মিয়ানমারে খনিতে ভয়াবহ ভূমিধস, মৃত্যু বেড়ে ১৬৮

মিয়ানমারে খনিতে ভয়াবহ ভূমিধস, মৃত্যু বেড়ে ১৬৮

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন প্রদেশে জেড পাথরের খনিতে ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৮ জন হয়েছে। দেশটির জরুরি কর্তৃপক্ষের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মত উদ্ধার অভিযান চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)  ভোরে কাচিন রাজ্যের জেড পাথর সমৃদ্ধ পাকান্ত এলাকায় ভূমিধসের ওই ঘটনা ঘটে। 

মিয়ানমারের তথ্য দপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তা থার লিন মং জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। নিহতদের অর্ধেকের লাশই শনাক্ত করা যায়নি। তাদের অনেকেই অন্য এলাকা থেকে আসা শ্রমিক। খনির পাশেই তাঁবুতে থাকতেন তারা।

ভারি বর্ষণের মধ্যে শ্রমিকরা পাথর সংগ্রহ করার সময় আড়াইশ ফুট উঁচু বিশাল এক কাদার স্তূপ ধসে পড়ে। ফলে খনিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে জল-কাদার বিশাল ঢেউ সৃষ্টি হয় এবং বহু শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। সাধারণত ওপেন পিট পদ্ধতিতে খোড়া এসব খনিতে রত্নপাথর খোঁজার সময় মাটি, কাদা ও খনি বর্জ্য সরিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়, যাকে বলে টেইলিং। সেগুলোই ধসে পড়ে শ্রমিকদের ওপর।

থার লিন মংয়ের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রায় ৮০ হাজার ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন, মিয়ানমারের জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এবং একটি মাইনিং কোম্পানির উদ্যোগে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   

বিশ্বের মধ্যে সবুজ রংয়ের প্রায়-স্বচ্ছ রত্ন পাথর জেডের সবচেয়ে বড় উৎস মিয়ানমার। সেখানে উত্তোলিত জেড পাথরের বেশিরভাগটাই প্রতিবেশী দেশ চীনে রপ্তানি হয়। আর দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন প্রদেশ ও পাকান্ত জেড খনির জন্য বিখ্যাত। কিন্তু সরকারের কার্যকর তদারকি না থাকায় সেখানে প্রায়ই প্রাণঘাতী ভূমিধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে।

মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় মিয়ানমারে বর্ষা মৌসুম চলে। এ সময়ে পাকান্তের সব খনিতে কাজ বন্ধ রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে বহু লোকের মৃত্যু হয়েছে, যারা স্বাধীন রত্ন সন্ধানী। বড় খনিগুলো অনুসন্ধান চালানোর পর পড়ে থাকা অবশিষ্টাংশের মধ্যে রত্ন খোঁজেন তারা। 

এর আগে একই ধরনের ঘটনায় ২০১৫ সালে শতাধিক এবং ২০১৯ সালে অর্ধশতাধিক খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয় পাকান্ত এলাকায়।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *