মিঠাপুকুরে সন্ত্রাসীদের হুমকিতে দিশেহারা দুটি পরিবার: পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

মিঠাপুকুরে সন্ত্রাসীদের হুমকিতে দিশেহারা দুটি পরিবার- অবরুদ্ধ জীবনযাপনপুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা
রুবেল ইসলাম, রংপুর
রংপুরের মিঠাপুকুরে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের আতঙ্কে শঙ্কিত দুইটি পরিবার দিশাহারা হওয়ার ফলে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের, প্রকাশ্যে চলাচলে বাধা,কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের  নিরাপত্তাহীনতা, কৃষি চাষাবাদ বাধা প্রদান এবং আদালতের আদেশ অবজ্ঞা করে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি প্রদান করছে ভূমিদস্যুরা বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার  ১১নং বড়বালা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়বালায় একপল্ল্যা ভুক্ত, দাঙ্গাবাজ, পরধনলোভী, ভূমিদস্যু, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, জোরপূর্বক ভূমি দখল করার চেষ্টা ও চাঁদা চাওয়ায় শঙ্কিত আবুল কালাম ও আবুল কাশেম এর পরিবার। গত শুক্রবার(১৪ই ফেব্রুয়ারি) আবারো হুমকি-ধামকি ও নির্যাতনের শিকার হন পরিবার দুটি।
সরেজমিনে জানা যায়- পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সিএস খতিয়ান-৬২ ও এসএ খতিয়ান-৭৭ এবং জেঃএলঃ নং-৪২ সাবেক দাগ নং-৬৬০ জমি-৩৫ শতক সাবেক দাগ নং-৮২২শতক জমি-০৬ শতক,সাবেক দাগ নং-৮২৩ জমি-২৩ শতক ও একুনে তিন দাগে মোট-৬৪ শতক  সম্পত্তি আবুল কালাম মন্ডল ও আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছিলেন। হঠাৎ করে জবর দখলের চেষ্টায় লিপ্ত লালমিয়া,লাভলু,ইদ্রিস,মিজানুর, কায়ফুল ইসলাম ও মহাসেন নামে ভূমিদস্যু বাহিনী উক্ত জমির মালিক বলে দাবি করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ করে আসতেছেন।একপর্যায়ে গত ০৬/০১/২০১২ইং তারিখে বিরোধ সৃষ্টি করিলে আবুল কাশেম বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মোকদ্দমা আনয়ন করেন। যাহার মোকাদ্দমা নং-এমআর-১৮৭/১২। উক্ত মোকাদ্দমাটিতে আসামি গনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত চূড়ান্ত রুপে প্রসিডিংস স্থাপন ও তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি হইতে আসামিগণকে বাতিল করেন। তদুপরিও আসামিগণ কালামসহ তাহার পরিবারের লোকজনকে গত ২৩/১/১২ইং তারিখে এলোপাতাড়ি মারধর এবং ধারালো ছোড়া দ্বারা রক্তাক্ত জখম করিলে বাদী মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৫৩, জি আর-৫৩ তাং-২৭/১/২০১২ইং যাহার ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৩৫/৩২৬/৫০৬/১৪৪দঃবিঃ। যাহা বর্তমানে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন আছে। পরিপ্রেক্ষিতে আসামিগণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণীত মিঠাপুকুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা একটি মামলা (মোকদমা নং-১০/১২)করলে তা সাক্ষ্য ব্যর্থ হইলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। সেই থেকে সেই সব জমি দখল করে আসছিলেন হঠাৎ করে আবার ভূমিদস্যুরা হুমকি-ধামকি প্রদান করছেন।
আবুল কাশেম জানান -সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন। উক্ত চাঁদা প্রদান না করায় তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিতে কোন প্রকার চাষাবাদ করিতে দিবেনা এবং যেভাবেই হোক নালিশী সম্পত্তি দখল করবে বলে হুমকি দেন।তিনি আরোও বলেন-  গত ০১/১০/২০১৮ইং তারিখে বিকাল আনুমানিক ৪.০০ ঘটিকায়  জমিতে একা পাইয়া মার ডাং করেন এতে আমি অচেতন হয়ে পড়লে আমাকে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। গতকয়েক বছর ধরে তারা আবার আমার জমিতে আবাদকৃত ফসল নষ্ট করছেন। এ এবার জমিতে চাষ করার পর ফসল ফলাতে চাইলে ফসল ফলাতে দিচ্ছে না। আদালতের রায় যারা অমান্য করে তাদের সাথে বারবার কি বিরোধ করে আমাদের জমিতে চাষাবাদ করতে হবে এমন প্রশ্ন তার?
আবুল কালাম আক্ষেপ করে বলেন- আমাদের পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত জমিতে চাষাবাদ করে আমরা যদি ঘরে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের সংসার কিভাবে চলবে!এভাবে প্রতিনিয়ত ও তারা আমাদের ফসল নষ্ট করবে এর কি কোন প্রতিকার নেই। এবছর জমিতে চাষাবাদ করার জন্য হালচাষ দিলে তারা বাধা প্রদান করতেছে। এছাড়াও আমাদের বাড়ির পাশের বাঁশ বাগানের বাঁশ কেটে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রতিনিধি ও প্রশাসন সহকারে বহুবার মীমাংসা করা হয়েছে। এর আগে আদালতের আদেশ পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে  পুলিশ এসে জমি দখল করে দেয় যাহা এলাকাবাসীসহ সবাই জানে। আমি একজন স্থানীয় প্রতিনিধি তবুও বারবার ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনসহ রংপুর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পরিবারটি।
Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *