রংপুরে ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মেশিন বিকল চার মাস ধরে ভোগান্তিতে রোগীরা

রংপুরে ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মেশিন বিকল চার মাস ধরে ভোগান্তিতে রোগীরা
রুবেল ইসলাম,রংপুর
উত্তরবঙ্গের অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র ও বিভাগীয় নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। চিকিৎসা সেবায় দেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এটি।
প্রতিনিয়ত হাজারো রোগীর ঢল নামে এই প্রতিষ্ঠানে,রংপুর বিভাগ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুচিকিৎসা নিতে আসেন রোগীরা এই প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বে অবহেলায় ও চিকিৎসকদের স্বেচ্ছাচারিতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসা কার্যক্রম। করোনা প্রকোপের বাহনায় ও চিকিৎসকদের অবহেলায়   হতাশ হয়ে রোগ নিয়ে বাড়ি ফিরছে হচ্ছে রোগীদের। প্রতিনিয়ত এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০জন লাশ হয়ে ফিরছেন ঘরে। আর নিকটাত্মীয়দের কান্নায় রচিমহার চারপাশে মুখরিত হয় যার প্রত্যক্ষ ও কালের স্বাক্ষী  মেহগনি গাছগুলো।
সরেজমিনে জানা যায়- মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল মকরমপুর গ্রাম থেকে নজরুল ইসলাম হাতের আঙ্গুলে রক্ত জমাটের কারণে কালো হওয়ায় গত ৪ই এপ্রিল ভর্তি হন। এজন্য তার শারিরীক পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার নির্দেশ দেন।এই পরীক্ষার জন্য রংপুরে অবস্থানরত এ্যানেক্স,সেন্ট্রাল ও জোনারেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নেন কিন্তু চিকিৎসক অভাবে পরীক্ষা করাতে পারেনি। চিকিৎসককে পরীক্ষার বিষয় জানালে স্বাক্ষরিত কাগজ দিয়ে বলেন দোতলায়  কার্ডিলজি বিভাগে পরীক্ষা করার জন্য কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন মেশিন নষ্ট চারমাস থেকে কোন পরীক্ষা হচ্ছে না।
ভুক্তভোগীর ভাগিনা বেরোবি শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল জানান-যখন ডাক্তার এই পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশ দেন ঠিক তখনই রংপুরে অবস্থানরত সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নেই কিন্তু চিকিৎসক অভাবে কোথাও পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকের কথায় দোতলায় কার্ডিওলজি বিভাগে পরীক্ষার জন্য যাই-সেখানে কাউন্টারের একজন সকাল ১০ টায় আসার কথা বলে। তাদের   কথামত সকালে যাই একজন বলে শুধুমাত্র এই বিভাগের রোগীদের পরীক্ষা হয় অন্য বিভাগ বা ওয়ার্ডের রোগীর পরীক্ষা করাতে চাইলে চিকিৎসকের সুপারিশ ও কাগজপত্র লাগবে। সব কিছু সংগ্রহ করে পুনরায় গেলে পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকা একজন টেকনোলজিস জানান- মেশিন নষ্টের কারণে আমরা গত ৪মাস ধরে কোন ধরণের কার্ডিওলজি  পরীক্ষা করতে পারছি না।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থানরত চিকিৎসক সংকট মেশিন বিকল হওয়ার কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসা কার্যক্রম। করোনার কারণে কোনরকম চিকিৎসা প্রদান করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকরা অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি যে রোগী আছে তাদের তদারকি ঠিকমত করছেন না।
দ্রুত কার্ডিওলজি বিভাগের ইকোকার্ডিওগ্রাম মেশিন   সচল করে রোগীদের সেবা প্রদান করবে কর্তৃপক্ষ এমনটাই দাবী করছেন হাসপাতালে আসা চিকিৎসারত রোগীরা।
Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *