতে হবে মাদক,বাল্যবিবাহ,ইফটিজিং ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।আমাদের সন্তানদের আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে।কারণ তরুণরাই পারে সমাজের বিপ্লব ঘঠাতে।আর এদেশের মাটিকে স্বর্ণঅক্ষরে লেখা থাকবে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম।আমরা এখনও স্বাধীনতার সুফল বয়ে আনতে পারিনি।বাংলাদেশে অর্থনৈতিক পরিবর্তন হলেও গ্রামে এখন কোন ধরণের পরিবর্তন হয়নি।কারণ আমাদের দেশের সবচাইতে বড় সমস্যা হলে দূর্নীতি।সুতরাং আমাদের দূর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে আমাদের সুশিক্ষার জন্য যুদ্ধ করতে হবে।আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।সমাজের উন্নয়ন প্রকল্পে আমাদের ভালো উদ্দেগ্য নিতে হবে এবং বিভিন্ন সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন-আজকে বাংলাদেশে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল রয়েছে কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করে না।আমরা যখন জাতির জনকের বক্তব্য শুনে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি।আমার পরিবার,সমাজ ছেড়ে চলে যাই ভারতের দিকে স্বাধীন দেশ গড়বো এই প্রত্যাশায়।ভারতের প্রবেশের পূর্বে আমরা হানিফ স্যারের সাথে দেখা করি তিনি আমাদের শিলিগুড়ি চলে যাই প্রশিক্ষণের জন্য।সেখানে নিজের নামে একটি ইন্টিগান পাই।প্রশিক্ষণ শেষে আমরা দেশে ফিরি এবং নয় মাস যুদ্ধ করেছি।যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মায়ের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করি।আমরা চাই যেকোন রাজনৈতিক দল হোক না কেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে মূল্যায়ন করবেন কারণ আমরা অনেক কষ্টে এদেশ আপনাদের হাতে দিয়েছি সুতরাং তাঁর মর্যাদা রাখবেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মিঠাপুকুর উপজেলার ১নং খোড়াগাছ, ২নং রানীপুকুর,৮ নং চেংমারী ও ৯ নং ময়েনপুর ইউনিয়সহ ৪৫জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *