শৈলকুপার সেই ইউএনও’র বিরুদ্ধে নগদ টাকা দিয়ে পিআইওকে ফাঁসানো চেষ্টার অভিযোগ

শৈলকুপার সেই ইউএনও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নগদ টাকা দিয়ে পিআইওকে ফাঁসানো চেষ্টার অভিযোগ

ঝিনাইদহঃ
এবার অফিসে ডেকে ৭ লক্ষাধিক টাকা দিয়ে পিআইওকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউএনও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ইউএনওর বিরুদ্ধে এমনটিই অভিযোগ করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। ঘটনাটি ঘটে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বুধবার সকাল ১০টার দিকে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচীর আওতায় গৃহহীনদের জন্য দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পে উপজেলায় ৩৩টি বাসগৃহ নির্মানের জন্য ৮৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৫শত ২৩ টাকা বরাদ্দ দেয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়। এ প্রকল্পে ১১টি বাসগৃহ নির্মানের জন্য ১১জন পিআইসির প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়। পিআইসিদের নামে ইস্যূকৃত চেকের টাকা ইউএনও সাইফুল ইসলাম অগ্রনী ব্যাংক কবিরপুর শাখা থেকে নগদায়ন করে নিজে প্রকল্পের সমস্ত কেনা কাটা করেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে থাকে। সে সন্দেহ করেন আমি তার সুনাম নষ্ট করতে বিভন্ন যায়গায় অভিযোগ দিয়েছি। সে এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বুধবার সকাল ১০টার দিকে তার অফিস সহকারী শওকতকে দিয়ে তার রুমে ডেকে নিয়ে যায়। রুমে প্রবেশ করে দেখি টেবিলের উপর অনেক টাকা। ইউএনও সাইফুল ইসলাম তাকে বলে প্রকল্পের মালামাল কেনাকাটর পর ৭ লক্ষাধিক টাকা বেচে আছে। আমি হিসাব মিলাতে পারছিনা। আপনি টাকা গুলো নিয়ে যান। এ সময় তার রুমে অফিস সুপার ইসমাইল ও এক পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। সে কয়েকবার তাকে টাকাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সবাইকে ছবি তুলতে বলেন। এরপর অবস্থা বেগতিক হলে তিনি জোরপূর্বক ইউএনওর কক্ষ ত্যাগ করে তার রুমে চলে যান। ঘটনাটি তিনি সাথে সাথে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন বলে জানান। তার আশংকা টাকাটা হাতে নিলে ছবি তুলে তিনি ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতে ৬ মাসের কারাদন্ড দিতেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা। সে তার সুনাম নষ্ট করতে অপ-প্রচার চালাচ্ছে। তিনি তাকে অফিসে ডেকেছিলেন গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মানের পিআইসিদের নামের বরাদ্দের ২২ লক্ষ টাকার কেনা কাটার হিসাব করার জন্য। বাকী টাকাটা প্রকল্পের পিআইসিদের মধ্যে বন্টন করার জন্য তাকে নিতে বলা হয়। জোর করে তাকে টাকা দেওয়া হয়নি। সে অফিস থেকে বের হয়ে বিভিন্ন নাটক করছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মান প্রকল্পের পিআইসি ও উমেদপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্যা বলেন, এ প্রকল্পের তিনি একজন পিআইসি। তার নামের বরাদ্দকৃত ২ লক্ষ টাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তোলন করে নিজেই মালামাল ক্রয় করেছেন। বাকী টাকা তিনি ফেরত দিতে চেয়েছেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *