মিঠাপুকুর উপজেলায় আশার আলো দেখাচ্ছে ধান কাটার মেশিন কম্বাইন হারভেষ্টার

মিঠাপুকুর উপজেলায় আশার আলো দেখাচ্ছে ধান কাটার মেশিন কম্বাইন হারভেষ্টার

এবারো বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। তবে জমিতে সোনালি ফসল দেখে কৃষক যতটা না খুশি তার থেকে বেশি চিন্তাগ্রস্ত করোনা ভাইরাসের প্রকোপকালীন শ্রমিক স্বল্পতার মধ্যে কীভাবে এই ফসল ঘরে তুলবে। এখানে আশার আলো দেখাচ্ছে কম্বাইন হারভেষ্টার। কৃষকদের উৎসাহ দেয়া ও কম্বাইন হারভেষ্টার জনপ্রিয় করার জন্য কাফ্রিখাল ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কম্বাইন হারভেষ্টার যন্ত্রের মাধ্যমে বোরো ধান কর্তন এবং নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠান। উক্ত অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর এর উপপরিচালক ড.মোঃ সওয়ারুল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে.এম.তারিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর অঞ্চল,রংপুর এর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,মিঠাপুকুর জনাব মোঃ মামুন ভূঁইয়া। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ কৃষক কৃষাণী বৃন্দ। প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বর্তমান সরকারের কৃষিতে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন এবং মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষিতে অনবদ্য অবদান এর ভূয়শী প্রশংসা করেন। উপস্থিত কৃষকগণ প্রথমবারের মতো এ ধরণের ধান সংগ্রহের মেশিন দেখে উৎফুল্ল হন এবং তাদের উপকার হবে সেজন্য মিঠাপুকুর উপজেলার আরো বেশি সংখ্যক কম্বাইন হারভেষ্টার ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহ দেয়ার অনুরোধ জানান। এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক মোঃ হারুন অর রশীদ এর জমিতে নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার রংপুর সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহন করেন। হাইব্রিড জাতের ধানে একর প্রতি ৮০ মন ফলন পাওয়া যায়।
এবার মিঠাপুকুর উপজেলায় ০৬ টি কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহ করতে কৃষকদের নিকট জনপ্রিয় হচ্ছে। কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন এর মাধ্যমে একইসাথে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দির কাজ করা হয়। কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন এর মাধ্যমে কাদা মাটি ও পড়ে থাকা ধানও কাটা সম্ভব। মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, কম্বাইন হারভেষ্টারের মাধ্যমে একজন কৃষক এক ঘন্টায় এক একর জমির ধান একই সাথে কাটা,মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি খুব সহজেই করতে পারেন। একদিনে হারভেষ্টার দিয়ে ১০ একর পর্যন্ত জমির ধান কাটতে খরচ হবে মাত্র ১২-১৫ হাজার টাকা। প্রথাগতভাবে সেটি করতে খরচ হবে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। ফলে কম্বাইন হারভেষ্টারের মাধ্যমে ১০ একর জমির ধান কাটার মাধ্যমে সাশ্রয় হবে ১৫০ এর বেশি শ্রমিক বা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। যন্ত্রটি কৃষকের দোড়গোড়ায় সহজলভ্য করার জন্য বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার প্রতিটি যন্ত্রে ৫০% ভর্তুকী দিচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ বছর ভতুর্কির আওতায় মিঠাপুকুর উপজেলায় ৪ টি কম্বাইন হারভেষ্টার কৃষকদের নিকট সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান,চলতি বোরো মৌসুমে মিঠাপুকুর উপজেলায় ৩৩০০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬০% জমির ধান কর্তন হয়েছে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *