সাঘাটায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সাঘাটায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গত কয়েক দিনের একটানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, বাঙালী আলাইসহ বিভিন্ন নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সেই সাথে নদী ভাঙনের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

এতে সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাসহ চরাঞ্চলগুলোতে পানি উঠতে শুরু করেছে। ফলে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ও অস্থায়ী নৌঘাটগুলো তলিয়ে গেছে। সাঘাটার ভরতখালী, ঘুড়িদহ, সাঘাটা, হলদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা বিগঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া ফসলী ক্ষেত তলিয়ে গেছে অনেক এলাকায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় সকল নদ নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনও প্রতিটি নদীর পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এই হারে অব্যাহত থাকলে বন্যারও আশংকা রয়েছে।

প্রতিবছর বর্ষায় নদী ফেঁপে ফুলে ওঠে। পানিতে থই থই করে নদী পাড়ের মানুষের বাড়ির আঙ্গিনা। পানি বাড়লেও ভাঙ্গন এবং কমলেও আরও তীব্রতা শুরু হয় ভাঙ্গনের। ভাঙ্গনে প্রতি বছর নদী গ্রাস করে শত শত একর জমি। ৪৪ বছরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র গিলে খেয়েছে প্রায় ৫০টি গ্রামের কয়েক হাজার একর আবাদি জমি। পানিতে ভেসে গেছে পূর্ব পুরুষদের কবর সহ অসংখ্য ঘর-বাড়ি। এরমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় স্থানীয় লোকজন নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল তারমধ্যে কয়েকটি স্থানে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করে। তবে এতে কোন কাজ হয়নি।সরকারী ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে সাঘাটার সামনে ব্লক ফেলে ভাঙ্গন কিছুটা রোধ হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ২১টি পয়েন্টের মধ্যে ৩টি পয়েন্টকে স্মরণকালের স্পর্শকাতর। একটি হলো ভরতখালী ইউনিয়নের বরমতাইরের ঠসাপাড়া, হলদিয়া সাবেক বাজার এলাকা ও অপরটি হলদিয়ার গোবিন্দপুর গ্রাম, বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ায় সদ্য রোপনকৃত ধানের চারা ও শাক-সবজির আবাদ নষ্ট হয়েছে। নদী ভাঙ্গন কবলিত লোকজন ইতিমধ্যে ওয়াবদা বাদ সহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *