শারদীয় দুর্গোৎসব আজ মহাষষ্ঠী এখনও পলাশবাড়ীতে মন্ডবে চলছে ডেকোরেশনের কাজ

শারদীয় দুর্গোৎসব আজ মহাষষ্ঠী এখনও পলাশবাড়ীতে মন্ডবে চলছে ডেকোরেশনের কাজ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ঃ বোধন শেষে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকাল ৭ টায় ভোগের মধ্যে দিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দুপুর ২টায় পুজার কাজ দিয়ে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ-উলুধ্বনি আর ভক্তকুলের আবাহনের মন্ত্রোচ্চারণে দেবী দুর্গার স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আগমন ঘটেছে। মন্দিরের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে চলছে এখন উৎসবের আমেজ। ঢাকের বোল কাঁসার ঘণ্টা, শাঁখের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে গাইবান্ধর পূজামণ্ডপগুলো।
জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবীর আগমন ঘটছে ঘোড়ায় চড়ে। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা বিদায়ও নেবেন ঘোড়ায় চড়ে। শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে তিনি বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আসছেন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর রাশ মহন সরকারের মন্দিরের পুরোহিত বলেন, দেবীর ঘোটকে আগমন মানে সব কিছু ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়া। এর মানে দেবী আমাদের এক সতর্কবার্তা দিয়েই আসছেন। সুখ-দুঃখকে পাশাপাশি রেখে আমরা পথ চলব। হিন্দু পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবীদুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি এই পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পুজোকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এই পূজাকে হিন্দু ধর্মমতে অকালবোধনও বলা হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সারা শহড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সারা জেলায় ও উপজেলায় পূজামণ্ডপে পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেলশাখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার একটি অন্যতম আচার। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীতে দশভূজা দেবীদুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা। শনিবার ( ৫ অক্টোবর) সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের পর শুরু হবে মহাসপ্তমী পূজা। রোববার (৬ অক্টোবর) মহাঅষ্টমী পূজা, সেদিন হবে সন্ধিপূজা। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল বিহিত পূজার মাধ্যমে হবে মহানবমী পূজা এবং মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনব্যাপী মণ্ডপে মণ্ডপে চলবে পূজা-অর্চনা, ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, মহাপ্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতা।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *