পীরগঞ্জে আনন্দ নগর পিকনিক স্পটে চলে জমজমাট দেহ ব্যবসা

পীরগঞ্জে আনন্দ নগর পিকনিক স্পটে চলে জমজমাট দেহ ব্যবসা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশ ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পিকনিক স্পর্ট আনন্দ নগর হেরেম খানা আবাসিক রুমগুলোতে রমরমা দেহ ব্যবসা। প্রকাশ্যে দিবালোকে এসব কর্মকান্ড চললেও যেন দেখার কেউ নেই। কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার নামে সকাল ৭টা থেকে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা আনন্দ নগরে ভীড় জমালেও দিনভর চলে প্রেমিক-প্রেমিকা, বয় ও গাল্ ফ্রেন্ডের সাথে দৈহিক মিলন মেলা। মনের দিক থেকে শ্রেণী ভেদে সর্বনিম্ন ৬-১২শ টাকা ১ থেকে ঘন্টার জন্য রুম ভাড়া নিয়ে থাকেন কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। মদনখালী ইউনিয়ন থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সাংসদ নূর মোহাম্মদ মন্ডল পিকনিক স্পর্ট গড়ে তোলেন। এদিকে দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশি অভিযান না থাকায় আনন্দ নগরের কর্মকর্তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে ওইসব যৌন কর্মীদেরকে নিয়ে সমাজের বিভিন্ন পেশায় জড়িত এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাতের বেলায় তারা রাতভর কক্ষ ভাড়া নিয়ে মধু চক্রের আসর বসে। শুধু তাই নয় এসব অসামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি চলে ইয়াবা সেবনসহ নানা মাদক দ্রব্য সেবনের মহোৎসব। এসব দেহ ব্যবসার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে বিভিন্ন মাদক ব্যবসা। দেহ ব্যবসার সাথে জড়িতরা স্কুল, কলেজের ছাত্রী, এক শ্রেণীর মধ্যবিত্ত ও উ”চ বিত্তের আধুনিক মেয়েরা। আবার অনেকে প্রেমে প্রতারিত হয়েও এ পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এসব দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত কতিপয় সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতারা। তাদের প্রত্যাক্ষ অথবা পরোক্ষ ইন্ধনে চলছে এসব অনৈতিক কর্মকান্ড। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় স্কুল কলেজের মেয়েরা সকালে কোচিং করার নামে বাসা অথবা মেস থেকে বেরিয়ে এ আনন্দ নগরে এসে তাদের বন্ধু বা প্রেমিকার সাথে দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়। ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। পরিচয় প্রকাশে অনি”ছুক একাধিক দেহ ব্যসার সাথে জড়িত মেয়েরা স্বীকার করেছেন প্রথমে তারা তার বন্ধুর সাথে দৈহিক মিলন ঘটনালেও ওই ছেলে বন্ধু কৌশলে মোবাইলে অন্তরাঙ্গ ছবি ধারন করে রাখেন। পরবর্তীতে তা প্রতারনার মাধ্যমে আনন্দ নগরের আবাসিক বয়দের দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্য মানুষদের সঙ্গি করতে বাধ্য করান। এ ক্ষেত্রে একশ্রেণীর পুরুষেরা বয়দের অধিক টাকা দিয়ে তারা ওই সব কিশোরী বা তরুনীদের সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হন। এসব মেয়ের বিশেষ করে শহরের বাইরের হওয়ায় অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। আবার অনেকে পরিবারের সম্মানের দিকে তাকিয়ে অনেক কিছু হজম করতে বাধ্য হন নাম প্রকাশ্যে অনি”ছুক যৌনকর্মী ছদ্দনাম সোনালী জানান। এসব কাজের সাথে জড়িতরা মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে তারা সময়মত সেখানে উপস্থিত থাকেন।এর আগে গত ২০১২ সালে তৎকালীন ওসি রওশন মোস্তফা আনন্দ নগরে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে১৭ জন নারী ও পুরুষকে গ্রেফতার করে মামলা করেন। যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।এব্যাপারে আনন্দ নগর আবাসিক রুমের ম্যানেজার মোস্তফা মিয়া জানান বৈধ লাইন্সের মাধ্যমে ব্যবসা করে আসছি। এ বিষয়ে রংপুর সহকারী পুলিশ সুপার মিঠাপুকুর পীরগঞ্জ দায়িত্বে নিয়জিত (ডি-সার্কেল) জাকারিয়া হোসেন জানান বিষয়টি খুবই উদিগ্ন। তবে খুব শীঘ্রই অভিযানের মাধ্যমে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করা হবে।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *