ফেসবুকে ভুয়া আইডি চেনার উপায়

সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ভুয়া আইডি’র বিড়ম্বনা। অনেকেই এই ধরনের ভুয়া আইডি খুলে বিভিন্নজনের সাথে প্রতারণা করে থাকে। প্রেম-ভালোবাসা, টাকা-পয়সার লেনদেন থেকে শুরু করে কত ধরনের প্রতারণা যে এইসব ভুয়া আইডির মাধ্যমে করা হয় তার কোনো শেষ নেই। এই ভুয়া আইডির ভুক্তভোগীর সংখ্যা কিন্তু কম নয়। এইসব ভুয়া আইডি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেকের জীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। খুব সহজেই আমরা ফেসবুকের ভুয়া আইডি সনাক্ত করতে পারি। আসুন সে বিষয়ে জেনে নিই।

প্রোফাইল পিকচারঃ
ফেসবুকের ভুয়া প্রোফাইল সনাক্ত করার একটি কার্যকরী উপায় হলো প্রোফাইল পিকচার গুলো ভালো ভাবে দেখা। অধিকাংশ ফেক প্রোফাইলের ছবিতেই খুব সুন্দরী নারী অথবা হ্যান্ডসাম পুরুষের ছবি দেয়া থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই ছবির মান খুবই খারাপ থাকে। খুব বেশি প্রোফাইল ফটোও থাকে না এই ধরনের প্রোফাইলে। হাতে গোনা ১০/১২টা ছবির বেশি থাকে না প্রোফাইল পিকচার এ্যালবামে। এক্ষেত্রে ছবিটি গুগল ইমেজে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন ছবিটি আরো কোথাও পাওয়া যায় কিনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুগল ইমেজে সার্চ দিলে দেখা যায় পাকিস্থানি কিংবা তামিল নায়ক নায়িকাদের ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার বানানো হয়েছে।

ছবির এ্যালবামঃ
ফেসবুকের নকল প্রোফাইলে ছবির এ্যালবাম থাকে না সাধারণত। একটি আসল প্রোফাইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছবির এ্যালবাম থাকে যেগুলো নকল প্রোফাইলের ক্ষেত্রে থাকে না। এ্যালবাম থাকলেও নিজের ছবির বদলে ফুল, পাখি, প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি দিয়ে এ্যালবাম বানিয়ে রাখে ফেক প্রোফাইলধারীরা।
বন্ধুদের সাথে কমেন্ট আদান প্রদান

আসল ফেসবুক প্রোফাইলে স্বাভাবিক ভাবেই স্ট্যাটাস ও ছবিতে বন্ধুদের সাথে প্রচুর কমেন্ট আদান প্রদান করা হয়। কিন্তু নকল ফেসবুক প্রোফাইলে এধরনের কমেন্টের আদান প্রদান ও কথোপকথন থাকে না। নকল প্রোফাইলের ছবির নিচে কিংবা স্ট্যাটাসে কমেন্ট থাকলেও তা শুধু প্রশংসা বাক্যই থাকে। অন্য কোনো ধরনের বাক্যালাপ করা যায় না নকল প্রোফাইলে।

ফ্রেন্ড লিস্ট
ফেসবুকের ভুয়া প্রোফাইল সনাক্ত করতে চাইতে ফ্রেন্ড লিস্ট দেখুন। ফ্রেন্ড লিস্টে যদি অধিকাংশ মানুষই বিপরীত লিঙ্গের হয় তাহলে বুঝে নিন সেটা ফেক প্রোফাইল। কারণ একটি আসল প্রোফাইলে নিজের লিঙ্গ এবং বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু মধ্যে একটি সামঞ্জস্য থাকে।

বেসিক ইনফো
নকল প্রোফাইলে অধিকাংশ সময়েই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরীর তথ্য পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে এমন সব স্কুল কলেজের নাম দেয়া থাকে যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। আবার অনেক সময় অনেক ভালো স্কুল কলেজের নাম দেয়া থাকে কিন্তু কোনো ব্যাচমেটকে ট্যাগ করা থাকে না সেখানে। এমনকি কোন ব্যাচ ছিলো সেটাও লেখা থাকে না সেখানে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *