রাজনীতিবিদ উন্নত সমাজ গঠনের রুপকার

রাজনীতিবিদ উন্নত সমাজ গঠনের রুপকার


লেখকঃ
মোঃ আবু সামা মিঞা (ঠান্ডু)
সহকারী অধ্যাপক (অব:) সাধারণ সম্পাদক
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি,
বীরগঞ্জ,দিনাজপুর।

রাজনীতি হচ্ছে মানবজীবনের সুন্দর গুনাবলী ও মানবতার বৈশিষ্ট্যগুলি সৌন্ধর্যম-িত হয়ে ফুটে তোলার বিষয়। মানবতার বিষয়গুলি হলো সকল প্রকার অন্যায়, অশ্লীল কথা ও কাজ ও চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত থাকা এবং জীবন ধারা, ধ্যানধারনা, অভ্যাস, রুচীর ক্ষেত্রে মানব কল্যানের চেতনায় এবং সামাজিক মুল্যবোধের বিশ্বাস লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। উত্তম মানুষ হিসেবে প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলা, নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, কর্মক্ষেত্রে জবাব দিহিতা ও সচেতনতা মুলক কার্যক্রমগ্রহণ, নিজের সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনয়নের মাধ্যমে একটি সফল সমাজ গঠন, পারস্পারিক ¯েœহ-মমতা, সহমর্মিতা সংবেদনশীলতা, আত্মরিকতার বন্ধন, সুস্থ পারিবারিক এবং সামাজিক জীবন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা। উন্নত সমাজ গঠনে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছাঁ ও অঙ্গিকার। রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সৎ ও নৈতিক শক্তিতে বলিয়ান রাজনৈতিক নেতার একান্ত প্রয়োজন। একটি আদর্শিক ও নৈতিকতায় বলিয়ান জাতী গঠনের স্বপ্ন নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। দুঃখের বিষয় স্বাধীতার চেতনা এখনও আমরাধারন করতে পারি নাই। ফলে নৈতিক মুল্যবোধ, ন্যায় বিচার, আইনের শাসন দেশে এখনও প্রতিষ্ঠা লাভ করে নাই। বৈষম্যহীন শোষনমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা এখনও গড়ে উঠে নাই। রাজনৈতিবিদরা উন্নত সমাজ গঠনের জন্য যে আত্ম ত্যাগ দরকার তা তারা অনুশীলন করে না। রাজনৈতিক শক্তি এখন কলুষিত,সামাজিক পরিবেশ অস্থিরতা ও হতাশায় নিমর্জিত। রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্যক্তিগন সততা ও চারিত্রিক মাধুর্য্য দিয়ে মানবিকতার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হন নাই। দুর্নীতির আশ্রয় প্রশ্রয় বৃদ্ধি এবং রাজনীতি অর্থ উপার্জনের মাধ্যম না হয়ে জন কল্যানের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হতে পারে নাই। রাজনীতিবিদের ধর্ম হচ্ছে সমাজে গরীব অসহায় মানুষের কল্যানে কাজ করা। গরীব দুঃখী মানুষের অথনৈতিক মুক্তির পথ সৃজন করা। সুন্দর আচরণ ও উত্তম আদর্শ লালন করে জনগণেরমধ্যে মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানো। মানুষকে দায়িত্বশীলতা ও জবাব দিহিতার ব্যাপারে সতর্ক করে তোলা যাতে মানুষ অমানবিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দুরে থাকে। রাজনীতিবিদরা গণতান্ত্রিক রীতি নীতির অনুশীলন, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটিয়ে এবং সাংবিধানিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা দিয়ে গতিশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। তাই উন্নত আদর্শিক সমাজ গঠনে দেশ প্রেমিক নেতার প্রয়োজন। যিনি দেশে নতুন ধারায় রাজনীতি চালু করবেন।
নাগরিকদের সুন্দর স্বপ্নময় সমৃদ্ধ জীবনের প্রত্যাসাগুলি বাস্তবে রুপ দিবেন। স্বাধীনতার আকাংখাগুলি নিজে লালন করবেন এবং রাষ্ট পরিচালনায় অংশগ্রহণ কারীদের ধারন করতে অনুপ্রানিত করবেন। দলীয় কর্মীরা হবে সেবা মুখী ও মানব কল্যান মুখী আত্মউপলদ্ধিতে বলিয়ান। তারা হবেন পরোপকারী, পারস্পারিক সহনশীল ও শ্রদ্ধাবোধ সম্পন্ন। কর্মিদের সুন্দরতমআচরন সকলকে আকৃষ্ট করবে। ন্যায় বিচার, মুদ্ধিমত্তা, ধর্য্য, বিনয় এই সব গুনাবলী অর্জন করতে হবে। কেননা রাজনৈতিক কর্মীর প্রাথমিক দায়িত্ব হলো জনগনের সেবা করা। জন সাধারনের মানবিক ও মৌলিক চাহিদাগুলি কিভাবে পুরন করা যায় সে বিষয়ে মনোযোগ দেয়া, সামাজিক পরিবেশ দুষণমুক্তকরা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে মানুষের উত্তম জীবন যাপনের জন্য পথ নির্দেশনা তৈরি করা। যেহেতু মানব সেবার আদর্শ হলো রাজনৈতিক নেতার মুলভিত্তি। তারা সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করবেন। সততা, বিনয়ী স্বভাব তাদের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য।
হিংসা, বিদ্বেষ তাদের চলার পথকে কলুষিত করতে পারবে না। তারা হবেন উদার ও বৃহৎ মনের মানুষ। গরীব ধনী-উচু-নিচু ভেদাভেদ তাদের কাছে নেই। তাদের মধ্যে সংকীর্নতা, অহংবোধ, উগ্রতার কোন স্থান নেই। নেতৃবৃন্দ সৎ, ন্যয়নিষ্ট, কঠোর পরিশ্রমী ও সাহসী বিধায় তাদের চলার গতিকে কেহ থামাতে পারে না। হিংসা বিদ্বেষ, দলাদলি, হানাহানি নেতিবাচক মনোভাব ও কর্মকান্ড থেকে দুরে থাকবেন, হবেন সম্পূর্ন নিরপেক্ষ। নেতারা লোভ লালসার উর্দ্ধে থেকে সমাজ পরিচালনায় রাখবেন বলিষ্ট ভূমিকা। উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নির্মাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবেন। অবৈধ ব্যবসায়, টেন্ডারবাজী, কালো বাজারী, চাঁদাবাজী, সমাজে বিশৃংখলার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন পরিহার করে পরিচ্ছন্ন জীবনধারা সৃষ্টিকরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। নিজের সততা ও আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হবে। দৃঢ়তা, আত্ম সম্মানবোধ, দেশ প্রেম ও কলুষমুক্ত জীবন গঠন করতে হবে যা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হবে।
একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হবেন সৃজনশীল ব্যক্তিত্ত্ব। উদ্ভাবনী শক্তি যার মাধ্যমে আমাদের সমাজে বৈশ্বিক অস্তিত্ত্ব ও জাতীয় কল্যান নির্ভর করে। সমাজ, আইন, সরকার, শিক্ষা, কৃষি, বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। সমাজ ব্যবস্থার সকল ক্ষেত্রে যেমন নাগরিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বাজার ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষ ও সৃজনশীল উদ্ভাবনের জন্য রাজনীতিবিদদের গবেষণা জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সৎ সাহসী, নিষ্ঠাবান, দেশ প্রেমিক নাগরিক রুপান্তরে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অশুভ অনৈতিক অগ্রযাত্রা পরিহার করে “সততাই সর্বোত্তম নীতি” এই মূল মন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে নেতৃত্ব বিকাশে সমাজ পরিচালনায় সঠিক দায়িত্ব পালন করা। সমাজ ও দেশ পরিচালনায় নিজেকে পারদর্শী ও যোগ্যতার নজির স্থাপন করতে হবে। সকল প্রকার অবৈধ কর্মকান্ড হতে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে।সৎ চরিত্রবান আলোকিত ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গঠন করে একজন প্রকৃত সমাজ সেবক মর্মে এলাকায় বসবাস কারী সবার আস্থা অর্জন করতে হবে।
মিথ্যা, কৃসংস্কার অনৈতিক রাজনৈতিক চেতনা এবং দুর্নীতির কুটকৌশলগুলি পরিত্যাগ করে সর্বজন আকৃষ্ট করবে এমন মানবিক গুনাবলি অর্জন করে কল্যান মুখী সমাজ গঠনের ভুমিকা রাখতে হবে। গরীব-দুঃখী মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, পারিবারিক সমস্যাবলী ত্যাগ ও ভালবাসা দিয়ে আত্ম নিবেদনের শিক্ষা রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনগ্রসর পরিবার গুলিকে কিভাবে সমাজে ভালভাবে টিকে থাকবে তার পরিকল্পনা রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে থাকতে হবে।জনগনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দায়বদ্ধতা, সততা ও দেশ প্রেম লালন করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তাৎপর্যপূর্ন অবদান রাখতে হবে।সৃষ্টিশীল উদ্যোগ ও মহৎ কর্মে নিয়োজিত থেকে জনগনের আস্থা অর্জন করতে হবে। রাজনীতিবিদরা হবেন উন্নত সমাজ গঠনের রুপকার। রাজনীতিবিদদের সুদুর প্রসারিত দৃষ্টি সততা, নিষ্টা ও দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
নাগরিকদের মধ্যে পরস্পর ¯েœহ ভালবাসা, সাহায্য সহযোগীতা ও উপকার সাধনের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। আইনের চোখে সবাই সমান। একমাত্র সততার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে তারতম্য সৃষ্টি হতে পারে। সমাজের প্রত্যেক মানুষই সমমর্যাদার অধিকারী। গরীব ও দুর্বল অবস্থানে যারা আছে তাদেরকে দুঃখ সাগরে ভাসিয়ে বাকী লোক আমোদ ফুর্তিতে ডুবে থাকতে পারে না। পরস্পর ভালবাসা ও সহানুভুতি দিয়ে দুর্বল অবস্থানের লোকগুলিকে এগিয়ে নিতে হবে। যাতে সম্পদ অর্জনে পরস্পর সম অধিকার ভোগ করে। যে কাজ ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে নিহিত আদর্শ সমাজে সে কাজের কোন মূল্যই নেই। মানবতা বোধ জাগ্রত করা একজন রাজনীতিবিদের ধর্ম। দুর্নীতি,জুলুম, শোষন করে নিজের স্বার্থ লাভ না করে সততা, ন্যায়নীতি রক্ষা করে চলতে হবে। কেননা নির্লোভ মানুষ সকলের শ্রদ্ধা ও ভক্তি অর্জন করে। আদর্শ রাজনীতিবিদের চিন্তা হবে সাধারন মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। স্বচ্ছতা, ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সাথে ভাল কারজ করতে হবে। যা মানুষের মাঝে চিরস্বরনীয় হয়ে থাকবে এবং চিন্তা ভাব ও কর্মের মধ্যে সততা ও ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে পরস্পর সাহায্যকারী রুপে সৌহাদ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি হবে।
নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় পরোপকারী পারস্পারিক সহনশীল ও শ্রদ্ধাবোধ সম্পন্ন মানসিকতা লালন করে কল্যান কর সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য নেতাদের আত্মত্যাগ ও আত্ম শুদ্ধির প্রয়োজন। বর্তমানে মানুষ মুল্যবোধের সংকটে ধাবিত হচ্ছে যা দেশ ও সমাজের জন্য অশনি সংকেত। সমাজে পিতা মাতা, ভাই বোন, আত্মীয় স্বজনের মধ্যে ভালবাসা, ¯েœহমমতা,সম্প্রীতি ও সৌহাদ্যের অভাব পরিলিক্ষিত হচ্ছে। মানুষের মধ্যে উদারতা, সহনশীলতা,সহযোগীতা, উপকারিতা মনোভাবের পরিবর্তে স্বার্থপরতা, সংকীর্ণতা, নির্মমতা, প্রতিশোধ মূলক মনোভাবের জন্ম নিচ্ছে। সমাজে শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠায় অসততার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ধর্মীয় মুল্যবোধ আমাদের মুল হাতিয়ার হিসাবে কাজ করতে পারে। ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আমুল পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
মানুষের মনোজগতে পরিশুদ্ধতা, পবিত্রতা আসলে সুচিন্তা, সৎ ও পূন্যময় জীবন যাপনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও মানবতার উন্নত সামাজিক অবস্থা প্রবাহিত হবে। দার্শনিক ফারাবীর অমর বানী হল “বৃক্ষের সার্থকতা যেমন ফল ধারনে, তেমনি নৈতিক গুনাবলীর স্বার্থকতা পরম শান্তি লাভে। অতএব পরম ও চরম শান্তি লাভের একমাত্র পথ হচ্ছে ক্রমাগত সৎজীবন যাপন করা”। কর্মিদের মধ্যে রাজনীতির শিক্ষা হচ্ছে জাতী, ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকলের প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধা, সাম্য, সহমর্মিতা ও সহযোগীতা বোধ জাগানো যাতে সমাজে শান্তিময় পরিবেশ তৈরী হয়। অধিনস্তদের মধ্যে ভদ্রতা, ন¤্রতা, শিষ্ঠাচার, দেশ প্রেম ও ন্যায়পরায়নতা শিখানো। কর্মিরা যা অর্জন করে সর্বজনীন ও গুনগত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। নিজের লোভ লালসা ত্যাগ করে অর্থাৎ ব্যক্তি স্বার্থের উর্দ্ধে থেকে সামর্থ অনুযায়ী অন্যের উপকারে লাগলেই রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থাহীনতা ও অসন্তুষ্টি দুর হবে।
[[[[দুর্নীতিগ্রস্থ জাতী কখনও সাফল্য লাভ করতে পারেনা। সমৃদ্ধ ও কল্যান কর সমাজ গড়তে হলে জাতীয় জীবন থেকে দুর্নীতি অপসারন করা খুবই জরুরী। রাজনীতিবিদরা মানুষের কল্যানে কাজ করে থাকে। এ কলুষিত দেশে তারাইতো একমাত্র ভরসা। তাদের আত্মত্যাগ ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গিকারে সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। আসুন সকল জনগনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি দুুর্নীতি মুক্ত উন্নত আদর্শিক সমাজ গড়ে তুলি। রাজনীতিবিদরা সমাজের মানুষের কল্যাণে আত্মোৎস্বর্গ করে গর্বিত ও শ্রেষ্ঠ জাতী গঠনে ভুমিকা রাখবে-এই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রেরক-খায়রুন নাহার বহ্নি, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
মোবা-০১৭১৯-২৮৮৭৮০ তারিখ-১১/০৭/২০২০ খ্রিঃ

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *