যশোর থেকে ২৮ যাত্রী নিয়ে কলকাতায় ছুটবে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস

যশোর থেকে ২৮ যাত্রী নিয়ে কলকাতায় ছুটবে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস

প্রথম দিনে খুলনা-কলকাতা রুটের ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যশোর রেলস্টেশন থেকে মাত্র ২৮ জন যাত্রী নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। গত এক সপ্তাহ আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ খুলনা-কলকাতা ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যশোর থেকে ২০০ টিকিট বরাদ্দ রাখে। তবে খুলনার ভাড়া দিয়েই বৃহস্পতিবার থেকে যশোরের যাত্রীরা যশোর থেকে টিকিট সংগ্রহ করে কলকাতা যাচ্ছেন। ট্রেনটি যশোরে রেলস্টেশনে তিন মিনিটের জন্য যাত্রা বিরতি করবে এবং যাত্রী উঠাবে।

প্রতি বৃহস্পতিবার বেলা ২টার সময় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি খুলনা থেকে যশোর স্টেশনে পৌঁছাবে।

এর আগে যশোরবাসীর যশোরে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ স্টপেজের দাবিতে রাজপথে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ রেলমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছিল। এর ফলে ৭ মার্চ থেকে যশোর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামার জন্য ট্রেনটি তিন মিনিটের জন্য থামবে। পহেলা মার্চ থেকে অনলাইন, মুঠোফোনে খুদে বার্তা ও সরাসরি স্টেশনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়।

যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার পুষ্পল কুমার চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ অঞ্চালের ভারতগামী যাত্রীদের দাবির ফলে মন্ত্রী কলকাতা-খুলনা বন্ধন একক্সপ্রেস ট্রেনটি যশোরে স্টপেজ কারার সিদ্ধান্ত দেন। এক পর্যায়ে গত বৃহস্পতিবারে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এ সংক্রান্ত স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠান আমার কাছে। চিঠিতে উল্লেখ্য করা হয়, ৭ মার্চ থেকে কলকাতা-খুলনা ট্রেন যশোর স্টেশনে তিন মিনিটের জন্য দাঁড়াবে। পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট দেখে যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানো হবে। বেনাপোল স্টেশনে নিয়ে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে যশোরের জন্য ২০০টি আসন বরাদ্দ থাকলেও গত এক সপ্তাহে মাত্র ২৮টি টিকিট বিক্রি হয়েছে।”

টিকিটের দাম কমানো হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কখনো সিদ্ধান্ত হলে সেটি আপনাদের মাধ্যমে যাত্রীরা জানতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর কলকাতা-খুলনার মধ্যে ৪৫৬ আসনের ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ নামের আন্তর্জাতিক ট্রেনটি চালু হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ ট্রেনে কেবিনে সিট ভাড়া দেড় হাজার ও চেয়ার কোচ ভাড়া এক হাজার টাকা। সঙ্গে ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর। বেনাপোলে যাত্রীর পাসপোর্ট, ভিসাসহ ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর যাত্রীরা সরাসরি খুলনা ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াত করতে পারে।

প্রতি বৃহস্পতিবার সকালে ট্রেনটি কলকাতা থেকে ছেড়ে আসে আবার বিকেলে খুলনা থেকে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। রেল সূত্র থেকে জানা যায়, শুরু থেকে গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এক বছর দুই মাসে এ ট্রেনে করে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন ১৫ হাজার ৫৭৯ জন যাত্রী। এর মধ্যে কলকাতা থেকে এসেছেন ছয় হাজার ৭৪৫ এবং খুলনা থেকে কলকাতায় গেছেন আট হাজার ৮৩৪ জন।

সূত্রটি আরো জানায়, এ ট্রেনে করে গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জনের মত যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে। প্রতিবার গমনে ট্রেনের অধিকাংশ আসন ফাঁকা পড়ে থাকে। অথচ গত এক বছরে বেনাপোল আন্তজার্তিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ১০ লাখেরও বেশি যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *